মোহসেন ফখরিজাদেহ হত্যা: ইরানের নতুন তথ্য | বিশ্ব | DW | 01.12.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরান

মোহসেন ফখরিজাদেহ হত্যা: ইরানের নতুন তথ্য

রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসের সাহায্যে হত্যা করা হয়েছে ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানীকে৷ অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে৷

ইরানের নিহত পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদেহকে রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসের সাহায্যে হত্যা করেছে ইসরায়েল৷ স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত ওই ডিভাইস বিজ্ঞানীর গাড়ির উপর গুলিবৃষ্টি করে বলে নতুন তথ্য সামনে আনলো ইরান৷ সোমবার ফখরিজাদেহ-র শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে এই দাবি করেছেন ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান৷ 

তিনি জানিয়েছেন, পরমাণু বিজ্ঞানীর উপর যে হামলা হতে পারে, সে কথা আগেই জানিয়েছিল দেশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ কোথায় হামলা হতে পারে তারও আভাস দেওয়া হয়েছিল৷ সেই মতো ফখরিজাদেহের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল৷ কিন্তু যে কায়দায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছে, তা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে আটকানো সম্ভব ছিল না৷ কোনো ব্যক্তি বিজ্ঞানীর উপর আক্রমণ চালায়নি৷ রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস ব্যবহার করে তাঁর গাড়ির উপর গুলিবৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ৷ এ দিন আরো একবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান৷

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ টুইটে এ ঘটনার জন্য ইসরায়েলেকে দায়ী করেছিলেন৷ তিনি লিখেছিলেন, ‘‘জঙ্গিরা আজ এক স্বনামধন্য ইরানি বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে৷ ঘটনায় ইসরায়েলের জড়িত থাকার ব্যাপক প্রমাণ রয়েছে৷’’

পরমাণু বিজ্ঞানীর উপর কী ভাবে হামলা হয়েছিল, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছিল ইরান৷ প্রথমে বলা হয়েছিল, বিজ্ঞানীর দেহরক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে৷ চার জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল৷ পরে অবশ্য সে জঙ্গি মৃত্যুর বিষয়টি ভুল বলে জানানো হয়৷ আরেকটি সূত্র জানায়, একটি পিকআপ ট্রাকে বিস্ফোরক ছিল৷ সেই বিস্ফোরণেই বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়৷ সোমবার যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে পিকআপ ট্রাকের কথা অস্বীকার করা হয়নি৷ দাবি করা হয়েছে, পিকআপ ট্রাকের বিস্ফোরণও হয়েছে৷ একই সঙ্গে রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসের সাহায্যে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে৷ রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত বলেও জানানো হয়েছে৷

ফারসিতে ‘আমাদ’ বা বাংলায় ‘আশা’ নামের পরমাণু প্রকল্পের প্রধান ছিলেন বিজ্ঞানী ফখরিজাদেহ৷ তবে এই প্রকল্প ২০০০ সালের দিকেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়৷ ইসরায়েল এবং পশ্চিমা দেশগুলো দাবি করে যে এটি একটি সামরিক প্রকল্প ছিল৷ কিন্তু তেহরান বরাবরই বলে আসছে এই প্রকল্পটি সামরিক ছিল না৷

তবে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান ২০০৩ সাল পর্যন্তও খুব কৌশলে পারমাণবিক বিস্ফোরক তৈরি সংক্রান্ত কার্যক্রম চালিয়েছে৷ পরমাণু শান্তি চুক্তি অনুসারে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম জমা রাখার কথা, তার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ মজুদ করার অভিযোগ সম্প্রতি উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে৷

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি)