যে আফগানের বিতাড়ন ঠেকাতে চেয়েছিলেন সুইডিশ তরুণী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 27.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

শরণার্থী সংকট

যে আফগানের বিতাড়ন ঠেকাতে চেয়েছিলেন সুইডিশ তরুণী

সম্প্রতি এলিন এরসন নামে সুইডিশ এক তরুণীর ফেসবুক লাইভ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ দুই আফগান নাগরিককে সুইডেন থেকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া ঠেকাতে অভিনব এক প্রতিবাদ করেছিলেন ঐ তরুণী৷

বিমান ছাড়ার আগ মুহূর্তে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে যান এবং বলতে থাকেন বিমানে থাকা আফগানদের নামিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তিনি বসবেন না৷ উল্লেখ্য, নিয়ম অনুযায়ী বিমানের সব যাত্রী বসে সিটবেল্ট না বাঁধা পর্যন্ত বিমান যাত্রা শুরু করতে পারে না৷

পুরো ঘটনাটি ফেসবুক লাইভে শেয়ার করেন এরসন৷ তাঁর প্রতিবাদের কারণে বিমানে থাকা এক আফগান নাগরিককে নামিয়ে আনা হয়৷ সেই সঙ্গে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল এরসনকেও৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সুইডিশ এই তরুণী অবশ্য দু'জন আফগান নাগরিকের বিতাড়ন ঠেকানোর পরিকল্পনা করেছিলেন৷ এদের একজনের বয়স ৫০-এর মতো, আরেকজন ২৬ বছর বয়সি ইসমাইল খাওয়ারি৷ তবে বিমানে শুধু ৫০ বছর বয়সি ব্যক্তিটি ছিলেন, ইসমাইল খাওয়ারি ছিলেন না৷

জানা গেছে, খাওয়ারির মা ও দুই বোন সুইডেনে থাকেন৷ তাঁরাই খাওয়ারির বিতাড়ন ঠেকাতে এরসনের সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন৷ এরসন ও তাঁর সহকর্মীরা খবর পেয়েছিলেন যে, দুই আফগান ব্যক্তিকে গথেনবুর্গ বিমানবন্দর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে প্রথমে ইসতান্বুল, পরে কাবুল পাঠানো হবে৷ সেজন্য এরসন ঐ ফ্লাইটের টিকিট কেটেছিলেন৷ কিন্তু পরে জানা যায়, ইসমাইল খাওয়ারি ঐ ফ্লাইটে ছিলেন না৷ তাঁকে পরদিন স্টকহোম থেকে কাবুল পাঠানো হয়৷

২৬ বছর বয়সি ইসমাইল খাওয়ারি কাবুলে কাউকে চেনেন না৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, তিনি আফগানিস্তানে জন্মেছেন, কিন্তু কোথায় তা জানেন না৷ কারণ ছয় বছর বয়সে পরিবারসহ তিনি ইরানে পালিয়ে যান৷ সেখানে ছিলেন ২০ বছর৷ এরপর সুইডেনে চলে যান৷ সেখানে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন তিনবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে৷ এরপর তিনি জার্মানিতেও এসেছিলেন৷ কিন্তু সুবিধা হবে না ভেবে আবারও সুইডেন ফিরে গিয়েছিলেন৷ সেখানেই বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ৷ এরপর শেষ আটমাস ধরে ছিলেন একটি বিতাড়ন কেন্দ্রে৷ সেখানে আশ্রয় পাওয়াদের সঙ্গে গরুর মতো ব্যবহার করা হতো বলে ডয়চে ভেলেকে জানান ইসমাইল খাওয়ারি৷

কাবুলে কাউকে চেনেন না বলে এখন কোথায় যাবেন তা জানেন না তিনি৷

কাবুলে পৌঁছানোর পর এলিন এরসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পারেন ইসমাইল খাওয়ারি৷ তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও তাঁর উদ্যোগের জন্য এরসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি৷

আব্দুল বারি হাকিম/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন