যৌনকর্মীরা টুইটার ছেড়ে সুইটারে | বিশ্ব | DW | 29.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যৌনকর্মীরা টুইটার ছেড়ে সুইটারে

অ্যামেরিকার নতুন আইনের পর টুইটার ছেড়ে যৌনকর্মীরা নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সুইটারে যোগ দিচ্ছে৷ মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইট সুইটার ডট অ্যাট-এ ১ লাখের বেশি যৌনকর্মী যোগ দিয়েছেন৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত মানবপাচার প্রতিরোধের জন্য আইন পরিবর্তন করলেও অ্যামেরিকার এই সিদ্ধান্তে যৌনকর্মীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে৷     

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌনকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে৷ মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটার এসকর্ট বা যৌনকর্মীদের সুরক্ষার জন্য নানা ধরনের সুবিধা দিতো৷ বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টের সামনে ভিন্ন নামে পরিচয় গোপন করে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দিতো৷ তাছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে খোঁজার বদলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুব সহজে টুইটারই সম্ভাব্য মক্কেলের কাছে যৌনকর্মীদের পৌঁছানোর মতো সুযোগ করে দিতো৷

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে অ্যামেরিকার কংগ্রেসে যখন ‘শর্ট ফর ফাইট অনলাইন সেক্স ট্রাফিকিং অ্যাক্ট অ্যান্ড স্টপ সেক্স ট্রাফিকার্স অ্যাক্ট, রেসপেক্টিভলি', সংক্ষেপে এফওএসটিএ বা এসইএসটিএ চালু হয়, তখন যৌনকর্মীরা বিপাকে পড়েন৷

কেননা, নতুন আইনটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনব্যবসায় জড়িয়ে পড়া এবং পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে৷ ফলে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের বলা হয়েছে, এ ধরনের কিছু তাদের ওয়েবসাইট বা প্লাটফর্মে থাকলে তারাও দায়ী থাকবেন৷

কিন্তু এই আইনে প্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীরাও নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন৷ ফলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন৷

যৌনকর্মীদের উন্নয়ন এবং সুবিধায় তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক এমন একটি সংস্থা অ্যাসেম্বলি ফোর৷ যৌনকর্মীদের এই সমিতিই টুইটারের বিকল্প ‘সুইটার' এবং এর সহযোগী সাইট ‘ট্রাইস্ট' চালু করেছে৷ আর এ জন্য কিনেছে অস্ট্রিয়ার ডোমেইন৷  

এই সমিতির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘‘অ্যামেরিকায় পাশ হওয়া ওই বিলটির মানে হচ্ছে, যৌনকর্মীরা এখন যে প্লাটফর্মই ব্যবহার করবেন, তাতেই দায় থাকবে৷ এমনকি যৌনকর্মীরা যদি ব্যক্তিগতভাবেও কোনো সাইট ব্যবহার করেন, তাহলে ওই সাইট কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারবে না৷ এর ফলে আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি রেডিট, ক্রেইগসলিস্ট এবং স্কাইপ তাদের নীতি পরিবর্তন শুরু করেছে এবং নীরবে আমাদের তাদের প্লাটফর্মগুলোতে নিষিদ্ধ করছে৷ বিশেষ করে অ্যামেরিকায় যৌনকর্মীদের জন্য এই প্লাটফর্মগুলো খুবই জরুরি৷ এটি যৌনকর্মীদেরকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খদ্দের খোঁজার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে৷ অনেক সময়ই এতে তাঁদের জীবনবিনাশকারী পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেল৷''

‘সুইটার' ডোমেইন অস্ট্রিয়ায় খোলার কারণ হচ্ছে সেখানে যৌনকর্ম আইনগতভাবে বৈধ এবং যৌনকর্মীরা নিজেদের কাজ সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেই করতে পারেন৷

অ্যাসেম্বলি ফোরের মুখপাত্র মনে করেন, অ্যামেরিকার নতুন আইন তারা যে উদ্দেশ্যে করছে, তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং যাঁরা যৌন ব্যবসার সাথে জড়িত নয়, তাঁরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন৷  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

তিনি বলেন, ‘‘এটি ভবিষ্যতে ‘সেন্সরড' এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তুলবে৷''

অ্যাসেম্বলি ফোর এখন পর্যন্ত তাদের সব সার্ভার ইউরোপীয় ইউনিয়নে স্থানান্তর না করলেও ভবিষ্যতে সে চিন্তাই করছে বলে জানান ওই মুখপাত্র৷ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ''ইউরোপে ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ ও গোপনীয়তার আইন অত্যন্ত কড়া৷''

টুইটারের চেয়ে নিরাপদ

সুইটারের হোমপেজ টুইটারের মতোই দেখতে৷ এর সদস্যরা খদ্দের বা এসকর্টকে অঞ্চলভিত্তিতে খুঁজে বের করার সুযোগ পান৷ এছাড়া যৌনকর্মীদের জন্য ক্লায়েন্টভিত্তিক তালিকা রয়েছে তাদের৷ এর ফলে নিরাপত্তা ইস্যুটি অনেকটাই নিশ্চিত হয়৷

অ্যাসেম্বলি ফোরের মুখপাত্র বলেন, ‘‘সুইটার যেহেতু যৌনকর্মীরাই পরিচালনা করে আসছেন, তারা সবসময়ই লক্ষ্য রেখেছেন নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি মাথায় রেখে এটি গড়ে তুলতে... টুইটারে প্রচ্ছন্নভাবে তারা নিষিদ্ধ হওয়ার আগে থেকেই এটি শুরু হয়েছে৷ যদিও আইনটি পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলেছে৷'' 

অ্যাসেম্বলি ফোরের দাবি, তাদের প্লাটফর্ম টুইটারের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ৷ তারা বলছে, সদস্যদের খুব কম তথ্য রাখা হয় তাদের সার্ভারে৷ পরিচিত সকল যৌন ব্যবসায়ের মধ্যস্বত্বভোগী, মানব পাচার এবং যৌনকর্মীদের হয়রানিকারীদের সচেতনভাবে এই প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে তারা সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছেন৷

তাদের দাবি, ‘‘টুইটার সম্পূর্ণ আলাদাভাবে কাজ করে, কেননা, এর প্রাধান্য অন্য বিষয়ে৷''

এলিজাবেথ শুমাখার/এইচআই

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন