যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান মিলি রহমান | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.03.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সমাজ সংস্কৃতি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান মিলি রহমান

মতিউর রহমান ছোটবেলা থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন৷ তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন তিনি৷ সেসময় নরসিংদিতে নিজের এলাকার মানুষদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এই সেনা৷

default

কিন্তু একসময় মতিউর রহমান মনে করলেন, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে একটি বিমান বড় প্রয়োজন৷ সেই চিন্তা থেকেই ফিরে গেলেন কর্মস্থলে, করাচিতে৷ এরপর একটি জঙ্গি বিমান দখল করে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষায় থাকলেন মতিউর৷ ২০ আগস্ট আসল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, করাচির মৌরিপুর বিমান ঘাঁটি থেকে একটি জঙ্গি বিমান নিয়ে উড়াল দিলেন এই সাহসী সেনা৷

সেদিন সকালে স্ত্রী মিলি রহমান বিদায় জানাতে পারেননি মতিউরকে৷ মিলির জন্য তা ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা৷ আজ চল্লিশ বছর পরও তাই সেদিনের ঘটনার ব্যাখ্যা খোঁজেন এই নারী৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, আমি সেদিন (২০ আগস্ট) তাকে খোদা হাফেজ বলতে পারিনি, যা আমি নিয়মিত বলতাম৷ আমি খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম এই নিয়ে৷

বিমান দখল, উড়াল

চরম সাহসিকতার সঙ্গে জঙ্গি বিমান দখলে সফল হলেও শেষ অবধি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেননি মতিউর৷ ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় তাঁর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়৷ মতিউরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বিস্ফোরণ স্থলের আধা মাইল দূর থেকে৷ মিলি ২০ আগস্ট দুপুরেই বুঝতে পরেছিলেন, তাঁর স্বামী জঙ্গি বিমান দখলে সফল হয়েছে৷ কিন্তু তখনও জানতেন না, তাঁর স্বামী শহীদ হয়েছে৷ এই ঘটনার পর মিলিকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা৷ তিনি বলেন, ২০ তারিখ সারা দিন গেল, ২১ তারিখ সারাদিন গেল, সন্ধ্যার সময় আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো এবং আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো তাঁর দেহাবশেষ দেখানোর জন্য, মর্গে৷

মিলির দেশে ফেরা

মিলি জানান, আটক অবস্থায় পাকিস্তানিরা তাঁর উপর মানসিক নির্যাতন চালায়৷ একটি অন্ধকার কুঠুরিতে তাকে বন্দি করে রাখে দিনের পর দিন৷ এভাবে মানসিক নির্যাতন আর জেরার পর একসময় ছাড়া পান মিলি৷ সন্তানসহ ফিরে আসেন বাংলাদেশে৷ তাঁর কথায়, ২৩ দিন একটা কালো ছোট কুঠরিতে বন্দি ছিলাম৷ প্রতিদিন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ এক পর্যায়ে তারা হয়তো যা চেয়েছিল তা পেয়ে যায়৷ ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারা আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়৷

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানকে৷ কিন্তু তাঁর সমাধি থেকে যায় পাকিস্তানে৷ একাত্তর পরবর্তী সময়ে মিলি রহমান চেষ্টা করেন মতিউর রহমান এর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে৷ ২০০৬ সালের জুন মাসে তাঁর দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়৷ এরপর মতিউর রহমানকে পূর্ণ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়৷

যুদ্ধাপরাধের বিচার

বর্তমানে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন মিলি রহমান৷ তাঁর এখন একটাই চাওয়া, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার৷ দেরিতে হলেও সেই বিচার হবে এমনটা প্রত্যাশা এই মহীয়সী নারীর৷ তিনি বলেন, ঐ যে দালাল আইনটা তুলে দিয়ে সমস্ত রাজাকারকে ছেড়ে দেওয়া হলো, সেটাতেই আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেল সবচেয়ে বেশি৷ এর ফলে আমরা রাজাকারদের পুর্নপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিলাম৷ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আজকে তারা এই পর্যায়ে আসছে৷

তিনি বলেন, আমরা এখনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারিনি৷ শুধুমাত্র তাদের কারণে৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

বিজ্ঞাপন