যেভাবে বাঁচানো হলো ১৬ হাজার গাছ | বিশ্ব | DW | 11.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

যেভাবে বাঁচানো হলো ১৬ হাজার গাছ

মাত্র দু-‌একজন এগিয়ে এসে লড়াইয়ের সূচনা করেছিলেন৷ তারপর একে একে যুক্ত হয়েছেন বহু মানুষ৷ মাঝে এসে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার৷তবে শেষমেশ জয় এসেছে৷ রক্ষা করা গেছে ১৬ হাজার গাছ৷

মাস দুয়েক আগে গাড়ি চালিয়ে নিজের দপ্তরে যাওয়ার পথে পঞ্চাষোর্ধ সাংবাদিক রোশন গৌরের চোখে পড়ল কারা যেন বড়বড় গাছের ডাল কাটছে৷ গাড়ি দাঁড় করিয়ে কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করলেন৷ তারপর যা বোঝার বুঝে সোজা অফিসে গিয়ে তদন্ত শুরু করলেন হিন্দি দৈনিকের সেই সাংবাদিক৷ সবকিছু জলের মতো পরিস্কার হতেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রতিবাদ জানালেন৷ পথে নামার ডাক দিলেন৷ সেটা ছিল একেবারে গোড়ার দিক৷

বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর দিল্লিকে বাঁচাতে হলে গাছ বাঁচানো যে স র্বপ্রথম কর্তব্য, তা নিয়ে কারও মনে সংশয় নেই৷ তাই গাছ কাটা রোখার জন্য জনা কয়েক জড়োহতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়নি৷ আন্দোলন বলতে প্রথমে ছিল ১০-‌১২ জনের জমায়েত৷ তারপর কিদওয়াই নগর এলাকায় জনা পঞ্চাশেক মানুষের পদযাত্রা৷ এরপর ক্রমে পোস্টার, ব্যানার৷ তারপর মানুষের ঢল৷ গাছকে আঁকড়ে ধরে গাছ কাটার প্রতিবাদ৷ এরই মধ্যে এদিক-‌ওদিক থেকে কিছু গাছ কেটে ফেলার খবর এসেছে৷ দিল্লি পুলিশ গাছ কাটার ছবি লুকানোর চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু, প্রাণদায়ী গাছ রক্ষার্থে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত লড়াইয়ের কাছে মাথা নত করতে হয়েছে সরকারকে৷ দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের গাছ কাটার নির্দেশিকা কার, তাই নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলেও কেজরিওয়াল সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে৷ তারা দিল্লির উপ-‌রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে জানায়, ‘‘‌গাছ কাটার বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো৷''‌ ব্যাস, জনতার চাপ আন্দাজ করে সেই বিজ্ঞপ্তিতে সই করে দেন৷‌ এর পেছনে রয়েছে ক'‌দিন আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আম আদমি পার্টির সরকারকে অধিকারের ফল৷ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, দিল্লি পূর্ণ রাজ্য না হলেও সেখানকার নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য উপ-‌রাজ্যপাল৷ সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশকেই হাতিয়ার করেছে কেজরিওয়াল সরকার৷ যার ফলে আপাতত রক্ষা পেয়েছে ১৬০০০ গাছ৷ সাম্প্রতিক অতীতে ভারতে কোনও আন্দোলনের এমন হাতেনাতে ফল মিলেছে বলে কারও মনে পড়ছে না৷

দক্ষিণ দিল্লির যেখানে যেখানে গাছ কাটার কথা ছিল — নৌরোজি নগর-‌ ১৪৬৫, নেতাজি নগর-‌ ২৪৯০, পূর্ব কিদওয়াই নগর- ‌১১৬৭, সরোজিনী নগর-‌ ১১০০০, মহম্মদপুর-‌ ৪৪৭ এবং ত্যাগরাজ নগর-‌ ১০০, প্রতিটি জায়গাতেই কেটে নেওয়া গাছের ১০ গুণ বেশি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল সরকারি দুই সংস্থা এনবিসিসি এবং সিপিডাব্লিউডি৷ আগেই ‘‌ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল'‌ ১৯ জুলাই পর্যন্ত গাছ কাটায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল৷ তার আগে ৪ জুলাই পর্যন্ত গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল দিল্লি হাইকোর্টও৷ কিন্তু সেগুলো ছিল সাময়িক৷ যার ফলে দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম ছুটেছিল পথে নেমে আন্দোলনরত প্রকৃতিপ্রেমীদের৷ এখন সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি বাতিল হওয়ায় স্তস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন তাঁরা৷

অডিও শুনুন 02:36

বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর দিল্লিকে বাঁচাতে হলে গাছ বাঁচানো সর্বপ্রথম কর্তব্য

‘‌‘‌এটা কোনো ছোট সফলতা নয়৷ সরকার যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা করেই ছাড়ে৷ এক্ষেত্রে ছোট্ট একটা আগুন জ্বলে উঠেছিল৷ শেষমেশ জনমতের কাছে সরকারকে নতি স্বীকার করতে হলো৷ গাছ কাটা নিয়ে দিল্লি ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্বের মাঝে দিল্লি সরকার তাদের অনুমতি ফিরিয়ে নিয়েছে৷ এরপর এনবিসি‌ও তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে৷ এবার বেশি সংখ্যক গাছ বাঁচিয়ে নতুন ‘‌ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'‌ তৈরির কথা বলা হচ্ছে৷ তবে নৌরোজি নগর ও কিদওয়াই নগরে গাছ কাটার পর নতুন গাছ লাগানোর যে তত্ত্ব খাড়া করা হয়েছে, তা চোখে দেখলে বোঝা যায় কতবড় ভাঁওতা৷ কিছু ফুলগাছ লাগিয়ে বড় গাছের মোকাবিলা কীভাবে সম্ভব?‌'‌'‌

বাতিল হয়েছে গাছ কাটার পরিকল্পনা৷ দিল্লির প্রথম ‘‌ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'‌ তৈরি পরিকল্পনার নকশায় উপযুক্ত পরিবর্তন করা হচ্ছে৷ দেখা হবে, যথা সম্ভব গাছ বাঁচিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা যায় কিভাবে৷ দিল্লির বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ সামাজিক প্রচারমাধ্যম টুইটারে এই খবর ‘‌ব্রেক'‌ ‌করেন৷ সেটি রি-‌টুইট করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ কিন্তু, সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে ইতিমধ্যেই নৌরোজি নগর ও নেতাজি নগর এলাকায় প্রায় ৩০০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ৷ যার মধ্যে ৫০-‌৬০ বছরের পুরোনো গাছও রয়েছে৷ দিল্লি সকারের পক্ষে বিজ্ঞপ্তি বাতিলের নির্দেশিকায় এনবিসি'র বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন আম আদমি পার্টি ‌সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী ইমরান হুসেন৷ সেইসঙ্গে দিল্লি জুড়ে বিপুল সংখ্যক গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন