রং কর্মদক্ষতাসহ অনেক কিছু বদলে দিতে পারে | অন্বেষণ | DW | 22.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

রং কর্মদক্ষতাসহ অনেক কিছু বদলে দিতে পারে

রং, আলো, উত্তাপ, পরিবেশ, আবেগ – এ সবের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই৷ কিন্তু তার মাত্রা পরিমাপ করা সহজ নয়৷ তবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়ে আরও কিছু জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হয়েছে৷

কড়া স্যাচুরেশন ও তীব্র রংয়ের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে৷ সে ক্ষেত্রে ত্বকের কন্ডাকটিভিটি বেড়ে যায়, উত্তেজনা ও উদ্দীপনাবোধও বাড়ে৷ এর কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত শুধু অনুমান করতে পারেন৷ মনস্তাত্ত্বিক হিসেবে ড. ডানিয়েল ওবারফেল্ড-ট্ভিস্টেল মনে করেন, ‘‘বলা যায়, স্বাভাবিক পরিবেশে স্যাচুরেটেড রং অত্যন্ত বিরল৷ সে কারণেই সম্ভবত সেটি বেশি চোখে পড়ে, বিশেষ অর্থ বহন করে৷

''কড়া স্যাচুরেটেড রংয়ের মধ্যেও লাল রংয়ের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে৷ লাল রং বিপদ অথবা গভীর আবেগের প্রতীক হওয়ায় সম্ভবত দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে মনে হয়৷ ড. ওবারফেল্ড-ট্ভিস্টেল বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে মানুষের মুখচ্ছবির রংয়ের পরিবর্তনের কথা ভাবা উচিত৷ শারীরিক স্পর্শ টের পেলে, মনে ভীষণ ক্রোধ জাগলে অথবা যৌন বোধের মতো কোনো এক পরিস্থিতিতে আমরা উত্তেজিত বা উদ্দীপ্ত হই৷ লাল রং দেখলে হয়তো এমন পরিস্থিতির কথা মনে পড়ে যায় এবং সেই অনুযায়ী উত্তেজনা ফিরে আসে৷''

রং আমাদের কর্মদক্ষতার উপর প্রভাব ফেলে কিনা, তৃতীয় পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানার চেষ্টা চলছে৷

উৎপাদকদের দাবি, আমাদের উপর এই রংগুলির সরাসরি প্রভাব রয়েছে৷ গোলাপী রং নাকি আমাদের শান্ত করে এবং নীল রং নাকি একগ্রতা বাড়ায়৷ লাল রং আমাদের সক্রিয় করে তোলে৷ নিরপেক্ষ সাদা রং অনেকটা মানদণ্ডের একক হিসেবে কাজ করে৷

এই পরীক্ষার আওতায় স্পেস বা স্থান সম্পর্কে ধারণা, স্মৃতিশক্তি এবং যৌক্তিক ভাবনাচিন্তার ক্ষমতার ভিত্তিতে সব মিলিয়ে ১৭০ জন তরুণ-তরুণীকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে৷

তাঁরা কি ভালোভাবে, নিশ্চিন্ত মনে, একগ্রতার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন?

একজন তা পারেন নি৷ আরেকজনের মতে, রং খুব আরামদায়ক হলেও তিনি কোনো পরিবর্তন টের পান নি৷ কেউ বা কিছুই টের পান নি৷ সেটাই হলো ঘটনা৷ মূল্যায়নের ফলাফল অনুযায়ী কোনো রংই পরীক্ষার ফলাফলের উপর নেতিবাচক বা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে নি৷ অর্থাৎ এই পরীক্ষায় রংয়ের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর কোনো লক্ষণ পাওয়া যায় নি৷

উত্তাপ সংক্রান্ত পরীক্ষার ফলাফল কী বলে? দুই দলই ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে উষ্ণ মনে করেছেন৷ ২২ ডিগ্রির মাথায় প্রায় সবাই শীতে কাঁপতে শুরু করে সোয়েটার পরে নিয়েছেন৷ উত্তাপ আরও কমলে অপ্রত্যাশিত একটি বিষয় চোখে পড়েছে৷ নীলাভ আলোর নীচে যে দল ছিল, সোয়েটার পরেও তাঁদের কাঁপুনি থামে নি৷ লালচে আলোর নীচে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ সোয়েটারের উপর একটি জ্যাকেট চাপিয়েছেন৷ নীলাভ আলোর দলে প্রায় ৬০ শতাংশ সেই কাজ করেছিলেন৷

অর্থাৎ ‘ঠাণ্ডা' ও ‘গরম' আলোর ক্ষেত্রে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি কিছু সত্য বটে৷ ড, ক্রিস্টফ ভিৎসেল মনে করেন, ‘‘একবার ভেবে দেখুন, আপনি সরাসরি সূর্যের আলোর নীচে রয়েছেন৷ সেই আলোও কিন্তু আরও লালচে, হলদেটে৷ ছায়ায় বা মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নীচে থাকলে হালকা নীলাভ আলো থাকে৷ সে ক্ষেত্রে তাপমাত্রা আরও শীতল৷ আমার ধারণা, মানুষ তার জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আলোর রং সম্পর্কে ধারণা অর্জন করে, তাপমাত্রার সঙ্গে পরিস্থিতির সংযোগ ভেবে নেয়৷''

এর অর্থ, আমরা অবচেতন মনে ‘উষ্ণ চিন্তা' করে থাকি৷ এখনো অনেক বিষয়ে গবেষণা বাকি রয়েছে৷ কিন্তু আমাদের উপর রংয়ের যে প্রভাব রয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ কখনো সচেতনভাবে, কখনো অবচেতন মনে৷

আনা গালনস্কা/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন