ম্যার্কেলের ‘জামাইকা জোট′ জার্মানির জন্য মঙ্গলজনক | বিশ্ব | DW | 19.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

ম্যার্কেলের ‘জামাইকা জোট' জার্মানির জন্য মঙ্গলজনক

সিডিইউ-সিএসইউ, এফডিপি ও সবুজ দল মিলে জোট সরকার গঠন সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে৷ ডয়চে ভেলের জেফারসন চেজ-এর মতে তাতে শঙ্কার কিছু নেই; জার্মানির মানুষ যা চেয়েছিলেন, ঠিক তাই পেতে চলেছেন৷

কালো-হলুদ-সবুজ, এই তিনটি হলো জামাইকার জাতীয় পতাকার রঙ৷ জার্মানির রক্ষণশীল খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী তথা খ্রিষ্টীয় সামাজিক দল, উদারপন্থি মুক্ত গণতন্ত্রী দল ও পরিবেশবাদী সবুজ দলের প্রতীকী রঙও যথাক্রমে কালো, হলুদ, সবুজ৷ তাই আপাতত বার্লিনে যে জোট সরকার গঠনের প্রচেষ্টা চলেছে, তার নামকরণ করা হয়েছে ‘জামাইকা জোট'৷

শোনা যাচ্ছে, জার্মানির পক্ষে আপাতত এটাই একমাত্র বাস্তবধর্মী সমাধান৷ তা হতে পারে৷ কিন্তু তাই বলে কিছু খারাপ সমাধান নয়৷ সিডিইউ-সিএসইউ, এফডিপি আর সবুজদের জোট একটা অভিনব মিশ্রণ, যা ফেডারাল পর্যায়ে জার্মান রাজনীতিতে এর আগে কখনো পরখ করা হয়নি৷ কিন্তু এই মিশ্রণ জার্মানিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও বাস্তব রাজনীতি, উভয় বিচারেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে৷  

এ বছরের সংসদীয় নির্বাচনে বহু মানুষ রাজনৈতিক বৈপরীত্য ও বিতর্কের অভাব বোধ করেছেন৷ ২৪শে সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সিডিইউ-সিএসইউ ও এসপিডি দল, উভয়েই প্রচুর ভোট হারায়, যা একটি স্পষ্ট লক্ষণ যে, ভোটাররা আর এই দু'টি বড় দলের জোট দেখতে চাননি৷ অতএব, ম্যার্কেলের রক্ষণশীল দল ও দু'টি ছোট দলের জোটে জনতার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে৷ 

জার্মান রাজনীতিতে দক্ষিণ ও বামের মধ্যে ফারাক যে অনেকটা অর্থহীন হয়ে পড়েছে, এই জোট হবে তার প্রমাণ, কেননা, তথাকথিত জামাইকা জোট না দক্ষিণ না বাম, এমনকি অতীতের ‘বৃহৎ জোটের' মতো কট্টর মধ্যমপন্থিও হবে না৷ আদর্শ পরিস্থিতিতে জ্যামাইকা জোট হবে একটি ফোরাম, যেখানে সাবেক রাজনৈতিক বিভেদকে অগ্রাহ্য করে নিত্য নতুন ধারণা উপস্থাপিত হতে পারবে৷

বহুকাল জার্মান রাজনীতিতে ধরেই নেওয়া হতো যে, এফডিপি ও সবুজরা যে শুধু পরস্পরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, শুধু তাই নয়, এই দু'টি দলের ব্যবধান এতই বেশি যে, তাদের পক্ষে একত্রে কাজ করা সম্ভব নয়৷ কিন্তু অর্থনৈতিক বেগবত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা পরস্পরবিরোধী হতে পারে না – হওয়া উচিৎও নয়৷ দীর্ঘমেয়াদে যেসব পরিবেশবাদী উদ্যোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষতি করবে, তারা সফল হতে পারবে না৷ অপরদিকে যেসব অর্থনৈতিক উদ্যোগ পরিবেশের ক্ষতি করবে, সেগুলো ব্যর্থ হতে বাধ্য৷ অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এক্ষেত্রেও উভয় দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ব্যবধান কমলে জার্মানি উপকৃত বৈ অপকৃত হবে না৷

এফডিপি ও সবুজদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ, তা শুধু নিজের দলের কট্টর সদস্যদের খুশি রাখার জন্য স্বকীয় বুনিয়াদি কর্মসূচিকে জাহির করা থেকে বিরত থাকাই নয়; বরং নিজেদের ধ্যানধারণাকে সর্বসাধারণের মঙ্গলের জন্য খাপ খাইয়ে নেওয়া ও একযোগে কাজ করা৷ পপুলিস্ট বক্তারা প্রায়ই প্রতিষ্ঠিত দলগুলির সমালোচনা করে থাকেন যে, তারা শুধু কোনো গোষ্ঠীর সঙ্কীর্ণ স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে৷ জামাইকা জোট সেই সমালোচনা ভুল প্রমাণ করার সুযোগ এনে দেবে৷

Chase Jefferson Kommentarbild App

জেফারসন চেজ, ডয়চে ভেলে

আর ম্যার্কেল ও তাঁর রক্ষণশীলদের কাজ কী হবে? ভোটের দিন সন্ধ্যায় পরাজিত এসপিডি প্রার্থী মার্টিন শুলৎস চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতো অপরের আইডিয়াগুলো শুষে নেওয়ার অভিযোগ করেন৷ শুলৎস সেটা নেতিবাচক অর্থেই বলেছিলেন, কিন্তু ম্যার্কেলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এই যে, তিনি মতাদর্শ বাদ দিয়ে বাস্তব সমাধানের সন্ধান করতে পারেন৷ একাধিক ভিন্ন প্রকৃতি ও মতাদর্শের দলের ধ্যনধারণা নিয়ে পরীক্ষা চালানোর ল্যাবরেটরির মতো জোট সরকারে নেতৃত্বদানের জন্য ম্যার্কেল হলেন আদর্শ কর্ণধার৷

জামাইকা জোটের আরেকটি সুবিধা এই যে, এসপিডি দল বৃহত্তম বিরোধী দলের ভূমিকা নেবে৷ সামাজিক গণতন্ত্রী দল পুনরুজ্জীবিত হলে জার্মান গণতন্ত্রলাভবান হবে, কেননা, ম্যার্কেলের নেতৃত্বাধীনে দু'-দু'টি ‘বৃহৎ জোটে' অংশগ্রহণের ফলে এসপিডি দলের ভাবমূর্তি অনেকটা ম্লান হয়ে পড়েছে ও দল তার সাবেক জনপ্রিয়তা হারিয়েছে৷

এসিপিডি মুখ্য বিরোধী দল হওয়ার অর্থ উগ্র দক্ষিণপন্থি পপুলিস্ট এফডিপি দল সংসদে সেই ভূমিকা নিতে পারবে না৷ অর্থাৎ ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' একটি প্রতিবাদের দলই থাকবে, যাদের অনেক সমর্থক শুধুমাত্র বিদ্বেষের উপর নির্ভর করে রাজনীতি করেন ও একটি আধুনিক, বৈচিত্র্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক সমাজ, তথা সরকারের আদানপ্রদানের সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশেষ ধারণা রাখেন না৷

‘বৃহৎ জোটের' সরকার গত চার বছরে যে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে শাসনকাজ চালাতে পেরেছেন, জামাইকা জোটের পক্ষে তা সম্ভব হবে না, কিন্তু আমার মতে, সেটাই হবে তার মূল সুবিধা৷ পরস্পরের ঠোকাঠুকি থেকে যদি নতুন নতুন সৃজনশীল ধারণা জন্ম নেয়, তাহলে ২০১৭ সালের সংসদীয় নির্বাচনের পর জার্মানিতে সরকার গঠনের একমাত্র বাস্তবধর্মী বিকল্প অবস্থা বিশেষে শ্রেষ্ঠ বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ 

জেফারসন চেজ/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন