যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্ক কুয়াশাচ্ছন্ন আবহে ঢাকা: এর্দোয়ান | বিশ্ব | DW | 13.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্ক কুয়াশাচ্ছন্ন আবহে ঢাকা: এর্দোয়ান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ান৷ সিরিয়া ও রুশ মিসাইল সিস্টেমসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলবেন তাঁরা৷

ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়তে সিরিয়ার কুর্দিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র৷ কিন্তু কুর্দিদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখে থাকে তুরস্ক৷ কারণ তারা তুরস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে৷

সম্প্রতি কুর্দিদের একা করে দিয়ে সিরিয়া থেকে সৈন্য সরিয়ে নেন ট্রাম্প৷ এরপর কুর্দিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে তুরস্ক৷ যদিও হামলা না করতে এর্দোয়ানের কাছে চিঠি লিখেছিলেন ট্রাম্প৷ চিঠিতে অনুরোধের পাশাপাশি হামাল করলে তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷ কিন্তু এর্দোয়ান সেই চিঠি ‘ময়লার বাক্সে ফেলে দেন’ বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল৷ এবং ট্রাম্পের চিঠি পাওয়ার দিনই কুর্দিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছিল তুরস্ক

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের মধ্য থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল তুরস্ক৷ হামলা শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেন এর্দোয়ান৷ এর আওতায় হামলা বন্ধ করে তুরস্ক এখন রাশিয়ার সঙ্গে মিলে সীমান্ত এলাকা পাহারা দিচ্ছে৷

অর্থাৎ সিরিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কথা না শুনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট৷

সিরিয়ায় হামলার কারণে গত মাসে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে তুরস্কের বিরুদ্ধে একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পাস হয়েছে৷ তবে এটি কার্যকর হতে সেনেটের অনুমোদন লাগবে৷

এদিকে, ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ নামের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম কিনেছে৷ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর চাপ দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস৷

তুরস্ক এস-৪০০ ব্যবহার থেকে সরে না আসলে সে দেশের উপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও'ব্রায়ান৷ এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ট্রাম্প-এর্দোয়ান বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে৷

সিরিয়া, এস-৪০০ ছাড়াও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটাতে ভেনেজুয়েলাকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রের চক্ষুশূল হয়েছে তুরস্ক৷

ইরানের সঙ্গে তুরস্কের সুসম্পর্কও মার্কিন নীতির বিপরীত৷ সম্প্রতি তুরস্কের সরকারি হাল্কব্যাংকের বিরুদ্ধে ইরানের উপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে৷ দুই নেতার আলোচনায় এই বিষয়টিও উঠে আসতে পারে বলে জানা গেছে৷

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচিত হতে পারে৷ ২০১৬ সালে তুরস্কে এর্দোয়ানের বিরুদ্ধে যে অভ্যুত্থান হয়েছিল তার পেছনে গুলেনের হাত রয়েছে বলে আংকারা অভিযোগ করে থাকে৷

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে এর্দোয়ান দুই দেশের সম্পর্ক কুয়াশাচ্ছন্ন আবহে ঢাকা বলে মন্তব্য করেছেন৷ তবে সমস্যার সমাধান এবং দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তিনি৷

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর অ্যামেরিকান প্রোগ্রেসের এসোসিয়েট ডাইরেক্টর ম্যাক্স হফম্যান বলেন, এর্দোয়ান জানেন কোনো এক বিষয়ে ট্রাম্পের পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব থাকে এবং তিনি নিজেকে একজন ডিল-মেকার হিসেবে দেখতে চান৷ এই তথ্য কাজে লাগিয়ে এর্দোয়ান এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ করে বিভিন্ন বিষয়ে সুবিধা আদায়ে সফল হয়েছেন৷

চেজ ভিন্টার/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন