যোগীর ধাক্কা, প্রভাবশালী ওবিসি মন্ত্রীর সদলে ইস্তফা | বিশ্ব | DW | 12.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

যোগীর ধাক্কা, প্রভাবশালী ওবিসি মন্ত্রীর সদলে ইস্তফা

উত্তরপ্রদেশে ভোটের মুখে ধাক্কা খেলেন যোগী আদিত্যনাথ৷ ওবিসি (আদার ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস) মন্ত্রী স্বামীপ্রসাদ মৌর্যসহ চার বিধায়ক ইস্তফা দিলেন৷

ভোটের আগে প্রভাবশালী মন্ত্রীর ইস্তফায় বিপাকে পড়েছে বিজেপি।

ভোটের আগে প্রভাবশালী মন্ত্রীর ইস্তফায় বিপাকে পড়েছে বিজেপি।

উত্তরপ্রদেশে স্বামীপ্রসাদ মৌর্যের পরিচয় শুধু অনগ্রসর নেতা বলেই নয়, পাঁচবারের বিধায়ক একসময় মায়াবতীর দলে দুই নম্বর নেতা ছিলেন৷ পূর্ব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে অনগ্রসরদের উপর তার বিপুল প্রভাবও আছে৷ পাঁচ বছর আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন৷ ভোটের মুখে মঙ্গলবার তিনি মন্ত্রিপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং বিজেপিও ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন৷ তারপরেই তার তিন অনুগামী বিধায়কও দল ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন৷ আরো কয়েকজন ছাড়তে পারেন বলে বিজেপি নেতাদের আশঙ্কা৷ 

স্বামীপ্রসাদ মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরেই সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব টুইট করে বলেছেন, ‘‘স্বামীপ্রসাদ মৌর্য খুবই জনপ্রিয় অনগ্রসর নেতা এবং তিনি সামাজিক ন্যায়ের জন্য লড়াই করেন৷ তাকে ও তার সব অনুগামীকে সমাজবাদী পার্টিতে স্বাগত জানাই৷ সবাই মিলে পরিবর্তন আনব৷''

মৌর্য কেন ইস্তফা দিলেন

রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের কাছে মৌর্য যে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়েছেন, সেখানেই তিনি লিখেছেন, যোগীর শাসনে গত পাঁচ বছরে দলিত, অনগ্রসর, কৃষক, বেকার যুবক, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয়নি৷ তাদের উপেক্ষা করা হয়েছে৷ তাই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন৷ তিনি বিষয়টি দলের মঞ্চে বহুবার তুলেছেন৷ তারপরেও কোনো কাজ হয়নি৷

যোগী এই ইস্তফা নিয়ে কোনো কথা বলেননি৷ উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেছেন, ‘‘স্বামীপ্রসাদ কেন ইস্তফা দিয়েছেন তা আমি জানি৷ কিন্তু তাড়াহুড়ো করে ইস্তফা দেয়ার দরকার ছিল না৷ আলোচনা করলেই সমস্যা মিটে যেত৷''

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য বিজেপি নেতার বক্তব্য, স্বামীপ্রসাদ আসলে তার ছেলের প্রার্থীপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন৷ তার মেয়েকে গতবার বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছিল এবং তিনি জিতেছিলেন৷ বিধানসভা নির্বাচনে ছেলে হেরে গিয়েছিলেন৷ এবার ছেলের জন্য নিরাপদ আসন চাইছিলেন৷ যা না পাওয়ায় তিনি ইস্তফা দিলেন৷

উত্তরপ্রদেশ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘‘স্বামীপ্রসাদ মৌর্যের ৭০ থেকে ৮০টি বিধানসভা আসনে প্রভাব রয়েছে৷ ফলে তিনি বিজেপি ছাড়লে সেটা যোগীর ধাক্কা তো বটেই৷ তবে স্বামীপ্রসাদ গত বিধানসভা ভোটের সময় নিজের অনুগামীদের জন্য ১৫টি আসন চেয়েছিলেন এবং পেয়েছিলেন৷ তার মধ্যে ১২ জন জিতেছিলেন৷ তার ছেলে সহ তিনজন জিততে পারেননি৷''

শরদের  বক্তব্য, ‘‘এবারও ১৫টি আসন চান তিনি৷ কিন্তু তাকে মাত্র পাঁচটি আসন দিতে চেয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব৷ তাই তিনি দল ছাড়লেন৷ তাছাড়া তিনি যোগী মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চেয়েছিলেন৷ পাননি৷ শ্রমের মতো কম গুরুত্বের মন্ত্রক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল৷ তবে তার দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত মূলত অনুগামীদের জন্য আসন না পাওয়ার কারণে৷''

কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে?

স্বামীপ্রসাদ মৌর্য দীর্ঘদিন মায়াবতীর বিএসপিতে ছিলেন৷ তিনি ছিলেন অঘোষিত দুই নম্বর নেতা৷ মায়াবতী যখনই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, স্বামীপ্রসাদ মন্ত্রী হয়েছেন৷ বিএসপি সরকারে না থাকলে তিনিই বিধায়কদলের নেতা হয়েছেন৷ তার পরিচিতি ও প্রভাব দুটোই রয়েছে৷

প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘ওবিসি বা অনগ্রসরদের একটা অংশের মধ্যে স্বামীপ্রসাদের যথেষ্ট প্রভাব আছে৷ তিনি অখিলেশের সঙ্গে হাত মেলালে সমাজবাদী পার্টির লাভ এবং  বিজেপির ক্ষতি হতে পারে৷''

জয়ন্তের মতে, ‘‘বিজেপি এবার মনে করছে, আগেরবারের তুলনায় তাদের জাঠ ভোট কমবে৷ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের ভোটেও তারা কম পাবে৷ দলিত ও আদিবাসী ভোটের পরিমাণও বাড়বে না৷ তাই তারা এখন ব্রাক্ষ্মণ ও অনগ্রসর ভোটের উপর জোর দিয়েছে৷ স্বামীপ্রসাদের দল ছাড়ার প্রভাব তাদের কৌশলের উপর পড়তেই পারে৷''

আরেক প্রবীণ সাংবাদিক আশিস গুপ্ত মনে করেন, ‘‘গোয়ার পর উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মন্ত্রী, বিধায়করা দল ছাড়লেন৷ এতদিন বিজেপিতে নেতারা যোগ দিতেন৷ এখন দেখা যাচ্ছে, বিজেপি যে রাজ্য়ে ক্ষমতায় আছে, সেখানে মন্ত্রী ও নেতারা বিরোধী দলে যোগ দিচ্ছেন৷ এটাও ইঙ্গিতবহ৷ আর উত্তরপ্রদেশে স্বামীপ্রসাদ যথেষ্ট প্রভাবশালী নেতা৷ তিনি সদলবলে বিজেপি ছাড়লে ক্ষতি তো হবেই৷''

তবে শরদ মনে করেন, ‘‘এখনো সব সমীক্ষা উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-কে এগিয়ে রেখেছে৷ ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোট শুরু হবে৷ হাতে এখনো সময় আছে৷ অখিলেশ লড়াই করছেন, সাড়াও পাচ্ছেন৷ ফলে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন চিত্তাকর্ষক জায়গায় চলে গেল৷''

জিএইচ/জেডএইচ (পিটিআই, এএনআই)