যৌন হয়রানি সম্পর্কে তদন্তের দাবি নাকচ করলেন ট্রাম্প | বিশ্ব | DW | 12.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

যুক্তরাষ্ট্র

যৌন হয়রানি সম্পর্কে তদন্তের দাবি নাকচ করলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট হবার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক মহিলাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন, কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছেন ডেমোক্র্যাটরা৷ কিন্তু হোয়াইট হাউস সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে৷

যে তিনজন মহিলা অতীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যৌন হয়রানির কথা বলেছেন, তাঁরা সোমবার সেই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন ও ট্রাম্পের আচরণ সম্পর্কে কংগ্রেস তদন্তের আহ্বান জানান৷

রেচেল ক্রুক্স, জেসিকা লিডস ও সামান্থা হলভে একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, তাঁরা এতদিন পরে আবার মুখ খুলেছেন, কেননা সাম্প্রতিক পরিবেশ পুরুষদের অশোভন যৌন আচরণের ব্যাপারে মহিলাদের কথা বলার সাহস দিয়েছে৷

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করছে

ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড সোমবার ট্রাম্পের পদত্যাগের আহ্বান জানান, রবিবার সেনেটের আরো দু'জন ডেমোক্র্যাটিক সদস্য যেমন করেছিলেন৷ ‘‘এই মহিলাদের বিবৃতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যৌন হামলা চালিয়েছেন, এবং এই সব অভিযোগ খুবই বিশ্বাসযোগ্য,'' গিলিব্র্যান্ড সিএনএন সংবাদ সংস্থাকে বলেন৷

নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত করি বুকার ও অরেগন থেকে নির্বাচিত জেফ ম্যার্কলে – এই দু'জন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করে বিবৃতি দেন৷

সেনেটের বিচারবিভাগীয় প্যানেলের সদস্য ক্রিস কুন্স বলেন যে, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস যে এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবে, তার সম্ভাবনা কম৷ প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই এই সব অভিযোগ জানা ছিল৷

‘‘পরের নির্বাচনে বিষয়টা আবার উঠবে, বলে আমার ধারণা,'' কুন্স সিএনএন-কে বলেন৷

ভিডিও দেখুন 03:00
এখন লাইভ
03:00 মিনিট

@dwnews - Trump accused of hypocrisy over response to Al Franken sexual assault claims

এক নতুন পরিবেশ

ক্রুক্স, লিডস ও হলভে সোমবার নিউ ইয়র্কের একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের বক্তব্য রাখেন৷ এছাড়া নন-প্রফিট ফিল্ম কোম্পানি ব্রেভ নিউ ফিল্মস যে ১৬ জন মহিলা করেছেন, তাঁদের নিয়ে তোলা একটি ভিডিও প্রদর্শন করে৷ ভিডিওতে মহিলারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিনা অনুমতিতে চুম্বন করার, শরীরের গোপন অংশ স্পর্শ করার, স্কার্টের তলায় হাত দেবার ও অপরাপর অকাম্য যৌন আচরণের অভিযোগ করেছেন৷

ক্রুক্স বলেছেন যে, তিনি যখন ২০০৫ সালে ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজের পরিচয় দেন, তখন ট্রাম্প তাঁকে জোর করে ঠোঁটের উপর চুম্বন করেন৷ ক্রুক্স মার্কিন বিধায়কদের প্রতি ‘‘দলগত আনুগত্যের কথা ভুলে মিস্টার ট্রাম্পের অশোভন যৌন আচরণের ইতিহাস তদন্ত করার'' আহ্বান জানান৷

‘‘আমরা মিস্টার ট্রাম্পের ক্ষেত্রেঠিক সেই মান প্রয়োগ করব, তিরস্কারযোগ্য আচরণের জন্য হার্ভে ওয়াইনস্টিন ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে যেমন করা হয়েছে৷''

লিডস বলেছেন যে, বহু দশক আগে ট্রাম্প একটি বাণিজ্যিক উড়ালে তাঁর গায়ে হাত দেন ও জোর করে তাঁকে চুম্বন করেন৷ ‘‘উনি যা এবং ওনার ব্যবহার যা,'' সেজন্য ট্রাম্পকে কোনোদিন জবাবদিহি করতে হয়নি, বলে লিডস মন্তব্য করেছেন৷

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার অভিযানের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্পকে একবার বলতে শোনা যায় যে, তিনি কোনো ফলশ্রুতির চিন্তা না করে মহিলাদের চুম্বন করতে পারেন ও তাদের গায়ে হাত দিতে পারেন, কেননা তিনি একজন সেলিব্রিটি৷ মন্তব্যটি ট্রাম্পের অজান্তে ক্যামেরায় ধরা পড়ে ও পরে ‘আক্সেস হলিউড' চ্যানেলটিতে প্রকাশিত হয়৷

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হেলি রবিবার বলেন যে, যে সব মহিলা ট্রাম্প সহ অপরাপর পুরুষের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করছেন, তাঁদের বক্তব্য ‘‘শোনা উচিত''৷

এ বছরের শুরুতে হলিউড প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে মহিলাদের ব্যাপক যৌন অপব্যবহার ও হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর বহু মহিলা মনোরঞ্জন, মিডিয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনীতির ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুরূপ অশোভন যৌন আচরণের অভিযোগ তুলেছেন৷

যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর গত সপ্তাহে তিনজন মার্কিন বিধায়ক কংগ্রেস থেকে তাঁদের পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন – মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর অ্যাল ফ্র্যাঙ্কেন যাঁদের মধ্যে রয়েছেন৷

এসি/জেডএইচ (এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও