যৌন হয়রানির অবসান চেয়ে নারীরা বলছেন ‘আমিও’ | বিশ্ব | DW | 18.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

যৌন হয়রানির অবসান চেয়ে নারীরা বলছেন ‘আমিও’

হলিউডের এক মিডিয়া মুঘলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে টুইটারে অন্যদেরও নিজের কথা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন অ্যালিসা মিলানো৷ সেই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে বিশ্বের নারীরা৷ রাস্তায় যৌন হয়রানি রুখতে কঠোর আইন করছে ফ্রান্স৷

default

প্রতীকী ছবি

যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ইত্যাদি দেশ-কালের সীমায় বাঁধা কোনো বিষয় নয়৷ যুক্তরাষ্ট্রের নারীরাও প্রতিনিয়তই এর শিকার৷ কিন্তু সে দেশে পরিস্থিতি কত ভয়াবহ, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে গত তিন দিনে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উঠে আসা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া৷ ইংরেজিতে #মিটু লিখে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বস্তরের নারীরা জানাচ্ছেন, জীবনের নানা সময়ে, নানা স্থানে যৌন নিগ্রহের শিকার হওয়ার না-বলা যত কাহিনি৷

তাঁদের প্রতি এভাবে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানানোর আহ্বানটি জানিয়েছিলেন অ্যালিসা মিলানো৷ কয়েকদিন আগেই মিডিয়া মুঘল হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা এ অভিনেত্রী টুইটারে জানিয়েছিলেন, তাঁর এক বন্ধু মনে করে, সবাই যদি #মিটু স্ট্যাটাস দিয়ে অতীতের সেই অধ্যায়টির কথা প্রকাশ করতে শুরু করে, তাহলেই বোঝা যাবে যৌন হয়রানি সমাজে আসলে কত বড় মহামারীর রূপ নিয়েছে৷

রোববার রাতে টুইটারে অভিনেত্রী অ্যালিসা সবাইকে #মিটু লিখতে বলেছিলেন৷ তাতে যে এমন সাড়া পাবেন তা সম্ভবত নিজেও ভাবেননি৷ সোমবার রাতের মধ্যে ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ লিখে ফেলেছেন #মিটু৷ হ্যাশট্যাগটি টুইট করা হয়েছে পাঁচ লক্ষেরও বেশি বার৷

যুক্তরাষ্ট্রের সব পেশার, সব বয়সের নারীরাই জানাচ্ছেন, কখন, কীভাবে যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷ পেশাজীবী নারীরা জানাচ্ছেন, প্রতিবাদী হতে গিয়ে চাকরি হারানোর কথা৷ কেউ কেউ জানাচ্ছেন, ক্ষমতাশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে পুলিশ কিভাবে ধর্ষণ বা নিপীড়ণের সময় নারী কী পোশাক পরেছিল, কী করছিল – ইত্যাদি জানতে চেয়ে আরো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে৷

যুক্তরাষ্ট্রে হঠাৎ এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি৷ যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে যৌন নিপীড়ন৷ ষাটোর্ধ লরেন টেলর জানালেন, নারীকে যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করা শেখাতে ২০ বছর আগেই তিনি গড়েছেন ‘ডিফেন্ড ইয়োরসেল্ফ' নামের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র৷ যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের যৌন নিপীড়ণের হাত থেকে বাঁচাতে অন্তত ২০ বছর ধরে কাজ চলছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভাবা যায়!

শুরুটা নিউ ইয়র্কে হলেও এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে বিশ্বের অনেক দেশের নারীরাই #মিটু লিখে জানাচ্ছেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা৷ অনেকেই বলছেন, এ অধ্যায়টি এতদিন তাঁরা গোপন রেখেছিলেন ‘বিচার হবে না, উলটে সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হবে' – এই ভয়ে৷

ইতিমধ্যে সুদূর ফ্রান্সেও লেগেছে অ্যালিসা মিলানোর এক টুইটের মাধ্যমে শুরু হওয়া ঝড়ের হাওয়া৷ রাস্তায় ধরা পড়লে যৌননিগ্রহকারীকে সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা বা অন্যভাবে শাস্তির আওতায় নেয়ার আইন প্রবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে সে দেশের সরকার৷ চার ফরাসি অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁরাও হার্ভে ওয়াইনস্টাইনের যৌন হয়রানির শিকার৷

এছাড়া অভিনেত্রী গিনেথ পালট্রো, আনা পাকুইন, পাত্রিসিয়া আরকুয়েত্তে, ডেব্রা মেসিং এবং আনিকা নোনিসহ আরো অনেক অভিনেত্রীই অভিযোগ তুলেছেন হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে৷ ৬৫ বছর বয়সি ওয়েনস্টেইন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তবে অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স থেকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে৷

এসিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন