যুদ্ধক্লান্ত ইরাকিরা এখন যুক্তরাষ্ট্র পানে | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 06.08.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

যুদ্ধক্লান্ত ইরাকিরা এখন যুক্তরাষ্ট্র পানে

যুদ্ধ শেষ হলেও ইরাকে সংঘাত আর সহিংসতার অবসান হয়নি৷ মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিনই৷ এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে অনেকে পাড়ি দিতে চাইছেন বিদেশে৷ আর এই ক্ষেত্রে তাঁদের প্রথম পছন্দ যুক্তরাষ্ট্র৷

default

অনেক ইরাকিই এখন পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে

আহমেদ আর এক মুহূর্ত থাকতে চাইছেন না ইরাকে৷ পারলে এখনি বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে ফেলেন৷ মৃত্যুভয় তাড়া করে ফিরছে তাঁকে৷ আহমেদের মতো এখন অনেক ইরাকি দেশ ছেড়ে যেতে চাইছেন৷ একে পালানোও বলা যায়৷ কিন্তু কী করা! পশ্চিমা একটি সংবাদ মাধ্যমের হয়ে কাজ করেন আহমেদ৷ এই জন্য তাঁকে সন্তানসহ মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা৷ আর এই রকম আতঙ্ক আছেন অনেকে৷ মুক্তির উপায় হিসেবে শরণার্থী হয়ে অ্যামেরিকায় আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা৷

আহমেদ বলেন, ‘‘চরমপন্থীরা আমাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছে, যদি আমি পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের চাকরি না ছাড়ি, তাহলে আমার রেহাই নেই৷'' দুই মেয়ে আর একটি ছেলের জনক আহমেদ প্রচণ্ড ভয়ে আছেন এখন৷ তাঁদের দুর্ভোগের শুরুটা হয় ২০৩ সালে৷ সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে- এই কথা বলে সে বছরই শুরু হয় অভিযান৷ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এতে শামিল হয় পশ্চিমা বিশ্ব৷ সাদ্দামকে উৎখাত করা হয়েছে, তবে সঙ্কটের অবসান হয়নি৷ আর গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অস্তিত্ব ছিলো, এমন প্রমাণও হাজির করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র৷

NO FLASH Clusterbombe Irak

সংঘাত আর সহিংসতার অবসান হয়নি ইরাকে...রাস্তার ধারে পড়ে থাকা এহেন ক্লাসটার বোমাই তার প্রমাণ

২০০৩ সালে শুরুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হয়েছে ঠিক, তবে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর সহিংসতা কমেনি একটুও৷ এমন কোনো দিন যাচ্ছে না, যেদিন ইরাকে বোমার বিস্ফোরণে কিংবা বন্দুকধারীর গুলিতে কেউ মারা যায়নি৷ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ঘরছাড়া প্রায় পাঁচ লাখ ইরাকি৷ তাঁদের সবাই যে বিদেশে, তা নয়৷ অনেকে জাতিসংঘ নিয়ন্ত্রিত শরণার্থী শিবিরেও আছেন অনেকে৷ একটা অংশ দেশেই নেই৷ পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের কোনো দেশে৷ আহমেদও ২০০৭ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিদেশে৷ এক বছর থেকে পুনরায় দেশে ফেরেন তিনি৷ মনে করেছিলেন, সব কিছু বুঝি ঠিক হয়ে গেছে৷ কিন্তু ফিরেই স্বপ্নভঙ্গ হয় তাঁর৷ এখন মনে হয়, ভুল করেছেন৷

প্রবাসে থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পছন্দ বেশিরভাগ ইরাকির৷ তবে সে প্রার্থী অনেক৷ তাই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি পারলে কাছের সিরিয়া কিংবা লেবাননে যেতে পারলেও বর্তে যান৷ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মার্ক স্টোরেলা বলেন, ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ইরাকির সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার৷ পরের বছর এই সংখ্যা ৫ হাজার বেড়ে যায়৷ ভিসা চেয়ে বসে আছেন অনেকে৷ তাই যাওয়ার অনুমিত পেতে অনেক সময় লাগে৷ তবুও আশা ছাড়ছেন না অনেকে৷ যুক্তরাষ্ট্রে স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে না সত্য, তবে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর আতঙ্ক তো কাটবে৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন