যাদের মৃত্যু দেশ কাঁপিয়েছে, তাদের পরিবারে ঈদ আসেনি! | বিশ্ব | DW | 22.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

যাদের মৃত্যু দেশ কাঁপিয়েছে, তাদের পরিবারে ঈদ আসেনি!

রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বাস চাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারে ঈদ আসেনি৷ নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশ উত্তাল হলেও এখনো সড়কে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে৷ নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারে আনন্দ নেই, সান্ত্বনাও নেই৷

গত ২৯ জুলাই ঢাকার  কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উলটো দিকে) বাসচাপায় নিহত হন রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম রাজিব৷ এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে৷ আট দিনের সেই আন্দোলন শেষ হয় সংঘাত-সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে৷ এখন শান্ত সব শান্ত৷ আন্দোলনকে ঘিরে আটক শিক্ষার্থীরাও জামিনে মুক্তি পেয়েছেন৷

কিন্তু যাদের নিয়ে এত কিছু, যাদের মৃত্যুতে দেশজুড়ে হয়ে গেল এত বড় আন্দোলন, তাদের পরিবার কেমন আছে? দিয়ার পবিারের সদস্যরা থাকেন মহাখালির একটি ভাড়া বাসায়৷ তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম নিজেও একজন বাস চালক৷ কিন্তু দিয়ার মৃত্যুর পর তিনি আর বাস না চালানোর ঘোষণা দেন৷ কারণ, যে পথে তার সন্তান নিহত হয়েছে, সেই পথ দিয়ে বাস চালাতে গেলে সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা তাঁর মনে পড়বেই৷ তিনি তা সহ্য করতে পারবেন না৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের পরিবারে এখনো কান্নার রোল৷ এই ঈদে দিয়া নেই, তা কেউ মানতেই পারছে না৷ দিয়ার মা, দুই ভাই-বোন অঝোরে কাঁদছে৷''

অডিও শুনুন 05:53

‘ ঈদে দিয়া নেই, তা কেউ মানতেই পারছে না, মা, দুই ভাই-বোন অঝোরে কাঁদছে'

ঈদে কী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই৷ তাই আয়োজনও নেই৷ আর কোরবানিতে কেউ আমাদের কোনো সহায়তা করেননি৷ কেউ খোঁজও নেয়নি৷ সরকারের কেউ খোঁজ নেয়নি, আমার শ্রমিক ইউনিয়ন থেকেও না৷ এই মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আমার অনেক দিনের সম্পর্ক৷ আমি দু'বার ভোটে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছি৷ তারাও আমার খোঁজ নিলো না, এটাই আমার  বড় আক্ষেপ৷ মালিক সমিতিও কোনো খোঁজ নেয়নি৷ শুধু আমার পরিচিত এক পরিবহণ মালিক আমাকে আর আমার ছেলেকে দুটি পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছে৷''

দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২০ লাখ করে টাকা দেয়া হয়েছে৷ সেই টাকায় দুই পরিবারের সদস্যদের সঞ্চয়পত্র কিনে দেয়া হয়েছে৷ তাঁরা প্রতি মাসে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা করে মুনাফা পাবেন৷ নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খান প্রত্যেকের পরিবারকে দিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা করে৷

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘‘এর বাইরে স্কুল থেকে এক লাখ এবং স্থানীয় এমপি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিছু টাকা দিয়েছেন আমার মেয়ে নিহত হওয়ার পর৷ ওই টাকা দিয়ে মেয়ের মৃত্যুর পর মিলাদ-দোয়া পড়াতে কিছু খরচ করেছি৷ মোট ২৬ লাখ টাকা এখন ব্যাংকে জমা আছে৷ আমার হাতে কোনো টাকা নেই৷ গাড়িও আর চালাই না৷ অন্য কিছু করার চেষ্টা করছি৷ কিন্তু এখনো কেনো কাজ পাইনি৷ পাবো কিনা জানি না৷''

সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো এ পিতা বলেন, ‘‘আমার মেয়ে মারা গেছে, তাকে তো আর ফিরে পাবো না৷ কিন্তু আমার মেয়ের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে, তা আমার ভালো লেগেছে৷ যারা মাঠে নেমেছেন, তারা দেশের জন্য অনেক বড় কাজ করেছেন৷ এর মাধ্যমে যদি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হয়, তাহলে আমরা কিছুটা হলেও শান্তি পাবো৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘আন্দোলন করতে গিয়ে যেসব ছেলে-মেয়ে আটক হয়েছে, তারা মুক্তি পাওয়ায় আমার খুব ভালো লেগেছে৷ আমরাও তাদের মুক্তির জন্য কথা বলেছিলাম৷''

অডিও শুনুন 03:10

‘ঈদে তাদের কেউ সহায়তা করেনি, কেউ খোঁজ-খবরও নেয়নি’

সড়ক নিরাপদ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘হয়তো দুর্ঘটনা কিছুটা কমেছে৷ মালিকরা সরকারকে ট্যাক্স না দিয়েই গাড়ি চালাতেন৷ এখন কিছুটা কড়াকড়ি হয়েছে৷ কিন্তু আরো কাজ করতে হবে৷ লোকজন এখনো ট্রাফিক আইন মানে না৷ ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়৷''আরেক প্রশ্নের জবাবে একজন বাস চালক হিসেবে তাঁর বক্তব্য,‘‘দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে৷ ড্রাইভার যদি দক্ষ হয়, তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে৷ তবে এর জন্য চালককে চাপমুক্ত রাখতে হবে৷ চালক যাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারে, সেরকম মজুরি বা বেতন দিতে হবে৷ তাকে ৮ ঘন্টার বেশি গাড়ি চালাতে হয়৷ আবার মাসে ১৫ দিন কাজ থাকে না৷ এরকম হলে তো একজন ড্রাইভার ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারবে না৷''

নিহত আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজিবের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায়৷ তার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে৷ তাদের নিজেদের কোনো ঘর-বাড়ি নেই৷ পরিবারের সদস্যরা থাকেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে৷ রাজিবও ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশুনা করতো৷ রাজিবের পরিবার সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই মো. সুমন তালুকদার ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘তাদের পরিবার আগে বাঁধের ওপরে থাকতো৷ পরে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে৷ এখন পরিবারের সদস্যরা রাজিবের খালার বাড়িতে থাকেন৷ রাজিবের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে৷ আর নৌমন্ত্রী দিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা৷ রাজিবের এক ভাইয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নেয়ার কথাও বলেছেন তিনি৷ রাজিবের এখন এক ভাই ও দুই বোন আছে, বাবা মারা গেছেন ১৫ বছর আগে৷''

সুমন জানান,‘‘ তবে এই ঈদে তাদের কেউ সহায়তা করেনি৷ কেউ খোঁজ-খবরও নেয়নি৷ পরিবারটি খুবই অসহায়৷ রাজিবের মৃতুর পর তার মা ঢাকা গিয়েছিলেন৷ এখন গ্রামে ফিরে এসেছেন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন