রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে শাকসবজি ও ফলমূল | অন্বেষণ | DW | 25.05.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে শাকসবজি ও ফলমূল

অনেক শাকসবজি ও ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী জেনেও অনেকে সে সব থেকে দূরে থাকেন৷ অথচ উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে বিট, তরমুজ ও রসুনকে ওষুধ হিসেবে প্রয়োগ করছেন বিজ্ঞানীরা৷

রসুন, বিট নাকি তরমুজ? বিশেষ ধরনের কোনো খাদ্য কি রক্তচাপ কমাতে পারে? চিকিৎসাবিদ্যার তথ্যভাণ্ডারে এ বিষয়ে অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার দৃষ্টান্ত রয়েছে৷ বাস্তবে সত্যি অনেক গবেষণায় রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন খাদ্যের প্রভাব খতিয়ে দেখা হয়েছে৷ প্রত্যেকটি গবেষণার মূলমন্ত্র একই রকম৷

যেমন বিটের রস নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবীরা সেই পরীক্ষায় সহায়তা করেছেন৷ সবার আগে অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নথিভুক্ত করা হয়েছে৷ যেমন বডি ফ্যাট, রক্তচাপের ঊর্দ্ধ ও নিম্নসীমা ইত্যাদি৷ এভাবে পরীক্ষার পরে যে কোনো পরিবর্তন স্পষ্ট দেখা সম্ভব৷

বিটের রস গবেষকদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়৷ বিটের মধ্যে প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নাইট্রেট অর্থাৎ এনওথ্রি রয়েছে, যা রক্তচাপের উপর প্রভাব রাখতে পারে৷ ঠিক এই পদার্থই বিটের রসের দ্বিতীয় এক নমুনা থেকে সরিয়ে নিয়ে সেই রসকে প্লাসিবো হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল৷

৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিট, তরমুজ ও রসুন নিয়ে এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ প্রতিবার একই ফল পাওয়া গেছে৷ দেখা গেছে, তিনটি খাদ্যই সত্যি রক্তচাপ কমাতে পারে৷ কিন্তু এমন আশ্চর্যজনক প্রভাবের কথা বেশি মানুষ জানে না৷ সে কারণে এক পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল৷

রক্তচাপ কমাতে পারে, এমন খাদ্য ওষুধের বিকল্প হতে পারে কিনা, প্রোফেসর আখিম বুব সে বিষয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘খাদ্যকেই চিকিৎসার হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করা অবশ্যই অসাধারণ৷ অর্থাৎ, আপনি এটাকে খাদ্য থেরাপি বলতে পারেন৷ এবং সেটা সত্যি কাজ করে৷ অবশ্যই ওষুধের মতো মাত্রায় সেটা সম্ভব নয়৷ বরং ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হয়৷ এমন একাধিক ছোট পদক্ষেপ একসঙ্গে করলে একটা বড় পদক্ষেপের আকার নিতে পারে৷''

কিন্তু বিট ঠিক কীভাবে খাওয়া উচিত? কারণ বিটের মধ্যের নাইট্রেটই তো আসলে উপকারের উৎস৷ তাহলে কি নির্যাসই সবচেয়ে সহজ সমাধানসূত্র? প্রো. বুবের মতে, ‘‘বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদার্থের বদলে গোটা খাদ্য খাওয়াই উচিত৷ কারণ খাদ্যের জটিল গঠনের মধ্যে আরও অনেক উপকারী উপাদান থাকে, যা শরীরকে বাড়তি শক্তি দেয়৷''

পরীক্ষার আওতায় প্রতিদিন গোটা একটা তরমুজ, বেশ কয়েকটি রসুনের কোয়া অথবা অর্ধেক লিটার বিটের রস খাইয়ে সত্যি রক্তচাপ কমানো সম্ভব হয়েছে৷ কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত এমন পরিমাণ শাকসবজি বা ফলমূল খাওয়া কি সত্যি সম্ভব? প্রো. আখিম বুব বলেন, ‘‘আমার পক্ষে প্রতিদিন এক, দুই বা তিন লিটার বিটের রস খাওয়া সম্ভব নয়৷ কাউকে সেটা করতেও বলতে পারি না৷ তার থেকে উদ্ভিদজাত খাদ্যের বৈচিত্র্য গ্রহণ করা অনেক ভালো৷ এভাবে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত৷ এর মাধ্যমে নিজের ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় আনতে পারলে উচ্চ রক্তচাপের কারণও দূর করা যাবে৷''

৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রক্তের উচ্চচাপের রোগীর অতিরিক্ত ওজনেরও সমস্যা রয়েছে৷ খাদ্যাভ্যাসের আমূল পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে উপকার বয়ে আনতে পারে৷

ইয়োর্গ ভল্ফ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক