‘যত্ন পেলে এশিয়ান বা অলিম্পিকেও সোনা জেতা সম্ভব’ | আলাপ | DW | 07.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘যত্ন পেলে এশিয়ান বা অলিম্পিকেও সোনা জেতা সম্ভব’

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক৷ ২০১৬ সালে মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জেতা মাবিয়া ডয়চে ভেলেকে বলেছেন ভারোত্তোলক হিসেবে তাঁর প্রাপ্তি, বঞ্চনা ও প্রত্যাশার কথা৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের কাছ থেকে আপনি কী ধরনের সহযোগিতা চান? এখন কেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন?

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত: যেখানে আমার এখন সাপোর্টের দরকার ছিল, নার্সিংয়ের দরকার ছিল, বর্তমান ফেডারেশন থেকে আমি কিছুই পাচ্ছি না৷ আমি আমার মতোই আছি৷ যেখানে এখন আমার সবকিছুই পাওয়ার কথা ছিল, একটা স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখানে এখন ফেডারেশনে যাঁরা আছেন, তাঁদের কাছ থেকে আমি কিছুই পাচ্ছি না৷

কিন্তু পরবর্তি সাফল্যের জন্য তো বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ....

আমরা তো আসলে খুব পিছিয়ে নেই৷ আমরা মনে করি যে, অলিম্পিক লেভেলে বাংলাদেশ কখনোই মেডেল পাবে না, এশিয়ান লেভেলে মেডেল পাবে না, কিন্তু দেখেন, আমরা কিন্তু রূপকথার দেশে না৷ এর অনেকটাই কাছাকাছি আমরা৷ কিন্তু আমরা নিজেরা পারছি না প্রয়োজনীয় নার্সিং করতে, তাই আমরা ওরকম স্বপ্নের দেশে যেতে পারছি না৷ আমরা কোন খেলাগুলোকে বেশি চিনি – ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, সুইমিং৷ এই কয়েকটা খেলাকে আমরা চিনি, জানি৷ কারণ, এ কয়েকটা খেলা অনেক প্রচার পাচ্ছে, মানুষ দেখছে, হাইলাইট হচ্ছে....তাই৷ যেমন আমি যখন মানুষকে বলি, আমি ওয়েট লিফটিং বা ভারোত্তলন খেলি, কেউ চেনেই না৷ সবাই অবাক হয়ে যায়৷

সরকারিভাবে বা অন্য কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা...

অডিও শুনুন 08:09
এখন লাইভ
08:09 মিনিট

‘নিজেকে ফিট রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সেটা আমি করতে পারছি না৷’

অবশ্যই, এ বিষয়টা তো আছেই৷ পৃষ্ঠপোষকতা তো থাকতেই হবে৷ যেমন সবাই শুধু ক্রিকেটকেই স্পন্সর করতে চায়, কিন্তু অন্য কোনো খেলাকেই না৷ আর সরকার তো আমাদের খেলা দেখার জন্য ওরকমভাবে বসে নেই৷ যেমন আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন কেউ একটা খেলায় ভালো করছেন, তখন তাঁকে পুরস্কৃত করছেন, তাঁকে তাঁর স্ট্যান্ডার্ডে উঠিয়ে দিচ্ছেন৷ যেমন আমাকে৷ আমি কোথায় ছিলাম আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাকে কোথায় উঠিয়ে এনেছেন৷ আমাকে উত্তরায় সাড়ে ১২শ' ফুটের একটা ফ্ল্যাট দিয়েছেন সাউথ এশিয়ান গেমসের পরে৷ উনি অনেক বড় একটা কাজ করেছেন৷ কিন্তু স্পোর্টস নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের কাছে আমার কথা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রকে উন্নত করতে যতটা প্রয়োজন ততটাই কাজ করুন৷ আমরা কিন্তু ততটা করতে পারছি না৷ যদি করতে পারতাম, তাহলে আমরা অনেক ভালো একটা অবস্থানে থাকতাম৷

কেন পারছে না বলে মনে করেন আপনি? ফেডারেশনের দায়িত্ব তো খেলোয়ার উঠিয়ে আনা...

যেমন আমি যেখানে থাকবো, সেখানে যদি আমাকে পর্যাপ্ত কিছু না দেয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে আমি অন্যখানে যাবো৷ যেমন আমরা খেলোয়াড়রা কি চাই? ট্রেনিং ফেসিলিটি চাই আর খেলার সুযোগ চাই৷ কিন্তু আমরা সেটাই পাই না৷ একটা খেলা আসে, তিন চার মাস ক্যাম্প করে আমরা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাই৷ অথচ আমরা ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটানের সাথে ফাইট করে সিলভার মেডেল পাই, গোল্ড মেডেল পাই৷ কিন্তু এটা না করে আমরা যদি লং টার্ম ক্যাম্প করতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় আমরা আরো ভালো করবো৷ কিন্তু এই শর্টটার্ম ক্যাম্প করে অনেক সময় আমাদের রেজাল্টটা খারাপ হয়ে যায়৷ যেমন আমি৷ আমি সাউথ এশিয়ান গেমসে গোল্ড মেডেল পেয়েছি, সামনের ২০১৯ সালে যখন সাউথ এশিয়ান গেমসে যাবো, তখন যদি আমি গোল্ড না পাই, তখন আমি কী বলবো? সবাই বলবে, এক গেমসে পেয়েছি, আরেক গেমসে পাইনি৷ নিজের রেপুটেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷

এ ধরনের খেলায় যে তেমন পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায় না, এ জন্যে কোন বিষয়টাকে দায়ী মনে করেন?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

আমার অল্প দিনের জানাশোনার মধ্যে আমি শুধু দেখলাম, আমাদের কেউ স্পন্সর করছে তারপর আমরা কোথাও খেলতে যাচ্ছি৷ কিন্তু কোনো এজেন্সি বা কোনো গ্রুপ বা অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আছে, তারা শুধু আলোচিত খেলাগুলোকেই স্পন্সর করতে পছন্দ করে৷ কিন্তু অন্য খেলাগুলোতে তাদের স্পন্সর করতে দেখা যায় না৷ উনারা ভাবছেন, মিডিয়া কাভারেজ যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই স্পন্সর করবো৷ তারা তো টিভিতে যা দেখছেন, তার দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন৷ কিন্তু তাঁরা যদি টিভি ক্যামেরার আড়ালে যারা আছেন, তাঁদের যদি একটু খেয়াল করেন, তাহলে পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে যে সমস্যা সেটা থাকবে না৷

আপনার নিজের পাওয়া নিয়ে কি আপনি সন্তুষ্ট?

আমি কিছু পাইনি, এটা বললে ভুল বলা হবে৷ আমি পেয়েছি৷ কিন্তু যতটুকু আমি পেয়েছি, ততটুকু একবারে দিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এটার দরকারও ছিল৷ তারপরও যদি প্রতি মাসে বা প্রতি বছরে যদি কিছু একটা দেয়া হতো, তাহলে আমি ভাবতাম আমাকে সাপোর্ট করা হচ্ছে৷

আপনার এই যে খেলা, এর জন্য তো বিশেষ ধরনের খাওয়া দাওয়া , প্রশিক্ষণ এ সবের দরকার৷ নিজেকে খেলার জন্য ফিট রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, সব কি আপনি ব্যবস্থা করতে পারছেন?

আসলে নিজেকে ফিট রাখার জন্য যা যা করা দরকার, সেটা আমি করতে পারছি না৷ যেহেতু ফেডারেশন আমাকে কোনো সহযোগিতা করছে না, আমি নিজেকে ফিট রাখার মতো পরিস্থিতিতে নেই৷

 অলিম্পিকে অংশ নেয়া আপনার স্বপ্ন আর সেখানে ভালো করা দেশের জন্য বড় ধরনের একটা সম্মান৷ তো সে সাফল্য অর্জনে আপনি সরকার বা ফেডারেশনের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন?

ফেডারেশনের কাছ থেকে আমার একটাই প্রত্যাশা, আমাকে দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের সুযোগ দিক, পর্যাপ্ত ট্রেনিং সুবিধা দিক৷ প্রত্যেকটা গেমের খেলোয়াড়রা ফরেন কোচের কাছে ট্রেনিং করে, আমি কখনো সে সুযোগ পাইনি৷ আমাকে যদি ফরেন কোচ দেয়া হয়, ভালো পরিবেশ দেয়া হয়, তাহলে আমি মনে করি, আমার পক্ষে একটা ভালো কিছু করা সম্ভব৷ আমার এই আত্মবিশ্বাস আছে৷ আর সরকারের বিষয়ে বলতে হলে, সরকার আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু তারপরেও বলবো যে, খেলার এই জগৎটাকে আরো নিঁখুতভাবে সাজানো যায়৷ ফেডারেশন, এর কর্মকর্তা – এ সব যদি আরো নিঁখুত করে সাজানো যায়, তাহলে আমরা যে এখন সাউথ এশিয়ান লেভেলে, কমনওয়েলথ লেভেলে গোল্ড পাচ্ছি, আমাদের পক্ষে এশিয়ান বা অলিম্পিক লেভেলেও সোনা জেতা সম্ভব৷

খেলোয়াড় তৈরিতে ফেডারেশনগুলোর কী ভূমিকা হওয়া উচিত ? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন