ম্যার্কেল এখনো বেকায়দায়, জোট সরকারে ঐক্যের অভাব | বিশ্ব | DW | 04.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

ম্যার্কেল এখনো বেকায়দায়, জোট সরকারে ঐক্যের অভাব

বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের সঙ্গে বোঝাপড়ার ফলে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল আপাতত রাজনৈতিক সংকট থেকে রেহাই পেয়েছেন৷ কিন্তু সরকারের তৃতীয় জোটসঙ্গী এসপিডি এখনো সেই সমঝোতায় ছাড়পত্র দেয়নি৷

এসপিডি দল মঙ্গলবার জোট কমিটির বৈঠকে বাভেরিয়া-অস্ট্রিয়া সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের জন্য ‘ট্রানসিট সেন্টার' গড়ে তোলার প্রস্তাবের সরাসরি বিরোধিতা না করলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছে৷ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে একই প্রস্তাব নস্যাৎ করে দিয়েছিল এসপিডি৷ বিশেষ করে প্রস্তাবিত এই কাঠামোর আওতায় শরণার্থীদের আটক রাখার বিরোধী তারা৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারঅবশ্য এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন৷ মোটকথা গোটা বিষয়টি সম্পর্কে সব সংশয় দূর না হলে এসপিডি দল সম্মতি দিতে নারাজ৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবার জোট কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা হবার কথা৷ তবে নিজস্ব দুর্বলতার কারণে এসপিডি দল সরকারের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে ফেলবে না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে৷

জার্মানিতে শরণার্থী ও অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশেও অস্বস্তি বাড়ছে৷ গত সপ্তাহে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে চ্যান্সেলর ম্যার্কেল ইউরোপীয় স্তরে সমাধানসূত্রের উদ্যোগ নিলেও দেশে ফিরে সিএসইউ দলের চাপে পড়ে একতরফা পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়ায় জার্মানির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন৷ বিশেষ করে অস্ট্রিয়া দক্ষিণে ইটালি ও স্লোভেনিয়া সীমান্তে একই ধরনের কড়া পদক্ষেপের তোড়জোড় করছে৷ সে দেশের চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুয়র্ৎস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি জার্মানির সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করবেন না, যার ফলে অস্ট্রিয়ার অসুবিধা হবে৷

ইটালি অস্ট্রিয়ার এমন সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে৷ ইটালির কট্টরপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাটেও সালভিনি বলেন, এর ফলে আখেরে ইটালিরই সুবিধা হবে৷ ইটালি-অস্ট্রিয়া সীমান্তে আবার নিয়ন্ত্রণ চালু হলে ইটালিতে অবৈধ শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ কমে যাবে৷ তাঁর মতে, বিশেষ করে বলকান অঞ্চল দিয়ে যে শরণার্থীরা ইউরোপে প্রবেশ করে, অস্ট্রিয়া বা অন্য কোনো দেশ তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দিলে তারা ইটালিতে প্রবেশের চেষ্টা করে৷ এমন সব একক পদক্ষেপের ফলে শেঙেন চুক্তি ও ইউরোপের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷

এমন প্রেক্ষাপটে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিএসইউ দলের নেতা হর্স্ট সেহোফার উভয় সংকটে পড়েছেন৷ তাঁরই চাপে ম্যার্কেল যে বোঝাপড়া করতে বাধ্য হয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁকেই সেই পদক্ষেপ কার্যকর করতে হবে৷ শেষ পর্যন্ত এসপিডি দল সম্মতি দিলে তাঁকে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রচেষ্টা চালাতে হবে৷ বৃহস্পতিবার তিনি ভিয়েনায় অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলরের সঙ্গে আলোচনা করছেন৷ আগামী ১১ই জুলাই সেহোফার ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন৷ একদিকে ইউরোপীয় স্তরে সমাধানসূত্র, অন্যদিকে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে তাঁকে৷ সেই কাজে ব্যর্থ হলে তাঁর পক্ষে মুখরক্ষা করা কঠিন হবে৷ তখন আবার নতুন করে সিডিইউ দলের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে৷ পদত্যাগের হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে যাবার ফলে সরকার ও নিজের দলের মধ্যে তাঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে৷ অক্টোবর মাসে বাভেরিয়ার বিধানসভা নির্বাচনে সিএসইউ দল খারাপ ফল করলেও সেই দায় তাঁকেই বহন করতে হবে৷

এসবি/ডিজি (ডিপিএ, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন