যৌন নিগৃহীতদের দিল্লি অভিমুখে যাত্রা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

যৌন নিগৃহীতদের দিল্লি অভিমুখে যাত্রা

যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেছে ভারতে বিভিন্ন সময় নিগ্রহের শিকার নারীদের একটি দল৷ নারীদের স্বজন ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আইনী সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরাও যোগ দেন এ যাত্রায়৷ 

রাষ্ট্রীয় গরিমা অভিযান, তথা ন্যাশনাল প্রাইড মুভমেন্ট এই ক্যারাভান যাত্রার অন্যতম আয়োজক৷ সংগঠনটির আহ্বায়ক আসিফ শেখ জানান, তাঁদের প্রত্যাশা ১০ হাজার কিলোমিটারের এই যাত্রায় লাখো লোক সমবেত হবে৷ ফেব্রুয়ারির শেষদিকে এই ক্যারাভান দিল্লিতে পৌঁছাবে৷ চলতিপথে বিভিন্নস্থানে সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের৷ এ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, যৌন নিগ্রহ নিয়ে নারীরা যেন সোচ্চার হন এবং সবসময় নিগ্রহের ঘটনা প্রকাশ করেন তাতে উৎসাহিত করাই এই সভার উদ্দেশ্য৷

ভারত সরকারের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশটিতে নারীদের প্রতি অপরাধের মাত্রা বেড়েছে ৮৩ শতাংশ৷ সে সময় প্রতি ঘণ্টায় ৪টি করে ধর্ষণ মামলা দাখিলের ঘটনা ঘটেছে৷

ক্যারাভান যাত্রার আয়োজকদের দাবি, সরকারের দেওয়া তথ্যে যতটুকু নিগ্রহের কথা রয়েছে, ঘটেছে এরচেয়ে অনেক বেশি৷ সামাজিক হেনস্থা ও কলঙ্কের ভয়ে একটি বিশাল অংশ বিচারের দাবিই করে না৷ 

ক্যারাভানে অংশ নেওয়া সোহমাত সিং লোধি বলেন, ‘‘আমি আমার ৪ বছর বয়সি কন্যা সন্তানের ধর্ষণের বিচার চাইতে এসেছি৷ সে এখনো সুস্থ হয়নি৷ যে-কোনো মূল্যে আমি দোষীর শাস্তি চাই৷'' গত জুন মাসে সোহমাতের ৪ বছর বয়সি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়৷ মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে৷

আয়োজকরা আরো জানান, শুধু দ্রুত বিচার নয় তাঁদের চেষ্টা থাকবে একজন যৌন নিগৃহের শিকার নারীর বা শিশুর প্রতি যেন সবাই সহনশীল থাকে৷ পুলিশ, চিকিৎসক, এমনকি আইনজীবীরাও যেন ক্ষতিগ্রস্তের প্রতি সহনশীল থাকেন, সেই ধরনের প্রচারই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য৷

যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি হয়ে যাওয়া মমতা অংশ নিয়েছেন এই দিল্লি-যাত্রায়৷ তিনি জানান, তাঁর মামলাটি দায়ের করতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে৷ পুলিশ, ডাক্তার, আদালত সব জায়গায় তাঁকে অসৌজন্যমূলক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে৷ তিনি জানতে চান, ‘‘কেন আমাকেই প্রমাণ করতে হবে যে আমি ধর্ষণের শিকার?''

মমতা জানান, পারিবারিক এক বন্ধু তাঁকে ধর্ষণ করেছে৷ সেই ব্যক্তিই তাঁকে এক লোকের কাছে ২ লাখ রুপিতে বিক্রি করে দেয়৷ সেখানে ৬ মাস যৌনদাসী হিসেবে আটকে ছিলেন মমতা৷ পরে স্থানীয় একজনের সহযোগিতায় পালিয়ে আসেন এবং মামলা দেন৷ কিন্তু ফিরে আসার পর তাঁর স্বামী বা পরিবারের কেউ তাঁকে গ্রহণ করেনি৷ তিনি এই সমাবেশে যুক্ত হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চান বলে জানান৷

ধর্ষণের শিকার এক নারীর পিতা বিক্রম রাঘুবাসী বলেন, আশা করছি সমাজ ও প্রশাসনের কাছে এই উদ্যোগ একটি দৃঢ় বার্তা পৌঁছে দেবে৷

এফএ/এসিবি (রয়্টার্স)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন