‘যারা আমাদের মতো দেশের কাপড় পোড়াচ্ছে, তারা পরিবেশের শত্রু′ | বিশ্ব | DW | 27.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘যারা আমাদের মতো দেশের কাপড় পোড়াচ্ছে, তারা পরিবেশের শত্রু'

‘বেসরকারি সংস্থা ফেমনেট-এর আমন্ত্রণে জার্মানিতে এসেছেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি-এর নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে পোশাক শিল্প ও পোশাক শ্রমিকদের বিষয়ে নানা কথা৷

Bangladesch Arbeiter in der Textilbranche (DW/S. Burman)

ফাইল ফটো

ডয়চে ভেলে: ফেমনেটের এই আয়োজনে আপনারা কী কী বিষয় তুলে ধরেছেন?

কল্পনা আক্তার: মূলত আমরা আমাদের কর্ম পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছি৷ আমরা গত কয়েক বছরে কী কী ধরনের উন্নতি করেছি, এখনও আমাদের কী কী বাধা রয়ে গেছে এবং ক্রেতারা কী কী করতে পারে৷ আমাদের শ্রমিকদের বেতন এখনো দারিদ্র্য সীমার নীচে৷ আমাদের কর্মঘণ্টা এখনো অনেক বেশি, যার একটা বড় কারণ ভোক্তাদের অন্ধ করে রেখেছে কোম্পানিগুলো৷ কম দামে বেশি পণ্য প্রয়োজন, নাকি একটু দাম দিয়ে টেকসই পোশাক ভালো, এ বিষয়টা ভোক্তারা ভাবেন না৷ পাশাপাশি রানা প্লাজার আগে-পরে দেশের গার্মেন্টস সেক্টর কতটা বদলেছে, সেটাও তুলে ধরেছি৷ সেই সময়ে মিডিয়া, বিভিন্ন দেশের কোম্পানি, সরকারের চাপ ছিল যদিও এ নিয়ে আমাদের দেশের কর্তাব্যক্তিদের আপত্তি ছিল যে, দেশের কথা বাইরে জানবে কেন৷ কিন্তু শত শত মানুষ মারা যাবে, অথচ সভ্য সমাজ শুনতে পারবে না– এমন ভাবনা সভ্য সমাজে অবাক করার মতো বিষয়৷ তো, ওই ঘটনার পর কারখানায় ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন দেয়া নিয়ে বাধা অনেকখানি কেটে গেল৷ গত চার বছরে অন্তত ৫০০ ইউনিয়ন রেজিস্টার্ড হয়েছে৷ তবে, অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর শ্রমিক সংগঠন তৈরিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি৷ তার বড় কারণ, এখনো মালিকদের মধ্যে ইউনিয়ন নিয়ে বিরূপ মনোভাব রয়েছে৷ আর তুলে ধরেছি, নিরাপদ কর্মপরিবেশের কথা৷ রানা প্লাজার ঘটনার সময়ের সাথে তুলনা করলে এখনকার কারখানাগুলো অনেক নিরাপদ৷ ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, তা আমাদের জন্য আশির্বাদ৷ আগামী বছর এ চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে৷ আমরা এর এক্সটেনশনও চাইছি৷ এবং সবশেষে, ভোক্তারা কী করতে পারে তা নিয়ে কথা বলেছি৷

টাকা বাড়াতে চাপ দিলে ক্রেতারা অন্য দেশ থেকে পোশাক আমদানি শুরু করতে পারে, এমন একটা শংকার কথা অনেক কারখানা মালিকরাই বলেন৷

এটা একেবারেই একটা মিথ৷ আমরা যারা শ্রমিক সংগঠন নিয়ে কাজ করি, আমরা নানা ফোরাম তৈরি করছি, যার ফলে চাইলেই অন্য কোনো দেশ থেকে কম টাকায় কাপড় কিনতে পারবে না কোম্পানিগুলো৷ অথচ মালিকরা বা সরকার মনে করেন যে, আমরা দেশের শত্রু৷

ইউনিয়নগুলোও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে অনেকক্ষেত্রে, এ দিকটাও তো রয়েছে...

অডিও শুনুন 17:20

‘অনেক শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের কথা না ভেবে আখের গোছায়’

সেটাই তো বললাম যে, আমাদের দেশে অ্যাকটিভ ইউনিয়ন আছে মাত্র ৫০ টা, অথচ ফেডারেশন প্রায় ৭২ টা৷ সেটাই বুঝতে হবে যে, কে সত্যিকারের কাজ করছে৷ আমাদের মধ্যে যে দলাদলি আছে, সেটা কে তৈরি করলো? রানা প্লাজার ঘটনার পরে অনেক কারখানার মালিকরাই নিজেদের লোক দিয়ে ইউনিয়ন তৈরি করেছে৷ সেটা একটা কারণ৷ আর তাছাড়া, স্বীকার করতেই হবে যে, অনেক শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের কথা না ভেবে আখের গোছায়৷  

প্র: পোশাক শ্রমিকদের বেতন নিয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?

উ: বেতন বেড়েছে ২০১৩ সালে৷ এর মধ্যে সব কিছুর দাম বেড়েছে৷ শ্রমিকরা আশা করেছিল ২০১৬-তে এ বেতন কাঠামো রিভিউ হবে৷ না হওয়ায় শ্রমিকরা যখন রাস্তায় নেমেছে তখন সরকার, কারখানার মালিকরা কী করলো? অনেক কারখানা বন্ধ করে দিলো, অনেক শ্রমিককে জেলে ঢুকালো৷ দাবির কথা তুলতেই শ্রমিকদের ক্রিমিনালাইজড করা হলো৷

সরকার আর বিজিএমইএ-র ভূমিকাটা এক্ষেত্রে কেমন?

বিজিএমইএ-র যথেষ্ট প্রভাব আছে সরকারের উপর৷ এবং সরকারেরও উনাদের প্রয়োজন আছে৷ কিন্তু শ্রমিকরা এ ক্ষেত্রে হয়ে পড়েছে মাইনরিটি৷ তাঁদের কথা ভাবার কেউ নেই৷

এইচ অ্যান্ড এম কাপড় পোড়ানোয় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটা নিয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?

৬০ টন কাপড় পুড়িয়ে ফেলার কথা শুনে তো আমি অবাক হয়ে গেলাম৷ এরা এটা করলো কী করে? এ তো সম্পদের অবিশ্বাস্য অপচয়, পরিবেশের ক্ষতি৷ আমরা আরো জেনেছি, তাদের ৬০ ভাগ মাত্র কাপড় বিক্রি হয়৷ তো আমার দেশের সম্পদ ব্যবহার করে কাপড় বানিয়ে সেটা পোড়াচ্ছে, এরা তো পরিবেশের শত্রু৷

প্র: শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের মামলার বর্তমান পরিস্থিতি কী?

উ: আমরা পুনঃতদন্ত চাইছি৷ সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের সোর্স মোস্তাফিজ কার ইশারায় এটা করলো তা জানাটা জরুরি৷ যদিও মামলাটা রায়ের অপেক্ষায় আছে, আমরা এর পুনঃতদন্ত চাই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন