যে কারণে দুই বাংলায় দুইদিনে পহেলা বৈশাখ | আলাপ | DW | 16.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

যে কারণে দুই বাংলায় দুইদিনে পহেলা বৈশাখ

১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ৷ আর ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে৷ এই বিভাজিত পহেলা বৈশাখ নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে ঢাকার বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক ফরহাদ খান এবং কলকাতার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শঙ্করলাল ভট্টাচার্যের আলোচনা৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে ১৪ এপ্রিল ধরে রাখার কী কারণ?

ফরহাদ খান: অবিভক্ত বঙ্গদেশে নবদ্বীপের পণ্ডিত স্মার্ত রঘুনন্দন বাংলা পঞ্জিকা সংস্করণ করেন৷ এরপর ১৮৬৯ সালে আবারও সংস্করণ হয়৷ পরে সেটা মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত হয়৷ এরপর ১৮৯০ সালে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পঞ্জিকার প্রকাশ চলতে থাকে৷ ১৯৫২ সালে মেঘনাদ সাহাকে ভারত সরকার পঞ্জিকা সংস্কারের দায়িত্ব দেন৷ তিনিই শকাব্দ সংস্কার করেন৷ সেই শকাব্দ অনুযায়ী পয়লা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল৷ মেঘনাদ সাহার এই সংস্কার বাংলাদেশেও ব্যাপক নাড়া দিয়েছিল৷ ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি ড. শহীদুল্লাকে সভাপতি করে পঞ্জিকা সংস্কার শুরু করে৷ আগে ৩০, ৩১, ৩২ দিন ছিল৷ তারপর ঠিক হয়, প্রথম ৫ মাস ৩১ দিনের, বাকি ৭ মাস ৩০ দিনের হবে৷ এরপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে আবারো পঞ্জিকা সংস্কার করা হয়৷

অডিও শুনুন 17:48

‘হিজরী সন ৯৬৩ কে ধরেই শুরু হয়েছিল বঙ্গাব্দের হিসেব, চালু হয়েছিল ফসলি সন হিসেবে’

সেই পঞ্জিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত৷ এতে বৈশাখ থেকে ভাদ্র হলো ৩১ দিনে, আশ্বিন থেকে চৈত্র হলো ৩০ দিনে আর খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারের লিপ ইয়ারে ফাল্গুন মাস ৩১ দিনের হবে৷ অর্থাৎ যে বছর খ্রিষ্টীয় সনে লিপ ইয়ার, সে বছর বাংলা সনেও লিপ ইয়ার৷এ সংস্কারের ব্যাপারটি যখন আনা হয়, তখন আমাদের গৌরবময় মাস, আমাদের শোকের মাস, আমাদের বিজয়ের মাস, ১৯৭১ সালকে মনে রাখা হয়েছিল৷ ১৯৭১ সালে আমাদের যেমন ১৬ই ডিসেম্বর,২৬শে মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারি – এর যে প্রতিসঙ্গী খ্রিষ্টীয় সবের দিনগুলো, সেগুলোকে এক রাখার জন্যই বাংলা একাডেমি এই সংস্কারটা করে৷ এতে এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, সরকারি পঞ্জিকা অনুসারে ২১শে ফেব্রুয়ারি হলো ৯ই ফাল্গুন, ২৬শে মার্চ হলো ১২ই চৈত্র এবং ১৬ই ডিসেম্বর হলো ২রা পৌষ৷ এর কোনোদিন এর হেরফের হবে না৷

পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের কোনো সংস্কার শুরু হয়েছিল? বাংলাদেশের নববর্ষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার কোনো চেষ্টা কি হয়েছিল?

শঙ্করলাল ভট্টাচার্য: মেঘনাদ সাহার সময়েই একবার পঞ্জিকা সংস্কার হয়েছিল৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পরিবার থেকেই পঞ্জিকা সংকলিত হয়েছে৷ ঘটনাচক্রে যুগের সাথে পঞ্জিকা দর্শন বা পঞ্জিকা বিচার আস্তে আস্তে ফুরিয়ে এসেছিল৷ তার সঙ্গে ৬৭ সালে বামপন্থা যুগের সাথে মিলেমিশে গিয়েছিল৷ বিবর্তনের ফলে বিয়েশাদী বা পুজোর দিনক্ষণে শুধু পঞ্জিকা দেখা হতো৷

বাংলাদেশে নিয়মিত ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পালিত হয়৷ আর পশ্চিমবঙ্গে কখনও ১৫ এপ্রিল বা কখনও ১৪ এপ্রিল পালিত হয়৷ একইদিনে পালন করার ইচ্ছে কি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের হয় না?

শঙ্করলাল ভট্টাচার্য: বিভাজন শুধু কাঁটাতারের নয়৷ বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য বইটিতে আহমেদ শরীফ সাহেব বলেছেন, এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থে মধ্য ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখা হয়নি৷ কারণ মুসলিম রচিত বাংলা সাহিত্য নিয়ে যথেষ্ট জিজ্ঞাসু হননি কলকাতার লেখকরা৷ ফলে বিভাজনটা রয়ে গেছে চেতনাতেও৷ সারাবার চেষ্টাও করছি না আমরা৷

ফরহাদ খান: বাংলাদেশে কিন্তু দু'টো পঞ্জিকাই চালু আছে৷ মেঘনাদ সাহা ধর্মীয় পঞ্জিকা চালু করার কথা বলেছিলেন৷ সেটা তিনি পারেননি৷ বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিমদের ধর্মাচরণের পার্থক্য আছে৷ বাঙালি হিন্দুদের তিথি, নক্ষত্র, দণ্ড, পল – এ সব হিসেব করতে হয়৷ এখন যে সন বাংলাদেশ ব্যবহার করছে, তাতে হিন্দুদের ধর্মাচরণে অসুবিধা আছে৷ তাই এখানে সমান্তরালে ধর্মীয় ক্যালেন্ডারও আছে৷ বাংলা সন একইসাথে চান্দ্রেয় সন এবং সৌরসন৷ বাংলাদেশের জন্য দরকার ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক ধর্ম নিরপেক্ষ উৎসবের এবং দিনের৷ পয়লা বৈশাখকে সেভাবেই দেখা হয়েছে৷ সবাই এদিন অংশগ্রহণ করেন৷

বাংলা সন শুরুর ইতিহাসটা একটু বলুন...

ফরহাদ খান: বঙ্গাব্দ চালু হয়েছিল ফসলি সন হিসেবে৷ যে বছর সম্রাট আকবর সিংহাসনে বসেন, সে বছরই শুরু হয়েছিল, ১৫৫৬ থেকে৷ হিসেব করা হয়েছিল হিজরী সন ধরে৷ হিজরী সন ৯৬৩ কে ধরেই শুরু হয়েছিল বঙ্গাব্দের হিসেব৷

বাঙালির জন্য পয়লা বৈশাখ উদযাপন কি এখনও জরুরি?

ফরহাদ খান: বাংলাদেশের জন্য বাঙালির জন্য একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দিনের খুব প্রয়োজন৷ যে দিনটিতে সব ধর্মের মানুষ একই রঙে রং মেলাতে পারেন৷ শোক এবং রক্তঝরা ইতিহাসে বাংলাদেশের বাঙালির চেতনায় শোক শক্তিতে এবং শক্তি উৎসবে পরিণত হয়েছে৷ তাই পয়লা বৈশাখ উৎসবে পরিণত হয়েছে৷ একইরকমভাবে ২১ ফেব্রুয়ারির বইমেলাও উৎসবে পরিণত হয়েছে৷

শঙ্করলাল ভট্টাচার্য: আকবরী জমানা থেকে বর্ষবিচার শুরু হওয়ায় আর্থিক যোগ ছিল প্রথম থেকেই৷ ধর্মের যোগ আসেনি৷ কলকাতায় হালখাতা বলে উদযাপন করা হয়৷ সব জায়গায় দোকানিরা খেরোর খাতা নিয়ে গিয়ে কালীঘাটে পুজো দেয়৷ অর্থভাগ্য ভালো হওয়ার জন্য আবার মন্দিরে যাওয়া শুরু হল৷ পয়লা বৈশাখে কোনো হিন্দুয়ানিও নেই, আবার ইসলামি সংস্পর্শও নেই৷ এটা বঙ্গের কালচার৷ তবে কলকাতার বইপাড়ায় আগে যে উদযাপন হত বই ও পত্রিকা প্রকাশ করে, এখন সেটা আয়েসি এবং একঘেঁয়ে ভোগীচেহারা হয়ে গেছে৷ অনেকটা ক্যালেন্ডার উদযাপন বলা যেতে পারে৷ সে তুলনায় বাংলাদেশের চেহারা অনেকটাই আলাদা যে তাতে সন্দেহ নেই৷ তবে বলতে হবে এই বিতর্ক থাকবেই৷ চলতে থাকবে ১৪ এপ্রিল ও ১৫ এপ্রিল নববর্ষ উদযাপন৷      

সাক্ষাৎকারটি ২০০৬ সালে নেয়া...

সাক্ষাৎকার: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

অনুলিখন: পায়েল সামন্ত

পুরো আলোচনাটি শুনুন অডিওতে৷ কেমন লাগলো লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন