যুক্তরাষ্ট্র- ইরান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের নীরব কূটনীতি | বিশ্ব | DW | 10.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র- ইরান দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের নীরব কূটনীতি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নীরব কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছে৷ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সঙ্কটে পড়ে এমন কিছুও করবে না বাংলাদেশ৷ এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক কূটনীতিকরাও৷

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নীরব কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছে৷ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সঙ্কটে পড়ে এমন কিছুও করবে না বাংলাদেশ৷ এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক কূটনীতিকরাও৷

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর অস্থির হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য৷ তৈরি হয় যুদ্ধ পরিস্থিতি৷ পাল্টা জবাব দিতে এরইমধ্যে ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপনাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে তেহরান৷ তবে দুই পক্ষই বলছে তারা কেউ যুদ্ধ চায় না৷ 

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে বাংলাদেশও৷ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতে আমরা উদ্বিগ্ন৷ আমরা যুদ্ধ চাই না৷ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা উভয়পক্ষের সরকারকে আহ্বান জানাবো তারা যেন এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ থেকে সরে আসে৷''

তিনি  বলেন, ‘‘তারপও যদি যুদ্ধ লেগে যায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে৷ এই ধাক্কা বাংলাদেশেও লাগবে৷''

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে এরইমধ্যে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে৷'' তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘যদি বিশ্ব পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতা হয়, তাহলে দুশ্চিন্তা আছে৷'' বাংলাদেশে প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন৷ যে কারণে সরকার বিশ্বের সব জায়গায় স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায় বলে জানিয়েছেন তিনি৷

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্রধান ফারুক খান ডয়চে ভেলেকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমরা চাই কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের ওপর হামলা চালাবে না৷ প্রত্যেক দেশের নিজের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে থাকার অধিকার আছে৷ যে ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে ঘটেছে তা মধ্যপ্রাচ্যের জন্যেও ভালো নয়, বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যেও ভালো নয়৷ তাই উভয় পক্ষ আবেগের বশবর্তী না হয়ে বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আহ্বান জানাই৷''

মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের এক কোটি ২২ লাখ প্রবাসী কর্মী আছেন৷ তারা বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান৷ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বাংলাদেশে তেলের দাম, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য এই চারটি ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে৷

অডিও শুনুন 00:40

‘বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাই’

মধ্যপ্রাচ্যে সংকট আরো বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে৷ যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশকেও ক্ষতির মুখে ফেলবে৷ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নিয়ে আর্থিক দিক ছাড়াও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হবে৷ প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বাণিজ্যেও৷ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যে বড় ধরনের বিনিয়োগ আশা করছে বাংলাদেশ তাতে নেতিবাচক শংকা তৈরি হবে৷

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন দিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন নীরব কুটনীতি বা ‘সাইলেন্ট ডিপ্লোমেসি' অবলম্বন করছে৷ তাই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বাইরে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে কথা না বলার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে৷ তবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন চাইবে বাংলাদেশ৷ ঢাকা মনে করছে, এখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ নিতে হবে৷ দুই দেশের সাথেই চলমান সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের স্বার্থ যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় এমন অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে সরকার৷

বাংলাদেশের এই নীতিকে সঠিক বলে মনে করছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন৷ তিনি বলেন, ‘‘অ্যামেরিকা বা ইরান কেউইতো আমাদের বলছে না যে তোমরা আমাদের পক্ষ নাও৷ আমাদের পক্ষে কোনো দিকে স্পষ্ট অবস্থান নেয়াও কঠিন৷ সরকারও তো বলেছে আমরা কোনো দিকে যাব না৷ আমার মনে হয় সরকারের এই অবস্থান ঠিক আছে৷ এটাই স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক৷''

তার মতে, ‘‘আমি মনে করি না কোনো অলআউট ওয়ার হবে৷ তবে মধ্যপ্রাচ্য সব সময়ই একটু ঝামেলার জায়গা৷ ফলে এখনকার পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে সারাবিশ্বের মত আমাদেরও ক্ষতি হবে৷ তেলের দাম বাড়বে আর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের যারা আছেন তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে৷ নতুন করে সেখানে কর্মী যাওয়া বাধাগ্রস্থ হতে পারে৷''

অডিও শুনুন 03:57

‘কোনো পক্ষে অবস্থান নিলে রেমিট্যান্সে আঘাত লাগবে’

লিবিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য নীরব কূটনীতিকেই শ্রেয় মনে করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একদিকে ইরান আরেক দিকে অ্যামেরিকা৷ অ্যামেরিকার সঙ্গে আছে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ইসরাইল৷ এই অঞ্চলে আমাদের লাখ লাখ লোক আছে যারা রেমিট্যান্স পাঠায়৷ আমরা যদি কোনো একটা পক্ষে অবস্থান নেই তাহলে আমাদের রেমিট্যান্সে আঘাত লাগবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা করেছে ক্ষয়ক্ষতি এড়িয়ে৷ তারা জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার একটা জবাব দিচ্ছে৷ তবে যুদ্ধ চায় না৷ আর আমার মনে হয় না অ্যামেরিকাও যুদ্ধ বাধাবে৷ তারা অন্য কোনো দেশকে এমন কোনো ডিলেমায় ফেলবে বলে মনে হয় না যে, হয় আমরা সাথে নয় ওর সাথে থাক৷ তাই বাংলাদেশ যে এখন সাইলেন্ট ডিপ্লোমেসি নীতিতে আছে এটাই ঠিক আছে৷''

শহীদুল হক বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষের একটা ইরানমুখী মনোভাব আছে সত্য৷ কিন্তু আবেগ দিয়েতো আর সব হয় না৷ বুঝতে হবে ইরানী নেতৃত্বও যুদ্ধের দিকে যেতে চায় না৷ তারাও এটা বোঝে৷ আর আমাদের সাথে ইরানের এখন তেমন ব্যবসা-বাণিজ্য নেই৷ সেখানে আমাদের শ্রমবাজারও তেমন নেই৷''

এদিকে জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার পর ঢাকায় ইরানি দূতাবাস একটি বিবৃতি দিয়েছিল৷ সেখানে এই হামলাকে বর্বরোচিত এবং কাসেম সোলেইমানিকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এই বিবৃতির বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হয়নি দূতাবাস৷ এছাড়াও ঢাকায় শ্রীলঙ্কার দূতবাসও একটি বিবৃতি দিয়েছে ঘটনার পর৷ তাতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়৷ শ্রীলঙ্কা সব পক্ষকে ধৈর্য্য ধরে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন