রং আর রেকর্ডে ভরপুর এক বিশ্বকাপ | আলাপ | DW | 16.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ফুটবল

রং আর রেকর্ডে ভরপুর এক বিশ্বকাপ

শেষ হয়ে গেল আরও একটি বিশ্বকাপ! আবার চার বছরের অপেক্ষা৷ এই হাটে আনাগোনা বন্ধ হলো৷ চলছে লেনাদেনা মিটিয়ে নেওয়ার হিসাব৷ এর মধ্যেই এবারের বিশ্বকাপ একটু অন্য রকম কী কী খবর দিয়ে গেল, সেটাই পৃষ্ঠা উলটে দেখেছেন রাজীব হাসান৷

বিশ্বকাপের শুরুতেই স্প্যানিশ-কম্পন

স্পেন এবারের বিশ্বকাপে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিতে এসেছিল৷ কিন্তু নিজেদের ম্যাচ শুরুর প্রায় আগমুহূর্তে সুখের সংসার তছনছ হয়ে গেল৷ একটা খবর, বলা ভালো, একটা টর্নেডো ধেয়ে আসায়৷ রেয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে নাম ঘোষণা করল ইউলেন লোপেটেগুইর৷ আর সেটাই হুল হয়ে বিঁধল স্পেন ফুটবল ফেডারেশনকে৷ লোপেটেগুইর সঙ্গে স্পেনের চুক্তি ছিল ২০২২ পর্যন্ত৷ কিন্তু জিনেদিন জিদানের বিদায়ের পর রেয়াল গোপনে চুক্তি করে রাখে এই কোচের সঙ্গে৷ বিশ্বকাপের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা ছিল৷ ভেতরের খবর ফাঁস হয়ে যাচ্ছে দেখে রেয়াল তড়িঘড়ি করে জানিয়ে দেয় নতুন কোচের নাম৷ তাতেও বিস্ময়ের ভূমিকম্প ঠেকানো যায়নি৷ তবে প্রতিক্রিয়ায় স্পেন ফুটবল ফেডারেশন যা করে, সেটি আরও চমকে দেয়৷ নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগমুহূর্তে ছাঁটাই করে কোচকে! ভারপ্রাপ্ত কোচ হিয়েরো দলের ভার বয়ে নিতে পারেননি৷ স্পেন বাদ পড়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে৷

আর্জেন্টিনা শিবিরে বিদ্রোহ

বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে কোচ হারানো বিরল ঘটনা৷ আরও বিরল ঘটনার জন্ম দিতে চলেছিল আর্জেন্টিনা৷ বিশ্বকাপের মধ্যেই ছাঁটাই হতে পারতেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি৷ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল দলের ভেতরে৷ কোচ সাম্পাওলির ফুটবলীয় জ্যামিতি নাকি পিথাগোরাসের উপপাদ্যের চেয়েও জটিল ঠেকছিল মেসি-আগুয়েরোদের মতো ভালো ছাত্রদের কাছেও৷ সাম্পাওলিকে হটিয়ে বিশ্বকাপের মধ্যেই তাঁরা কোচ হিসেবে চাইছিলেন বুরুচাগাকে৷ শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রধানের মধ্যস্থতায় সাময়িক শান্তি ফিরে আসে৷ যদিও এই খবর তখন রটে যায়, খেলোয়াড়রা নাকি নিজেরাই নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ঠিক করেছেন৷ কোচের কথা কেউ শুনবেন না৷ নাটকীয়ভাবে জিতে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করা নাইজেরিয়া ম্যাচে এর কিছু নজির দেখাও যাচ্ছিল৷ কোচ সাম্পাওলি নাকি আগুয়েরোকে নামানো হবে কিনা, এই সিদ্ধান্তও এক সময় মেসির কাছে চেয়েছেন!

মেসির পায়ে ‌‘তাবিজ'

গর্বিত, তৃপ্ত ভঙ্গিতে মিক্সড জোন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মেসি৷ এক আর্জেন্টাইন সাংবাদিকের ডাকে ঘুরে দাঁড়ালেন৷ সাংবাদিক আর্জেন্টাইন স্প্যানিশ ভাষায় কী যেন জানতে চাইলেন৷ মেসি তাঁর পায়ের মোজা তুলে দেখালেন৷ লাল রঙের কিছু একটা! কী সেটা? মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে বান ডাকলো এক তথ্য৷ নাইজেরিয়া ম্যাচের আগে ওই সাংবাদিক মেসিকে ডেকে হাতে তুলে দিয়েছিলেন তাঁর মায়ের দেওয়া লাল ফিতেমতোন কিছু একটা৷ এটি পরলে মেসিকে তাড়া করা সব অশুভ, অমঙ্গল ছায়া কাছে ঘেঁষতে পারবে না৷ সাংবাদিক নিজে বিশ্বাস করতে পারেননি, মেসি সেটি পরবেন৷ নাইজেরিয়া ম্যাচে দুর্দান্ত গোল করা, রোহোর নাটকীয় গোলে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার পর মিক্সড জোনে ওই সাংবাদিক জানতে চান, মেসি লাল ফিতেটা কি সঙ্গে রেখেছিলেন? মেসি তখন দেখান, লাল সেই ফিতে বাঁধা আছে পায়ে! আর্জেন্টিনা অবশ্য দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা পেরোতে পারেনি৷ ফ্রান্সের কাছে হেরেছে ৪-৩ গোলে৷

ভিডিও দেখুন 02:49
এখন লাইভ
02:49 মিনিট

জার্মানির এ কেমন পরাজয়!

চুমুর হিড়িক

‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ'....না জেমস বন্ড ছিলেন না৷ তবে বন্ডের অতি রোম্যান্টিক সত্তা বেশ ঘুরঘুর করছিল এবারের রাশিয়ায়৷ চুমুর রোগে পেয়ে বসেছিল যেন অনেককে৷ অন্তত তিনজন নারী সাংবাদিক লাইভে থাকার সময় চুমু-বিড়ম্বনার শিকার হন৷ ডয়চে ভেলের এক নারী সাংবাদিকও হন একই ঘটনার শিকার৷ স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল ‘মিডিয়াসেট'-এর প্রতিবেদক মারিয়া গোমেজ মস্কো থেকে সরাসরি প্রতিবেদন পাঠাচ্ছিলেন৷ মাইক্রোফোনে কথা বলার সময় এক পুরুষ সমর্থক এসে তাঁর গালে চুমু বসিয়েই ভোঁ-দৌড় দেন৷ কলম্বিয়া-সুইডেন ম্যাচে সুইডিশ সংবাদকর্মী মাহলিন হোলবার্গও একই ঘটনার শিকার হন৷ কলম্বিয়ান সংবাদকর্মী জুলিয়েথ গঞ্জালেস অভিযোগ করেন, এক সমর্থক যৌন হয়রানি করেছে তাঁকে৷ ব্রাজিলের সংবাদকর্মী হুলিয়া গুইলমারায়েস সতর্ক ছিলেন বলে বেঁচে যান৷ শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে চুমু শিকারি সমর্থককে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন৷ বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া এবং ফিফা খুবই বিব্রত ছিল৷ এভাবে নারী সাংবাদিকদের কেন যৌন নিপীড়ন করা হচ্ছে, এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, সেই সময় জিওন জিওয়াং রিওল নামের দক্ষিণ কোরিয়ান সাংবাদিককে লাইভে চুমু খেয়ে বসেন এক নারী সমর্থক! পুরুষ সংবাদকর্মীরাও বাদ যাবেন কেন! 

অভিনেতা মারাদোনা!

মাঠে নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত৷ খেলা ছাড়ার পরও আর্জেন্টিনা দলটার ছায়াসঙ্গী হয়ে আছেন নেতার মতোই৷ এবারও গ্যালারিতে সীমাহীন আবেগ ছড়িয়ে আলোচনায় এসেছেন দিয়েগো মারাদোনা৷ তিনি এই হাসেন তো এই কাঁদেন৷ কখনো উত্তেজনায় শিশুদের মতো লম্ফঝম্প করেন, কখনো মেসিদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো না হলে ভীষণ বিরক্ত হন৷ নাইজেরিয়া ম্যাচের দিন মেসির গোলের পর তো উত্তেজনায় প্রায় রেলিং ভেঙে লাফিয়েই পড়তে বসেছিলেন৷ কোনোমতে তাঁকে ধরে রেখেছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা৷

ম্যাচের মধ্যেই মারাদোনার রক্তচাপ পরীক্ষা করতে দেখা গেছে৷ স্নায়ুক্ষরা সেই ম্যাচের পর তাঁকে হাসপাতালেও নিতে হয়েছে৷ এর মধ্যে কোনো এক সংবাদমাধ্যম তাঁর মৃত্যুসংবাদও ছড়িয়ে দিল; মারাদোনা নিজে সেই সাংবাদিককে খুঁজলেন পুরস্কার দেবেন বলে! এই তো দিয়েগো মারাদোনা৷ তবে তাঁর এমন উচ্ছ্বাস যতই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাক, ঢের বিতর্কের জন্মও দিয়েছে৷ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম প্রথমে জানায়, প্রতিটি ম্যাচ দেখতে ফিফা তাঁকে সম্মানী দিচ্ছে ১০ হাজার পাউন্ড৷ এই টাকা নিয়ে মারাদোনা ধূমপানমুক্ত গ্যালারিতে বসে সিগারেট টেনেছেন৷ অশ্লীলভাবে দেখিয়েছেন দুই হাতের মধ্যাঙ্গুলি৷ শুধু তা-ই নয়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দাবি করে, রাশিয়া বিশ্বকাপে মারাদোনা গ্যালারিতে যা করছেন, সবই তাঁকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র শুটিংয়ের অংশ! নেতা মারাদোনা সেখানে অভিনেতা মাত্র!

বিশ্বকাপেও রাজনীতি

‘খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশাবেন না' তত্ত্ব খাটেনি রাশিয়া বিশ্বকাপে৷ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ব্রিটেন ও রাশিয়ার সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়৷ কূটনৈতিকভাবে রাশিয়া বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা দেয় ইংল্যান্ড৷ ব্রিটেনের রাজপরিবারের কোনো সদস্য বা মন্ত্রী-সাংসদদের কেউ রাশিয়া যাবেন না বলে ঘোষণা করা হয়৷ অবশ্য ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠে গেলে এই প্রতিজ্ঞায় তারা অটল থাকতে পারত কি না, তা নিশ্চিত নয়৷

ওদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সৌদি আরব ও কাতারের মধ্যে বিশ্বকাপের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে টিভি সম্প্রচার নিয়ে আরেক যুদ্ধ৷ কাতারকে অবরোধ করে রেখেছিল সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো৷ এ কারণে দেশটিকে কম ভোগান্তি পোহাতে হয়নি৷ বিশ্বকাপে কাতার নিয়েছিল পাল্টা পদক্ষেপ৷ এই অঞ্চলে বিশ্বকাপের খেলা দেখানোর একমাত্র স্বত্ব ছিল কাতারের বিইন স্পোর্টসের৷ তারা ঠিক করে, সৌদি আরবকে কোনো ফিড দেওয়া হবে না! যদিও সৌদি আরবের মানুষ ঠিকই বিশ্বকাপ দেখেছে, তবে তা অবৈধভাবে৷ বিষয়টি নিয়ে কাতার ফিফা ও উয়েফাকে পর্যন্ত টেনে এনেছিল৷ 

বিশ্বরাজনীতির আরও দুই যুযুধান দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াইটা ছিল অন্য৷ ইরান দলের ক্রীড়াসরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্ব ছিল নাইকির৷ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুদিন আগে ইরানকে জানিয়ে দেয়, ‘অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা'র কারণে তারা খেলোয়াড়দের বুট সরবরাহ করতে পারবে না৷ বাধ্য হয়ে ইরান রাশিয়ায় পৌঁছে স্থানীয় দোকান থেকে বুট কিনে খেলেছে৷

সার্বিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর জাতীয়তাবাদী উদযাপন করেছিলেন সুইস তারকা জেরদান শাকিরি৷ সার্বিয়ার বিপক্ষে নিজের জন্মভূমি কসোভোর রক্তাক্ত অতীতকে ইঙ্গিত করা সেই উদযাপনে ফিফার তোপের মুখে পড়েছেন তিনি৷ দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধও হতে হয় শাকিরিকে৷ রাশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের পর ক্রোয়েশিয়া দলের ক'জন জয়টি ইউক্রেনকে উৎসর্গ করে, যা খেপিয়ে দিয়েছিল রাশিয়াকে৷

ভাঁজে জমে থাকা রাজনীতির এই উত্তাপের প্রতীকী ছবি ছিল যেন উদ্বোধনী ম্যাচ৷ একপাশে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, অন্যপাশে রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন৷ মাঝখানে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো! অবশ্য ইনফান্তিনোকে আরও অনেক ম্যাচে বাফার স্টেটের ভূমিকা নিতে হয়েছে৷ রাশিয়ায় কম রাষ্ট্রপ্রধান তো যাননি৷ পুরুষ রাষ্ট্রপ্রধানদের ভিড়ে আলাদা দ্যুতি ছড়িয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ অনেককে চমকে দিয়ে ফাইনালে চলে যাওয়া ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট  কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ ছিলেন শেষ পর্যন্ত আলোচনায়৷

নেইমারের গড়াগড়ি

নেইমার ছেলেটা তো বেশ পড়ুয়া৷ শুধু পড়ে আর পড়ে! ব্রাজিল তারকাকে নিয়ে এভাবেই সামাজিক মাধ্যমে ট্রল হয়েছে এবার৷ বানানো হয়েছে মিমের পর মিম৷ নেইমারকে অনুকরণ করে মাটিতে পড়ে যাওয়ার একের পর এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ এমনকি এ নিয়ে এক ফাস্ট ফুড চেইন পর্যন্ত ভিডিও বানিয়ে মুফতে প্রচার কামিয়ে নিয়েছে৷ এর রেশ শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছিল এমনকি উইম্বলডনেও! একটুতেই মাটিতে পড়ে যাওয়া, তীব্র যন্ত্রণায় কাতরানোর অভিনয়, ডাইভ দিয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা....এ সব কারণে নেইমারের তীব্র সমালোচনা হয়েছে৷ এ খোঁচাও শুনতে হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের অর্জন দু’টি গোল আর তিনটি হেয়ারস্টাইল৷ বিশ্বকাপের আগে যে আলোচনায় ছিল নেইমারের ‘নুডলস চুল'ও৷

এমন হিসাবও বের হয়ে গেল, পুরো বিশ্বকাপে নেইমার প্রায় ১৫ মিনিট মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছেন! সেরা দল নিয়েও ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়ায় নেইমারের ওপর ঝাল ঝেড়েছে ব্রাজিল সমর্থকেরাও৷ তবে নেইমারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দুই ব্রাজিলের সাবেক তারকা কাফু ও রোনাল্ডো৷ কাফু বলেছেন, নেইমার শুধু মাঠে ওই মুহূর্তগুলোর জন্ম দেননি, খেলেছেনও দুর্দান্ত৷ পারেননি, এ তাঁর একার ব্যর্থতা নয়৷ নেইমারকে শুধু ৩০ মিনিট দিয়ে বিবেচনা করা যাবে না৷ আর দ্য ‘ফেনোমেনন' রোনাল্ডো মনে করিয়ে দিয়েছেন, নেইমার এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হওয়া খেলোয়াড় ছিলেন৷ কড়া ট্যাকল থেকে বাঁচার জন্যও নেইমার এমনটা করেন বলেও মন্তব্য করেছেন রোনাল্ডো৷

চ্যাম্পিয়নদের অভিশাপ

পোজ্জো হতে পারবেন ল্যোভ? বিশ্বকাপের আগে এমন জিজ্ঞাসা বেরিয়ে এসেছিল বিশ্লেষকদের কলমে৷ টানা দুই বিশ্বকাপ জেতার একমাত্র কীর্তি আছে ইটালিয়ান কোচ ভিতোরিও পোজ্জোর৷ এবার সেই কীর্তির সামনে ছিলেন ইয়াওখিম ল্যোভ৷ দুর্দান্ত একটা দল নিয়ে জার্মানি গিয়েছিল বিশ্বকাপে৷ অথচ প্রতিভায় ঠাসা সেই দল নিয়ে প্রথমে মেক্সিকোর কাছে হার, দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ মুহূর্তে টোনি ক্রুসের ফ্রি কিক থেকে জয় পেলো সুইডেনের বিপক্ষে আর শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে দুই গোল হজম করে বাদ পড়লো প্রথম রাউন্ড থেকে! গত ১৬ বছরে এ নিয়ে চারবার ইউরোপের কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল বাদ পড়লো প্রথম রাউন্ড থেকে৷ ২০০২-এ ফ্রান্স,  ২০১০-এ ইতালি, ২০১৪-তে স্পেন....এই ধারা অনুসরণ করে ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে জার্মানি৷ এ অভিশাপ নয়ত কী! 

রেকর্ড, রেকর্ড, রেকর্ড

রেকর্ডের পসরা বসেছিল এবারের বিশ্বকাপে৷ ফাইনাল পর্যন্ত ২৯ পেনাল্টি থেকে গোল হয়েছে মো ২২টি৷ এক বিশ্বকাপে এর আগে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ ১৭টি গোল হয়েছিল ১৯৯৮ সালে৷ গোলের সংখ্যাটি আরও বাড়তো৷ কিন্তু প্রথমে মেসি, এরপর ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো, সবশেষে লুকা মদ্রিচের মতো তারকারা এবার পেনাল্টি মিস করেছেন৷ ফাইনাল পর্যন্ত ১৬৭ গোলের ৭২টিরই উৎস যে সেট পিস৷ এটিও নতুন রেকর্ড৷

ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে এবার ২৯টি গোল হয়েছে, যার ১৯টিই আবার ইনজুরি টাইমে৷ আগের রেকর্ডটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের, ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ পাঁচ মিনিটে গোল হয়েছিল ২৪টি৷ এবার ১৭টি ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়েছে শেষ মুহূর্তের গোলে৷ এবারের আগে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬টি আত্মঘাতী গোল দেখেছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপে৷ এবার সংখ্যাটা কিনা ১২!

এবং অন্যান্য

এবারের বিশ্বকাপে নানাভাবে অন্য খবরের জন্ম দিয়েছে কাতারের গুনিন উট শাহিন৷ আলোচনায় এসেছিল গোলরক্ষকদের হাস্যকর কিছু ভুল৷ কাজান নামের মাঠটিতে খেলে বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলকে৷ এটিও বেশ আলোচনার জন্ম দেয়৷ বিশ্বকাপ থেকে কান্নাভেজা বিদায় নিলেও জাপানের সমর্থক আর ফুটবল দল মন জিতে নেয় গ্যালারি ও ড্রেসিংরুম নিজেরাই পরিষ্কার করে৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন