যে চাষে জমি বাঁচে | অন্বেষণ | DW | 23.05.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

যে চাষে জমি বাঁচে

চাষের জমি বা গরু চরানোর জমির অবনতি ঘটে নানা কারণে৷ অথচ এই অবনতি না রুখলে বিশ্বের তিন’শ কোটি মানুষ তাদের খাদ্যের উৎস হারাবে৷ একটি সমাধান হচ্ছে চাষিদের টেকসই চাষের পদ্ধতি শেখানো৷

চাষবাসের উর্বর জমি মানবসভ্যতার পক্ষে অপরিহার্য৷ বিজ্ঞানীরা কিন্তু দেখছেন, জমির গুণগত উৎকর্ষ কমে আসছে৷ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জমি এভাবে বিপন্ন৷ চাষের জমি, গরু চরানোর জমি বা বনজঙ্গল নষ্ট হওয়ার ফলে প্রায় তিন'শ কোটি মানুষের পেটে টান পড়তে পারে; বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি ডলার৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ইওয়াখিম ফন ব্রাউন বলেন, ‘‘বিশ্বে জমির পরিস্থিতি শঙ্কাজনক৷ এবং তা ক্রমেই আরো খারাপ হচ্ছে৷ জমির উর্বরতা কমছে, কেননা জমির সযত্ন ও সুবিবেচক ব্যবহারের জন্য চাষিদের কোনো উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না৷ অবকাঠামো আর শহর বাড়ায় ক্রমেই আরো বেশি জমি নষ্ট হচ্ছে৷ জমির অবনতি ঘটলে, সভ্যতা বাঁচবে না৷ ইতিহাস তা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে৷''

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন৷ জমির অবনতির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কিছু একটা করা না হলে, ভবিষ্যতে সেই জমি আবার ঠিক করার খরচ অনেক বেশি হবে৷ এটা একটা বিশ্বায়িত সমস্যা৷ ফন ব্রাউন বলেন, ‘‘বিশ্বের তিনটি বড় এলাকায় জমির খুবই অবনতি ঘটেছে: দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর ল্যাটিন অ্যামেরিকার দক্ষিণাঞ্চল৷ এই হটস্পটগুলো আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আসলে এটা একটা গ্লোবাল প্রবলেম৷ উত্তর অ্যামেরিকা, রাশিয়া, চীনের উত্তরাঞ্চল, ইউরোপের কিছু অঞ্চল – যেমন স্পেন – এর ভুক্তভোগী৷''

সমস্যা ও সমাধান

জমির ক্ষয়ের কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা ব্যাপক, অ-টেকসই কৃষিকাজের কথা বলেছেন৷ কম জমিতে বেশি পশুপালন; জঙ্গল কেটে সাফ; কৃষিক্ষেত্র আর চারণভূমির পক্ষে হানিকর পদ্ধতিতে চাষবাস ও গোচারণ৷ শেষমেষ পানি বা বাতাসেও মাটি উড়ে যায়৷ ফন ব্রাউন বলেন, ‘‘জমির নবীকরণ সম্ভব – কিন্তু দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার পলি জমতে কয়েক দশক নয়, কয়েক শতক বা হাজার বছর সময় লেগে যেতে পারে৷ জমি আসলে কোনো নবায়নযোগ্য সম্পদ নয়৷''

বিশেষ করে দরিদ্ররাই জমি খারাপ হওয়ার ফলে সমস্যায় পড়েন, কেননা খাদ্যের দাম বাড়ায় তাদের পক্ষে সেই দাম দেওয়া আর সম্ভব হয় না৷ নয়ত ধনি-দরিদ্র, সকলেই প্রভাবিত হয়৷ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বাসস্থান বাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে৷ তবে আশা আছে, বিশেষ করে যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা যায়৷ ফন ব্রাউন-এর অভিমত, ‘‘আমরা যদি জমির অবনতি রোখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি, যেমন লাঙল না দিয়ে চাষ, টেকসই সেঁচ, কোন ফলের পর কোন ফলের চাষ, মাত্রাধিক নাইট্রোজেন ব্যবহার না করে সার প্রয়োগ – তাহলে এ সব পদক্ষেপের ব্যয় যতোই হোক না কেন, জমির অবনতি সামাল দিতে যে খরচ পড়বে, তা হবে এর পাঁচগুণ৷''

সেটা কিভাবে সম্ভব, তা দেখিয়েছেন উজবেকিস্তানের চাষিরা; বনের গবেষকরা এই প্রকল্পে তাদের সাহায্য করছেন৷ এক্ষেত্রে জমি বিশেষ তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে না, নয়ত একাধিক ধরনের ফসল একসঙ্গে বোনা হয়৷ এর ফলশ্রুতি হিসেবে চাষের জমি শুকিয়ে যাওয়া অথবা ক্ষয়ের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পায়৷ জমি বেশি চাষ করার দরকার হয় না বলে চাষিদের ডিজেলের খরচ বাঁচে, অথচ আরো বেশি ফসল হয়৷ এটা নাকি সারা বিশ্বে করা সম্ভব৷ ফন ব্রাউন-এর মতে, ‘‘চাষিরা যাতে টেকসইভাবে জমি ব্যবহার করেন, সেজন্য তাদের প্রেরণা দরকার৷ সেই প্রেরণা হবে জমির দীর্ঘমেয়াদি ইজারা অথবা সরাসরি মালিকানা৷ এছাড়া তারা যে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সুরক্ষার জন্য কাজ করছেন, পানির অপব্যবহার রোধ করছেন, সেজন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷''

জমি বা মাটি হলো এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ, যা নিয়ে মানুষ সবচেয়ে কম মাথা ঘামায়৷ এখন জমির অবনতির বিরুদ্ধে কিছু একটা করার সময় এসেছে, নয়ত পৃথিবীতে দারিদ্র্য বাড়বে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আরো সমস্যাকর হয়ে দাঁড়াবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন