যৌন নিপীড়নকারীদের নপুংসক করার কথা ভাবছে তুরস্ক | বিশ্ব | DW | 21.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

তুরস্ক

যৌন নিপীড়নকারীদের নপুংসক করার কথা ভাবছে তুরস্ক

তুরস্কের আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, সরকার শিশুদের যৌননিপীড়নকারীদের যৌন তাড়না ‘কমাতে বা নির্মূল করতে' চায়৷ তবে যে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চোখে ‘নির্মম'৷

তুর্কি সরকার মঙ্গলবার ঘোষণা করে যে, সংসদে একটি নতুন আইন আনা হবে, যার বলে বিচারকরা শিশু নিপীড়নকারীদের কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন, অর্থাৎ রাসায়নিক নপুংসকরণের নির্দেশ দিতে পারবেন৷

আইনমন্ত্রী আবদুলহামিত গুল বলেন, যে ব্যক্তিদের শিশুদের যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের যৌন তাড়না ‘কমানো বা নির্মূল করার জন্য' এই পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে৷ সরকারি আনাদোলু সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, আইনের খসড়াটি কয়েক দিনের মধ্যেই সাংসদদের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন৷

দশ বছর আগের তুলনায় ২০১৬ সালে তুরস্কের বিভিন্ন আদালতে চারগুণেরও বেশি শিশু যৌন নিপীড়নের মামলা ওঠে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি জানিয়েছে৷ ২০০৬ সালে শিশুদের যৌন নিপীড়নের মোট ২১,১৮৯টি মামলা আদালতে ওঠে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ মামলায় অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়৷

ভিডিও দেখুন 03:53
এখন লাইভ
03:53 মিনিট

Turkey: A torture victim speaks out

রাসায়নিক নপুংসকরণের যেসব ‘অ্যানাফ্রোডিজিয়্যাক' বা কামোদ্দীপনা হ্রাস করার ওষধি প্রয়োগ করা হয়, সেগুলি কামেচ্ছা ও যৌন সম্ভোগের ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমাতে পারে বটে, কিন্তু তার ফলে যৌন কামনা স্থায়ী বা পুরোপুরিভাবে নির্মূল হয়ে যায় না৷ ফলে প্রতি তিন মাস অন্তর ওষুধ খেতে হয় বা ইনজেকশন নিতে হয়৷

‘উওমেন্স অ্যাসেম্বলিজ অর্গানাইজেশন' নামের একটি মহিলা সম্মেলন সমিতি এই পদক্ষেপকে ‘মানবাধিকারবিরোধী' ও ‘আধুনিক আইনকানুন বহির্ভূত দণ্ড' বলে অভিহিত করেছে৷

অতীতেও উদ্যোগ রুখে দেওয়া হয়েছে

২০১৬ সালে যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের রাসায়নিক নপুংসকরণের আরেকটি উদ্যোগ রুখে দেন তুরস্কের সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অফ স্টেট'৷ সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়ায় রাসায়নিক নপুংসকরণের সংজ্ঞা বা সীমা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়নি বলে আদালত অভিমত প্রকাশ করেন৷

একটি সাম্প্রতিক ঘটনার পর জনতার রোষ ও  শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্তঅপরাধীদের রাসায়নিক নপুংসকরণের দাবি আরো জোরদার হয়েছে৷ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সূচনায় এক ২০ বছর বয়সি পুরুষ একটি তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে৷ ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণের আদানা প্রদেশের একটি বিয়েবাড়িতে উৎসব চলার সময়৷ সরকারি কৌঁসুলি সংশ্লিষ্ট অপরাধীর ৬৬ বছর কারাদণ্ড দাবি করেছেন বলে আনাদোলু সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে৷

আইনমন্ত্রী গুল-এর ঘোষণার আগের দিন তুর্কি সরকার শিশুদের যৌন নিপীড়নের সংক্রান্ত ঘটনার মোকাবিলার জন্য একটি কমিটি সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেন৷

মঙ্গলবার অপর একটি উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ান শিশুদের যৌন নিপীড়নকারীদের ‘চরমতম শাস্তির' হুমকি দেন৷ দলীয় সাংসদদের একটি সম্মেলনে এর্দোয়ান শিশুদের যৌন নিপীড়ককে এমন একটি বিস্ফোরকের সঙ্গে তুলনা করেন, যা ‘‘সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে৷''

অপরাপর একাধিক দেশ শিশুদের যৌন নিপীড়নসহ অন্যান্য যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের রাসায়নিক নপুংসকরণের ব্যবস্থা রেখেছে – যেমন রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷

এসি/এসিবি (এএফপি, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন