‘‘যুদ্ধ কোরো না, বিয়ে করো’’ | বিশ্ব | DW | 25.04.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘যুদ্ধ কোরো না, বিয়ে করো’’

১৯৪৩ সালের লেবাননের জাতীয় চুক্তি অনুযায়ী, সংসদে খ্রিস্টানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়া হয়েছে৷ প্রেসিডেন্টকে হতে হবে ম্যারোনাইট খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রী হবেন সুন্নি মুসলমান এবং সংসদ স্পীকারকে হতে হবে শিয়া মুসলমান৷

default

লেবাননের দ্রুজ সম্প্রদায়ের মেয়েরা

সাম্প্রদায়িকতা নয়, সম্প্রীতির দাবিতে রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের রাস্তায় নেমেছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ৷ লেবাননের রাজনীতি, চাকরি, পারিবারিক স্ট্যাটাস সব কিছুতেই রয়েছে সাম্প্রদায়িকতার ছোঁয়া৷ তারই বিরোধিতায় এক অদ্ভুত ব্যানার ছিল তাদের হাতে, ''যুদ্ধ কোরো না, বিয়ে করো''৷

এ এক অদ্ভূত দৃশ্য৷ যাদের হাতে এই ব্যানারটি শোভা পাচ্ছিল, তাদের অধিকাংশই সুশিক্ষিত তরুণ৷ ইন্টারনেট সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটের প্রচারণায় যোগ দিতেই একত্রিত হয়েছিলেন তারা বৈরুতের রাস্তায়৷ সম্প্রীতির পক্ষে এই ধরনের বিক্ষোভ বৈরুতে এই প্রথম দেখা গেলো৷ প্রতিবাদকারীদের অনেকেই পরেছিলেন সাদা টি -শার্ট৷ টি-শার্ট এর সামনে লেখা ছিল ''তোমার ধর্ম কি?'' আর পেছনে লেখা ছিল, ''তা নিয়ে তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না৷''

Parade Weihnachtsmann Beirut Libanon Flash-Galerie

বৈরুতে সান্তাক্লজ

লেবাননের ৫০ লাখ মানুষ ১৮টি সম্প্রদায়ে বিভক্ত৷ ১৯৪৩ সালের লেবাননের জাতীয় চুক্তি অনুযায়ী, সংসদে খ্রিস্টানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়া হয়েছে৷ প্রেসিডেন্টকে হতে হবে ম্যারোনাইট খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রী হবেন সুন্নি মুসলমান এবং সংসদ স্পীকারকে হতে হবে শিয়া মুসলমান৷

প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজকদের একজন কিনডা হাসান৷ তিনি বলেন, বছরের কোটা পূরণ না করা পর্যন্ত লেবানন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে পুরো সময়ের জন্যে ডাকা হয় না৷ এই রকম একটা দেশে আমরা থাকতে পারি না৷ তিনি আরো বলেন, মেধার ভিত্তিতে নয়, এখানে মন্ত্রীদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চেয়ার ভাগাভাগি হয়৷

৬২ বছরের আমান মাকুক,অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা৷ প্রতিবাদ বিক্ষোভে তিনিও ছিলেন তরুণদের পাশাপাশি৷ তিনি বলেন, তিনিও একই প্রশ্ন তোলেন, কেন প্রেসিডেন্টকে ম্যারোনাইট হতে হবে? তিনি মুসলমান হতে পারেন, হতে পারেন দ্রুজ, যে কোন সম্প্রদায়ের৷এই ধরনের ব্যবস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বরং এই ধরনের ব্যবস্থা মানুষের মানসিকতায় জোর করে চেপে বসছে৷ আসলে আমাদের এতো কিছুর প্রয়োজন নেই৷

১৯ বছরের ছাত্রী সারা বলেন, সাম্প্রদায়িকতা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে, যা আসলে এক অসুস্থ ব্যাপার৷ প্রতিবাদকারীদের সংসদ পর্যন্ত যেতে বাধা দেয় পুলিশ৷

প্রতিবেদক: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা:অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়