ম্যারাথন আলোচনা শেষে চুক্তিতে পৌঁছালেন ইইউ নেতারা | বিশ্ব | DW | 29.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

ম্যারাথন আলোচনা শেষে চুক্তিতে পৌঁছালেন ইইউ নেতারা

সারা রাত আলোচনা শেষে একটি অভিবাসন চুক্তিতে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা৷ শুরুতে ইটালি কোনো চুক্তিতে সই না করার হুমকি দিয়েছিল৷ পরে অন্য দেশগুলো তাদের দাবি মেনে নেয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়৷

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ব্রাসেলসে একের পর এক বৈঠকে মিলিত হন ইইউ নেতারা৷ জার্মান চ্যান্সেলের আঙ্গেলা ম্যার্কেলের জন্য বৈঠকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ কারণ, কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে জার্মানিতে শরণার্থী আসার হার কমাতে তাঁর উপর চাপ ছিল৷ ম্যার্কেলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের কাছ থেকে এই চাপ ছিল৷

শরণার্থী প্রবেশ ঠেকাতে সেহোফার জার্মানির সীমান্ত কড়া করার পক্ষে৷ কিন্তু ম্যার্কেল এই সমস্যার একটি ইউরোপীয় সমাধানের কথা বলেছিলেন৷ তাঁর এই চাওয়ার জায়গা ছিল বৃহস্পতিবারের ব্রাসেলসের ইইউ বৈঠক৷ সেখানে ইইউ পর্যায়ে একটি চুক্তি সই করতে না পারলে ম্যার্কেলের জোট সরকার টিকিয়ে রাখা কঠিন হওয়ার আশংকা ছিল৷

এই অবস্থায় ইইউ নেতারা একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন৷ সেহোফারের দলের এক উচ্চ পর্যায়ের নেতা এই চুক্তিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন৷

কী আছে চুক্তিতে?

  • ইইউতে পৌঁছানো শরণার্থীদের ভাগ করে নিতে রাজি হয়েছেন নেতারা৷ তবে এটি হবে স্বেচ্ছা ভিত্তিতে৷
  • ইইউতে ‘নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্র' খোলা হবে, যেখান থেকে আশ্রয়ের আবেদন যাচাই করা হবে৷
  • ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার করা নৌকায় থাকা শরণার্থীদেরও বিভিন্ন দেশ স্বেচ্ছাভিত্তিতে নিতে রাজি হয়েছে৷ এটি ইটালির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল৷ সম্প্রতি ইটালি শরণার্থী বোঝাই দুটি জাহাজ তাদের উপকূলে ভিড়তে দেয়নি৷ পরে সেগুলোর একটি গ্রহণ করতে রাজি হয় স্পেন, অন্যটি গ্রহণ করে মাল্টা৷
  • অভিবাসীদের ইউরোপগামী জাহাজে চড়তে নিরুৎসাহিত করতে ইইউ'র বাইরে, বিশেষত উত্তর আফ্রিকায় ‘জাহাজ অবতরণ প্ল্যাটফর্ম' স্থাপন করতে সম্মত হয়েছেন ইইউ নেতারা৷
  • ইউরোপে শরণার্থী আসা ঠেকাতে তুরস্ককে আরও তিন বিলিয়ন ইউরো দিতে সম্মত হয়েছেন নেতারা৷ ২০১৬ সালে তুরস্কের সঙ্গে ইইউ একটি চুক্তি সই করেছিল৷ তার আওতায় প্রথমবারও তিন বিলিয়ন ইউরো পেয়েছিল তুরস্ক৷
  • ম্যার্কেল জানিয়েছেন, আশ্রয়প্রার্থীরা যেন নিজেদের ইচ্ছামতো ইইউ'র বিভিন্ন দেশে ঘুরতে না পারেন, সে বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে রাজি হয়েছেন নেতারা৷

চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি একটি ‘ভালো সংকেত' বলে মন্তব্য করেছেন ম্যার্কেল৷ তবে এখনও যে মতপার্থক্যগুলো আছে, তা দূর করতে আরও অনেক কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি৷

ইটালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপে কন্টে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন৷ ‘‘ইটালি আর একা নয়,'' বলে মন্তব্য করেছেন তিনি৷

অথচ বৃহস্পতিবার আলোচনার শুরুতে ইটালি জানিয়ে দিয়েছিল যে, ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া শরণার্থীদের গ্রহণে অন্য দেশগুলো ইটালিকে সহায়তা না করলে, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইইউ'র কোনো চুক্তিতে সই করবে না তারা৷ পরে ইইউ নেতারা ইটালির দাবি মেনে নেন৷

জেডএইচ/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি, এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন