রঙের মান পরীক্ষায় জার্মানি সফর, বিছানার চাদর কিনতে নয় : পুলিশ | বাংলাদেশ | DW | 11.02.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

রঙের মান পরীক্ষায় জার্মানি সফর, বিছানার চাদর কিনতে নয় : পুলিশ

পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য বালিশের ডাবল কাভারসহ এক লাখ বিছানার চাদর কিনতেই কি আইজিপি-সহ তিন কর্মকর্তার জার্মানি সফর? এ নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র৷ এই সফর নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র৷

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ

এই মাসেই আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের জার্মানি সফরের কথা রয়েছে

‘ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্ট’ করতে কর্মকর্তারা জার্মানি সফরে যাচ্ছেন বলে পুলিশের মুখপাত্র, সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন৷ ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, দেশীয় ঠিকাদারের মাধ্যমে কেনা হলেও রং জার্মানি থেকে আসবে৷

জার্মানির যে প্রতিষ্ঠান থেকে এসব আনা হবে তার গ্রহণযোগ্যতা ও মান যাচাই করতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের জার্মানি যাওয়ার কথা রয়েছে এই মাসেই৷ তার দুই সফরসঙ্গী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন খালিফা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এসপি ও আইজিপির স্টাফ অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ আলম৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭ ফেব্রুয়ারি এই সফর নিয়ে আদেশ দেওয়ার পরই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে৷

পরিদর্শনের সব খরচ ‘আয়োজক’ নিজে দেবেন এবং বাংলাদেশ সরকারের এর সঙ্গে কোনো আর্থিক যোগ নেই, এ কথাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল ওই আদেশে৷ তবে এরপরই প্রশ্ন ওঠে পুলিশের জন্য বিছানার চাদর ‘কিনতে’ জার্মান সফর? 

জানানো হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে তারা জার্মানিতে যাবেন৷ জার্মানিতে মোট নয় দিন থাকার কথা রয়েছে তাদের৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপ-সচিব মাহবুবুল আলম মজুমদারের সই করা চিঠিতে তিন কর্মকর্তার সফরের কথা জানা গিয়েছে৷

বাংলাদেশের বস্ত্র ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ সারা পৃথিবীতে যায়৷ তাই জার্মানি থেকে বিছানার চাদর ‘কিনতে যাওয়ার’ কথা জেনে পোশাক রপ্তানিকারকরাও অবাক হয়েছিলেন৷

বাংলাদেশ টেরিটাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সোহেলের বক্তব্য, ‘‘জার্মান চ্যান্সেলরও আমাদের তৈরি বিছানার চাদরে ঘুমান, খোঁজ নিলে জানা যাবে এমনটাই৷’’

তার কথায়, আলদি থেকে শুরু করে জার্মানির সব সুপারমার্কেটে বাংলাদেশে তৈরির কাপড়জামা বিক্রি হয়৷ জার্মানির যে কোনো বড় দোকানে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ জিনিসপত্র মেলে৷ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য সারা ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যায়৷ টপ ব্র্যান্ডগুলো তাদের জিনিস বিক্রি করে৷

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজির দাবি, জার্মানি থেকে কেনার বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে৷ তিনি জানান, এক লাখ বিছানার চাদর ও বালিশের কাভারের বরাত পেয়েছে বাংলাদেশের একটি সংস্থা৷ গত অক্টোবরে টেন্ডারের সময় বলা হয়েছিল, ডাই (রং) হিসেবে তারা ‘ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড কেমিকেল’ ব্যবহার করবে৷ দেশীয় সেই সংস্থা রং নেবে জার্মানির সংস্থার থেকে৷ ‘ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্ট’ চলমান প্রক্রিয়া৷ তাই আইজিপি মহোদয় জার্মানি যাবেন৷

শাহাদাত হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, জার্মানি বা ইউরোপ থেকে রং আনা হয়৷এই অর্ডারের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু হচ্ছে হয়তো৷ তবে সেক্ষেত্রে সরকারি চিঠির (আদেশের) ভাষাটা কেন ওরকম- তা তিনি জানেন না৷

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি যদিও স্পষ্ট করেন, সফরের খরচ বহন করছে দেশীয় ঠিকাদার সংস্থা৷ পরিদর্শন দলের সঙ্গে ঠিকাদার কোম্পানির বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন৷ পুলিশের সাধারণ সদস্যরাই এসব বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার ব্যবহার করবেন৷

আরকেসি/এসিবি  (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

২০২০ সালের ডিসেম্বরের ছবিঘরটি দেখুুন...