যন্ত্রণা কমাতে উপশম চিকিৎসা কলকাতায় | বিষয় | DW | 12.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

উপশম চিকিৎসা

যন্ত্রণা কমাতে উপশম চিকিৎসা কলকাতায়

আরোগ্যের সম্ভাবনা নেই এমন রোগীর যন্ত্রণা কমানোর লক্ষ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে উপশম চিকিৎসা। কলকাতার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে এ জন্য। গড়ে উঠছে শুধু উপশম চিকিৎসার আলাদা কেন্দ্র।

ক্যান্সার-সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ-পথ্যের মাধ্যমে নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে না। চিকিৎসকরা বলেই দেন, এই রোগীর আয়ু সীমিত। সেই সময় রোগীর যন্ত্রণা উপশম করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে ওঠে। প্রিয়জনের যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রোগী ও তাঁর পরিবারকে স্বস্তি দেওয়াই উপশম চিকিৎসার লক্ষ্য।

কলকাতায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উপশম চিকিৎসার পরিষেবা দেওয়া হয়। সেই পরিষেবা আরও ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীদের দু'ধরনের চিকিৎসার মধ্যে রাখতে হয়। একদিকে শারীরিকভাবে তাঁকে ভালো রাখার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে মানসিকভাবে পাশে থাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়। চিকিৎসায় যখন সাড়া মেলার সম্ভাবনা থাকে না, তখন মানসিক জোর বাড়ানোটাই বড়। সেই কারণে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পেন ফিজিশিয়ান, প্যালিয়েটিভ কেয়ার স্পেশালিস্ট রয়েছেন, যাঁরা পৃথক ইউনিটে থেকে উপশম চিকিৎসার কাজ করেন। এই হাসপাতালে ‘বন্ধু' নামে একটি প্রকল্পে রোগীদের বাড়ি বাড়ি যান কর্মীরা, তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।

সরকারি ক্ষেত্রে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার ইনস্টিটিউট-এ আলাদা বিভাগ খোলা হয়েছে। এখানে বিনা খরচে পরিষেবা দেওয়া হয়। উপশম চিকিৎসা জরুরি হলেও পশ্চিমবঙ্গে খুব বেশি সংখ্যক হাসপাতালে এই পরিষেবা শুরু হয়নি। পঠনপাঠন হয় কলকাতার দুটি জায়গায়। ২০১৩ সাল থেকে শিয়ালদহ ইএসআই-এ পড়ানোর হয় পেন ম্যানেজমেন্ট। তারপর এই বিষয়ে পড়াশোনা শুরু হয়েছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে। ইএসআই-এর কোর্স ডিরেক্টর সুব্রত গোস্বামী বলেন, ‘‘ক্যান্সারের রোগী মানে অঙ্কোলজি বিভাগে ভর্তির পর কেমোথেরাপি করা হবে, এই ভাবনা বদলে গিয়েছে। তাই যখন চিকিৎসা করলে লাভ হয় না, তখন যন্ত্রণা উপশমই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির পর শরীরে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, তাতেও উপশম চিকিৎসা দরকার। তবে মনের জোরই বড় কথা। সেটাই চিকিৎসকেরা জোগান।’’

সরকারিভাবে উপশম চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ডাঃ দেবাশিস জাটুয়া বলেন, "অন্যান্য রোগের তুলনায় উপশম চিকিৎসা ব্যয়বহুল নয়। কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এমন কেন্দ্র নেই যেখানে নামমাত্র খরচে এই পরিষেবা দেওয়া যায়।''

অডিও শুনুন 02:56

শুভজিৎ রায়

সেই স্বপ্নই দেখছেন বীরভূমের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শুভজিৎ রায়। গড়িয়ার পাঁচপোতায় তিনি গড়ে তুলতে চলেছেন শুধু উপশম চিকিৎসার কেন্দ্র। তার শিলান্যাসও হয়ে গিয়েছে। শুভজিতের এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে করুণ কাহিনী। মা, জ্যাঠামশাই, জ্যেঠিমা ও দিদিকে ক্যান্সারে হারিয়েছেন তিনি। তাঁদের যন্ত্রণা দেখেছেন চোখের সামনে। মায়ের মৃত্যুর সময় তিনি কিশোর, চিকিৎসক হওয়ার পর দেখেছেন দিদির কষ্ট। তাই ‘পেন ম্যানেজমেন্ট' নিয়ে পড়াশোনা করে রোগীর যন্ত্রণা উপশমের শপথ নিয়েছেন। শুভজিৎ বলেন, ‘‘আমি অনেক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছি। গড়ে তুলছি হসপিস ইন্ডিয়া। সামান্য খরচে রোগীর পাশে থাকা আমাদের লক্ষ্য যাতে জীবনের শেষ সময়টা একটু আনন্দ দেওয়া যায়। নানারকম থেরাপির সঙ্গে বাড়িতে গিয়ে আমাদের টিম পরিষেবা দেবে’’

অডিও শুনুন 02:14

সুকুমার মুখার্জী

এ ধরনের উদ্যোগের পাশে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথিতযশা চিকিৎসক, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ডাঃ সুকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি যন্ত্রণা উপশমের সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্যের সঙ্গী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। সব নিউক্লিয়ার পরিবার। তাই প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার কেউ থাকছে না। আমার বয়স আশির ঘরে, তাই এই প্রয়োজন অনুভব করি। এই মানুষদের পাশে থাকা, যন্ত্রণা কমানো জরুরি। তাই শুভজিতের উদ্যোগকে ঘিরে আমরা কয়েকজন সমমনস্ক মানুষ একজোট হয়েছি।’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়