যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় রক্ষাকর্তা এবার ‘ক্যাটম্যান′ | বিশ্ব | DW | 08.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সিরিয়া

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় রক্ষাকর্তা এবার ‘ক্যাটম্যান'

‘ব্যাটম্যান' বা ‘স্পাইডারম্যান'-এর মতো অতিমানবিক শক্তি তাঁর নেই৷ বেড়ালদের প্রতি সামান্য মানবিকতা দেখিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন ‘ক্যাটম্যান'৷ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় বেড়ালদের ঠিকানা এখন তাঁরই ‘ক্যাট স্যাংচুয়ারি'৷ 

‘কেয়ার অফ ক্যাটম্যান'

বিশ্বের দরবারে সিরিয়ার পরিস্থিতি অচেনা নেই৷ যুদ্ধের ফলে মানুষের করুণ এবং হতাশাজনক ছবি সংবাদমাধ্যমের দৌলতে প্রচারিত হয়েছে৷ নিপীড়িত মানবজীবনের কান্না ছাপিয়ে গেছে বিশ্বের সবকিছুই৷ এরই মধ্যে সিরিয়ার অবলা গৃহপালিত প্রাণীদের কথা চাপা পড়ে গেছে৷ বাস্তবিকই, মানুষ যেখানে নিজেই আর্ত, অসহায়, ভিটেহীন, সেখানে তার পোষ্যের খেয়াল রাখবে কীভাবে?

এই সিরিয়াতেই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিড়ালদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আলা-আল-জালিল৷ সিরিয়ার আলেপ্পোতে কাফর নাহা অঞ্চলে তিনি তাঁর ক্লিনিকে বেড়ালদের সেবা শুশ্রুষা করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষকে দয়া করতে চাইলে সবকিছুকেই দয়া করতে হয়৷''

৪৩ বছরের জালিল ‘আর্নেস্টোস ক্যাট স্যাংচুয়ারি' নামে বেড়ালদের একটি সেবাকেন্দ্র চালান৷ এখানে অসুস্থ এবং দুর্বল মার্জারদের সেবা করেন তিনি৷ পাশাপাশি পথে-ঘাটে যাদের দুবেলা খাবার জোটে না, সেই সমস্ত বেড়ালের সন্ধান এখানেই পাওয়া যাবে৷

ভালবাসাই মূলধন

নেহাত ভালোবাসা থেকেই তিনি এই বিনা লাভে স্বেচ্ছাশ্রম দেন৷ ছোটবেলা থেকেই বেড়ালের প্রতি তাঁর দুর্বার ভালোবাসা তাঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে৷ যুদ্ধ শুরুর সময় যখন সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল, তিনি ১৭০ টা বেড়ালকে ছেড়ে পালাতে পারেননি৷ তখন থেকেই সবাই তাঁকে আলেপ্পোর ‘ক্যাটম্যান' বলে চেনে৷

বেড়ালদের বাঁচাতে বদ্ধপরিকর জালিল ওরফে ক্যাটম্যানের অনেক ভক্তও জুটেছে৷ সোশ্যাল মিডিয়া বেড়েছে প্রচার৷    

সিরিয়ার যুদ্ধে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ মারা গিয়েছে৷ এবং তার থেকেও বেশি মানুষ গৃহহারা হয়েছে৷ একই অবস্থা গৃহপালিত জীবগুলিরও৷ এদের জন্যই জালিল তাঁর সেবাকেন্দ্রটি খুলেছেন৷ প্রথমে তিনি একটি অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র চালাতেন৷ পরে বন্ধুরা এবং সোস্যাল মিডিয়ার অনেক শুভানুধ্যায়ী মিলে টাকা জোগাড় করে এই ‘ক্যাট স্যাংচুয়ারি' প্রতিষ্ঠা করেছেন৷  শহরের ২২টি বেড়ালকে তাঁরা রক্ষাও করেছেন৷ এখানে বেড়ালরা যে শুধু আশ্রয় পায়, তা নয়, বরং তার থেকেও বেশি কিছু পায়৷ দুবেলা খাবার এবং সঙ্গে চিকিৎসাও৷

জালিলের ক্লিনিকে  বিনামূল্যে অনেক পশুরই চিকিৎসা করা হয়৷ তার মধ্যে ঘোড়া, গরু এবং মুরগিও আছে৷ এক বছরে তারা ৭ হাজার পশুর চিকিৎসা করেছেন৷

এই ক্লিনিক নিয়ে কী বলছেন স্থানীয়রা­­?

জালিলের এই সেবাকেন্দ্রেই নিজের বেড়ালটিকে নিয়ে এসেছিলেন মোহাম্মদ ওয়াতার৷ তাঁর পোষ্যটির খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়েছিল৷ লোকজন সকলেই জালিলের ক্লিনিকের কথা বলে৷ সেবাকেন্দ্র নিয়ে ওয়াতার বলেন, ‘‘আমি যেখানে বাস করি, সেখানে কোনও পশু চিকিৎসক নেই৷ কাজেই লোকজন যখন আমাকে এখানকার ঠিকানা দেয় , আমি বিনা বাক্যব্যয়ে চিকিৎসা করাতে চলে আসি৷ এই অঞ্চলে পশুদের জন্য আর তেমন কিছু নেই৷ এখানে এসে সত্যি খুব অবাক হয়েছি৷''

তিনি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, ‘‘এই যুদ্ধের সময়েও এরকমভাবে যে পশুদের চিকিৎসা করা যেতে পারে, ভাবা যায় না৷''

থামবে না ক্যাটম্যানের কাজ

সিরিয়ায় যুদ্ধের যা অবস্থা, তাতে এখনও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে ঢের বাকি৷ জালিলের চিকিৎসালয়টির দেয়ালে রয়েছে গুলির চিহ্ন৷ এখানে যুদ্ধে পীড়িত পশুদের সেবা করেন পশু চিকিৎসক মোহাম্মদ ইউসুফ৷ তিনি জানালেন, ‘‘যেভাবে যুদ্ধে মানুষের ক্ষতি হয়, একইরকমভাবে পশুদেরও ক্ষতি হয়৷ আমরা একটা লাগাতার যুদ্ধ লেগে থাকা এলাকায় থাকি৷ তাই আমাদের সব ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই৷ ফলে সব পশুই এখানে চিকিৎসা পাচ্ছে না৷'' তবে ইচ্ছা এবং চেষ্টায় তারা অনেকটা এগিয়ে বলে জানালেন তিনি৷

একটি সন্তানসম্ভবা অসুস্থ বেড়ালীকে জালিল উদ্ধার করে এখানে আনেন৷ তারপর ক্রমাগত তার আলট্রাসাউন্ড হয়েছে৷ ইউসুফ জানালেন, ‘‘সন্তান এবং মা উভয়কেই সুস্থ রাখা আমাদের দায়িত্ব৷ তাই ভ্রূণও পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হয়৷''

পিএস/এসিবি (এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন