যে আলোকচিত্রীর কাছে ফ্যাশন একটি জীবনদর্শন | অন্বেষণ | DW | 26.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

যে আলোকচিত্রীর কাছে ফ্যাশন একটি জীবনদর্শন

ফ্যাশন ফটোগ্রাফির জগতে বিপ্লব এনেছিলেন জার্মান আলোকচিত্রী এফ সি গুন্ডলাখ পঞ্চাশের দশকে৷ আজ ৯১ বছর বয়সেও নিজের তোলা আলোকচিত্রের প্রদর্শনী পরিচালনা করে থাকেন এই কালজয়ী শিল্পী, যার কাছে ফ্যাশন একটি জীবনদর্শন৷

এগারো তলা জুড়ে পঞ্চাশ আর ষাটের দশকের ফ্যাশন ফটোগ্রাফি৷ আলোকচিত্রীর নাম এফ সি গুন্ডলাখ, জাতিতে জার্মান৷ ৯১ বছর বয়সি গুন্ডলাখকে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সুপরিচিত আলোকচিত্র শিল্পীদের মধ্যে ফেলা চলে৷

কিউরেটর ভ্যার্নার  লিপার্ট বললেন, ‘‘এফ সি গুন্ডলাখ খুব ভালো মেজাজের মানুষ, কিন্তু অন্যদিকে খুব কড়া৷ উনি চান যে, প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি সঠিক হবে; উনি যা চান, তা সঙ্গে সঙ্গে করা না হলে, উনি খুব অসহিষ্ণু হয়ে পড়তে পারেন৷ সুদীর্ঘ জীবনে উনি স্বভাবতই বহু জায়গায় গেছেন, লক্ষ লক্ষ মাইল প্লেনে বসে কাটিয়েছেন৷''

গুন্ডলাখ তাঁর মডেলদের দূর-দূরান্তে, পৃথিবীর কোণায় কোণায় নিয়ে গেছেন৷ এভাবে তিনি স্বদেশের মানুষদের সীমিত জীবনে অসীমের ছোঁয়া এনে দিয়েছেন৷

লিপার্ট জানালেন, ‘‘উনি নিজেই বলেন যে, ফ্যাশন ফটোগ্রাফি আসলে সমাজের স্বপ্নের একটা প্রতিফলন৷ জার্মানির মহিলাদের কল্পনাতেও যা তখনো আসেনি, গুন্ডলাখ তার ছবি তুলে তাদের দেখিয়েছেন: পিরামিডের সামনে বেদিং ক্যাপ, অথবা কম্বোডিয়ার পটভূমিতে তোলা ছবি৷ জার্মানরা এমন সব ছবি এর আগে কখনো দেখেননি; ‘ব্রিগিটে' বা ‘কনস্টানৎসে' বা ‘ফিল্ম উন্ড ফুঙ্ক'-এর মতো পত্রিকাও যে বিনা বাক্যব্যয়ে তা মেনে নিয়েছে, এমন নয়৷''

কেননা গুন্ডলাখের দক্ষিণ অ্যামেরিকা বা উত্তর আফ্রিকায় তোলা ফ্যাশনের ছবি বা যাত্রাকাহিনির একটা অদ্ভুত নিজস্বতা ছিল৷ তাঁর মডেলরা সবাই ‘কুল', ক্যাজুয়াল এবং পরমাসুন্দরী – সব মিলিয়ে একটা আকর্ষণীয় লাইফস্টাইল৷

ভিডিও দেখুন 03:49
এখন লাইভ
03:49 মিনিট

৯১ বছরের জার্মান ফটোগ্রাফারের গল্প

সেই সময়

লিপার্ট বললেন, ‘‘পঞ্চাশের দশকের কথা মনে করতে হবে৷ আমাদের মা বা দিদিমারা তখন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে ব্যস্ত, ফ্যাশন নিয়ে ভাববার সময় নেই৷ তখন এ ধরনের ফ্যাশন ফটোগ্রাফি খুবই চিত্তাকর্ষক ছিল, মডেলরা ছিলেন সব মহিলার আদর্শ, ছবির নীচে তাদের নাম লেখা থাকত৷ মডেলরা সবাই ছিলেন বিখ্যাত, এমনকি গ্রীষ্মের গরমে যে ভারী চামড়ার ওভারকোটগুলো পরতে হত, সেগুলো পারিশ্রমিক হিসেবে বাড়ি নিয়ে যেতে পারতেন৷ ঠিক আজকের মতো ছিল না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

গুন্ডলাখের জন্ম ১৯২৬ সালে৷ দশ বছর বয়সে ছবি তোলার হাতেখড়ি৷ এই ছবিগুলো তখন টাইমার দিয়ে তুলেছিলেন৷

চল্লিশের দশকের শেষে আলোকচিত্রী হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর গুন্ডলাখ ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে আসেন৷ মডেলদের পোজ আর ছবি তোলার উদ্ভুটে লোকেশান কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ফ্যাশন ফটোগ্রাফির তারকায় পরিণত করে৷ তাঁর ছবিতে যেন ‘সাইটগাইস্ট' বা যুগচেতনা ধরা পড়েছে৷ গুন্ডলাখের আলোকচিত্র আজ সংস্কৃতির ইতিহাসের অঙ্গ৷

আজ পর্যন্ত গুন্ডলাখ সক্রিয় এবং বিভিন্ন প্রদর্শনীর দেখাশোনা করে থাকেন৷ এই ব্যাপক আলোকচিত্র সংগ্রহের শিল্পী হিসেবেই হোক, আর কিউরেটর হিসেবেই হোক, ফ্যাশন তাঁর কাছে শুধু ফ্যাশন নয় – ফ্যাশন তাঁর কাছে একটা জীবনদর্শনও বটে৷

গুন্ডলাখ বলেন, ‘‘ফ্যাশন মানে শুধু জামাকাপড় নয়৷ ফ্যাশন প্রতিটি মানুষের জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ৷ প্রতিদিন সকালে আমাদের ঠিক করে নিতে হয়, আজ আমরা কী পরব৷ যে রংটা বেছে নিই, তা থেকে বোঝা যায়, আমাদের মনের অবস্থা আজ কেমন৷ এভাবেই মানুষ আর মানুষের মধ্যে নির্বাক কথোপকথন চলে৷''

‘ভার্টিক্যাল গালারি'-তে গুন্ডলাখের ফ্যাশন ফটোগ্রাফির প্রদর্শনী চলছে এপ্রিল মাসের সূচনা অবধি৷ চাইলে ছবিগুলো কেনাও গিয়েছে: এক একটি ছবির দাম ছিল ৩,০০০ থেকে ১৫,০০০ ইউরোর মধ্যে৷

নোরা শুস্টার/এসি

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন