যে দেশে সমকামিতার শাস্তি ধর্ষণ | বিশ্ব | DW | 07.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আফ্রিকা

যে দেশে সমকামিতার শাস্তি ধর্ষণ

ক্যামেরুনে ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর চর্চা অবৈধ হলেও সমকামীদের এর আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হয়৷ সমকামী নারীদের ডাইনি আখ্যা দিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণ করার নজিরও আছে অনেক৷

এমন কয়েকটি ঘটনাই তুলে ধরেছে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন৷ ক্যামেরুনে বহু সমকামী নারী-পুরুষ নির্যাতনের শিকার হলেও সবাই নিজেদের নির্যাতিত হওয়ার কথা জানাতে ভয় পায়৷ তবে ভিভিয়ানে ও ফেদেরিকে এখন অন্য দেশে অবস্থান করায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন৷

লেসবিয়ান হওয়ার কারণে ভিভিয়ানেকে ডাইনি আখ্যা দিয়েছিল সেখানকার গির্জা৷ ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াওন্দেতে কেবল গির্জায় নয়, তাঁর স্কুলেও শুনতে হয়েছে, ‘‘সমকামী হওয়া কেবল পাপ নয়, এর মানে হলো কোনো খারাপ আত্মা তোমার উপর ভর করেছে৷''

ভিভিয়ানে এখন ফ্রান্সে আছেন৷ তাঁর প্রেমিকার সহায়তায় সেখানে আশ্রয় পেয়েছেন তিনি৷ সেখান থেকেই ফোনে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে ঘটনাটি জানান৷ ভিভিয়ানের কাছে মনে হয়েছিল, চার্চে যা বলা হয়েছে তাই হয়ত ঠিক, খারাপ কোনো আত্মা ভর করার কারণেই হয়ত মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করেন তিনি৷ তাই গির্জায় প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন এ থেকে মুক্তি পেতে৷ এর ফল হলো উলটো৷ ১৪ বছরের ভিভিয়ানকে চার বছর পর ডাইনি ঘোষণা করা হলো, দেয়ালে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হলো তাকে৷ এখানেই শেষ নয়, যে ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছিল, পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে ঐ ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করল৷

প্রায় একই চিত্র দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত আর ইকুয়েডরে৷ পরিবারের সদস্য, অপরিচিত এবং অপরাধীদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন সেই দেশগুলোর সমকামীরাও৷ সেখানেও অনেকেই মনে করেন, সমকামিতা একটা মানসিক ব্যধি এবং ধর্ষণই হলো এর ওষুধ৷

ভিভিয়ানে একা নন, ক্যামেরুনের বেশ কয়েকজন সমকামী এসব ঘটনার কথা জানিয়েছেন থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে৷ এমনকি সমকামী পুরুষ ও নারীকে তাঁদের পরিবারেরসদস্যরা হত্যাও করেন৷ ক্যামেরুনে সাধারণ মানুষের মধ্যে কালো জাদুর প্রতি অনেকেরই বিশ্বাস রয়েছে৷ যদিও দেশে এর চর্চা করা অবৈধ৷ কিন্তু এসব রোধে কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেয় না৷

আফ্রিকাজুড়ে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিয়ে ট্যাবু রয়েছে৷ ২০১৭ সালের আন্তর্জাতিক লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্স অ্যান্ড ইন্টারসেক্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৩৩টিতে সমকামিতা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়৷ সমকামী প্রমাণ হলে ক্যামেরুনে পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হয়৷ দেশটিতে গত বছর সমকামীদের উপর ৬০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে৷ প্রতি ৫ জন সমকামী নারীর মধ্যে একজন এবং প্রতি ১০ জন সমকামী পুরুষের মধ্যে একজন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে৷

ভিভিয়ানের পরিবার যখন তাঁর ব্যাপারটা জানতে পারে, তাঁরা তাঁকে গ্রামের এক ওঝার কাছে নিয়ে যায়৷ ঐ ব্যক্তি প্রথমে তাঁকে মুরগির রক্ত পান করতে বলে, এরপর মলাশয়ে মরিচের গুড়া ঢুকিয়ে দেয়৷ তাদের ধারণা, এর ফলে সে যে যন্ত্রণা পাবে, তার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হবে৷ এরপর স্থানীয় গির্জার এক যাজকের কাছে যৌতুক নিয়ে ভিভিয়েনকে বিয়ে দেয় পরিবার৷ ঐ ব্যক্তি তাঁর চেয়ে ৩০ বছরের বড়৷ ক্যামেরুনে ধর্ষণ যদিও অপরাধ হিসেবে গণ্য, কিন্তু স্বামীর দ্বারা ধর্ষণ অপরাধ নয়৷ ভিভিয়ান বলেন, ‘‘ক্যামেরুনে যাজকরা ঈশ্বরের মতো৷ ঈশ্বর তো ধর্ষণ করতে পারেন না৷ আর কেউ যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, তাহলে সে শয়তান হিসেবে চিহ্নিত হয়৷''

ফেদেরিকের ঘটনাও অনেকটা একই রকম৷  ২০১৬ সালে তিনি যখন কর্মস্থল থেকে কাজ শেষে ফিরছিলেন, তখন রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয় তাঁকে৷ ধর্ষণকারীরা বলছিল, সমকামিতার জন্যই এ শাস্তি দেয়া হলো তাঁকে৷  

ফেদেরিকে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে জানান, তাঁর এক বন্ধু ধর্ষিত হওয়ার পর আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন৷ তবে কষ্টের চেয়ে তাঁর মধ্যে রাগ হয়েছিল বেশি৷ তাই তিনি সমকামীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন৷ ক্যামেরুন থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন৷ তিনি জানান, ‘‘কেউ আমাদের রক্ষা করবে না, কেউ আমাদের মুক্তি দিতে এগিয়ে আসবে না৷ এটা আমাদের লড়াই, যা আমাদেরই চালিয়ে যেতে হবে৷''

এপিবি/এসিবি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)

আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন