রক্তাক্ত কাশ্মীর, বিজেপি সরকারের নীতি কতটা দায়ী? | বিশ্ব | DW | 07.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

কাশ্মীর

রক্তাক্ত কাশ্মীর, বিজেপি সরকারের নীতি কতটা দায়ী?

গতকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং সংঘর্ষ৷ কাশ্মীর উপত্যকায় হরতালের ডাক দেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি৷ এজন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নীতি কতটা দায়ী?

গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী এবং কাশ্মীরি ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হচ্ছে৷ গত রবিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ান এবং অনন্তনাগে নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক অভিযানে ১৩ জন জঙ্গি এবং চারজন অসামরিক ব্যক্তি নিহত হবার প্রতিবাদে ছাত্র যুবকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা উপত্যকা৷

১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা এই প্রতিবাদে অংশ নেয়৷ ভারত-বিরোধী স্লোগান দেয়৷ কাশ্মীরে ভারতের সার্বভৌম ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে৷ জঙ্গিদের সমর্থনে আওয়াজ তোলে৷

পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি শুরু করে৷ কয়েকজন পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পদস্থ অফিসার আহত হন৷ জ্বালিয়ে দেয়া হয় একটি পুলিশ পিকেট৷

অডিও শুনুন 01:06

‘সামগ্রিকভাবে কাশ্মীরি জনগণ বেশ বিভ্রান্ত’

প্রতিবাদ মিছিল করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন স্বাধীনতাকামী সংগঠন জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ) নেতা ইয়াসিন মালিক৷ হুরিয়াত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি ও মিরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দি করা হয়৷

হরতাল ডাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি৷ গোলমালের আশংকায় শ্রীনগর, শোপিয়ান ও অনন্তনাগে দোকান বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করে রাজ্য প্রশাসন৷ এক কথায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন৷

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছররা গুলি চালায়৷ তাতে কয়েকজন ছাত্র আহত হন৷

জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং বলেন যে, মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হবার পরে কাশ্মীরের বহু স্থানীয় যুবক এবং ছাত্র জঙ্গি সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হন৷ অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন বিরোধী নেতা ন্যাশনাল কনফারেন্সের ওমর আবদুল্লা৷ তাঁর মতে, কাশ্মীরি তরুণ সম্প্রদায় যেভাবে জঙ্গিদলের দিকে ঝুঁকছে, সেই স্রোত রুখতে না পারাটা মেহবুবা মুফতির নীতির চরম ব্যর্থতা৷

অডিও শুনুন 02:45

‘বর্তমান বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উগ্র-জাতীয়তাবাদী’

এক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতির জন্য মোদী সরকার কতটা দায়ী ? এর উত্তরে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বললেন যে, কাশ্মীর সমস্যাটা ঐতিহাসিকভাবে চলে এসেছে৷ ফলে এর সমাধানে রয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি৷ ‘‘বর্তমান বিজেপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উগ্র-জাতীয়তাবাদী৷ তার একটা প্রভাব পড়েছে জঙ্গিপনা এবং পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণার মানসিকতায়৷ দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের কাছে সবারই একটা প্রত্যাশা থাকে৷ সেটা পূরণ না হওয়ার ফলে রাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ বাড়তে থাকে৷'' বলছিলেন তিনি৷

তাঁর মতে, কাশ্মীর সমস্যার আরেকটা দিক হলো, সংবিধানের ৩৭০নং অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কিনা, সে বিতর্ক৷ কারণ, ভারতীয় সংবিধান এত নমনীয় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে তা করা যায়৷

কাশ্মীরি ছাত্র ও যুবকদের জঙ্গিদলে নাম লেখাবার পেছনে রাজনৈতিক তথা সামাজিক অবক্ষয় কাজ করছে৷ শুধু কাশ্মীরে নয়, সর্বত্রই অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে অত্যন্ত হিংসাত্মকভাবে৷ বাজপেয়ির সময়ে একটা বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ছিল, মোদীর জমানায় এখন সেটা নেই, এমনটাই মনে করেন অধ্যাপক চট্টোপাধ্যায়৷

‘‘কাশ্মীরে মোদীর বিজেপি নীতি যে কাজ করছে না, তার প্রমাণ কাশ্মীরি যুবক ও ছাত্ররা ক্রমশই জঙ্গিদের সংগে হাত মেলাচ্ছে৷ তাঁদের বিশ্বাস ফিরে পাওয়া দূর অস্ত৷ সেটা বুঝতে পারছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন৷ এছাড়া, জম্মু-কাশ্মীর গঠিত হয়েছে দুই বিপরীত রাজনৈতিক শক্তির জোট সরকার, অর্থাৎ বিজেপি ও পিডিপির জোট৷ বিজেপি জিতে এসেছে হিন্দু প্রধান জম্মু থেকে, এবং পিডিপি জিতে এসেছে মুসলিম প্রধান কাশ্মীর উপত্যকা থেকে৷ উভয় দলই পৃথক পৃথক এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছে৷ এতে সামগ্রিকভাবে কাশ্মীরি জনগণ বেশ বিভ্রান্ত৷ তারা মনে করছেন, দু'টি বিরুদ্ধ শক্তির জোট-সরকার তাদের রাজনৈতিক আশা আকাংখা পূরণ করতে অক্ষম৷'' বলেন তিনি৷ 

২০১৪ সালে বিজেপির নির্বাচনি ইশতেহারে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের সংহতি আরও নিবিড় করার কথা বলা হয়৷ সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর বিজেপি এবং মৌলবাদী হিন্দু সংঘ-পরিবার সংবিধানের ৩৭০নং অনুচ্ছেদ রদ করার উদ্যোগ নেয়৷

কিন্তু ২০১৫ সালে জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্ট এই মর্মে রায় দেন যে, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০নং অনুচ্ছেদ রদ করা যাবে না, বিলোপ করা যাবে না, এমন কি সংশোধনও করা যাবে না৷ ভারতের সুপ্রীম কোর্টও এ বছরের ৩রা এপ্রিল অনুরুপ এক রায়ে বলেন, ৩৭০নং অনুচ্ছেদ এক স্থায়ী সংস্থানে পরিণত হয়েছে৷ যেহেতু গণপরিষদ (কন্সটিটিউয়েন্ট অ্যাসেমব্লি) আর নেই, তাই ৩৭০নং অনুচ্ছেদ রদ করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিরও নেই৷

 পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদীর আগে অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ছিল৷ তখন পরিস্থিতির এতটা অবনতি হয়নি৷ কেননা, সবাই জানে কাশ্মীরের অশান্তির পেছনে পাকিস্তানের বড় ভূমিকা আছে৷ তাই বাজপেয়ি সরকার চেষ্টা কোরে গেছেন পাকিস্তানকে নরমে গরমে বশে রাখতে, যেটা মোদী করছেন না৷ পাকিস্তানকে যেনতেন প্রকারে শায়েস্তা করতেই তিনি বেশি আগ্রহী৷ আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ৷

কী বলা হয়েছে ৩৭০নং অনুচ্ছেদে ? এতে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দেয়া হয়েছে এক বিশেষ মর্যাদা৷ সর্বভারতীয় সব আইন রাজ্যে প্রযোজ্য হবে না৷ বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ছাড়া কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া হবে৷

আপনার কোনো মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন