মোসুল পুনর্দখলের জন্য ইরাককে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের অভিনন্দন | বিশ্ব | DW | 11.07.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ইরাক

মোসুল পুনর্দখলের জন্য ইরাককে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের অভিনন্দন

মোসুল পুনর্দখলের জন্য ইরাকি সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা৷ কিন্তু মানবিক সংকট শেষ হতে এখনও অনেক বাকি, বলছে জাতিসংঘ৷

সোমবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি সরকারিভাবে ঘোষণা করেন যে, মোসুলে ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে৷ আল-আবাদি রবিবারেই মোসুলে যান, তবে আইএস-এর বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি তিনি সম্ভবত সে কথা ঘোষণা করতে চাননি৷ বাগদাদ সরকারের তরফ থেকে অতীতে একাধিকবার বলা হয়েছে যে, মোসুলের পতন আসন্ন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি৷ কাজেই আল-আবাদির সতর্কতা বোধগম্য৷

মোসুলে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি

মোসুলে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর মোসুলের পতনকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সংগ্রামে একটি ‘‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক'' বলে অভিহিত করেছেন৷ যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোট সহযোগীরা মোসুলের বিভিন্ন এলাকায় স্থিতি আনার জন্য জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, বলে টিলারসন জানান৷

ইরাকি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে আল-আবাদি ‘‘দায়েশ-এর মোসুল থেকে ঘোষিত মিথ্যা ও সন্ত্রাসের রাজ্যের ব্যর্থতা ও পতন''-এর কথা বলেন৷ তবে মোসুলে স্থিতি আনার এবং ছোট ছোট আইএস সেলগুলিকে নির্মূল করার কাজ এখনও বাকি আছে, বলে আল-আবাদি মন্তব্য করেন৷ ইরাকের সরকারি সেনা, কুর্দ পেশমার্গা যোদ্ধা এবং বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে মোসুল পুনর্দখল করে – বিমান থেকে ও ভূপৃষ্টে গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য প্রদান করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রজোট৷

মানবিক সংকট

ইরাকে জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন লিজে গ্রান্দে; তাঁর মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও, মানবিক সংকট শেষ হয়নি৷ ‘‘বহু মানুষ, যারা পালিয়েছেন, তারা সব কিছু হারিয়েছেন'', বলেন গ্রান্দে; ‘‘তাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবা, স্যানিটেশান ও এমার্জেন্সি কিট-এর প্রয়োজন৷''

মোসুল থেকে পলাতক উদ্বাস্তু শিশুরা

যাদের পালানো ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না...

মোসুলের বাসিন্দাদের ট্রমা বা বিভীষণ অভিজ্ঞতা অন্য যে কোনো জায়গাকে ছাড়িয়ে যায়, বলে গ্রান্দে মন্তব্য করেন: ‘‘মানুষজন যা অভিজ্ঞতা করেছেন, তা অকল্পনীয়৷''

যুদ্ধে মোসুল শহর এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে যে, পলাতক বাসিন্দাদের শীঘ্র সেখানে ফিরতে পারার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ মোসুলের প্রাচীন অংশে ৬৫ ভাগ বাড়িঘর গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বলে জানিয়েছেন ইরাকি সরকার – শহরের পশ্চিমাঞ্চলে জঞ্জিলির মতো এলাকাগুলিতে ধ্বংসের পরিমাণ আরো বেশি৷

অ্যামনেস্টির অভিযোগ

মোসুলের যুদ্ধে সব পক্ষই আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে, বলে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর অভিযোগ৷

আইএস গোষ্ঠী হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে ও তাদের মোসুল পরিত্যাগ করতে দেয়নি৷ শত শত, এমনকি হাজার হাজার বেসামরিক ব্যক্তিকে পালানোর সময় অথবা পালানোর অভিযোগে হত্যা করেছে আইএস – বলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ৷

অপরদিকে ইরাকের সরকারি সেনাবাহিনী ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট মোসুলে যুদ্ধাপরাধ করে থাকতে পারে – বলেছে অ্যামনেস্টি এবং এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিশন দাবি করেছে৷ অ্যামনেস্টি স্বীকার করেছে যে, আইএস-এর রণকৌশল সরকারপক্ষের সৈন্যদের পক্ষে ‘‘বিশেষ চ্যালেঞ্জ'' সৃষ্টি করে৷ ‘‘ইরাকি সরকার ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এই চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী তাদের রণকৌশল সঠিকভাবে বদলে নিতে পারেনি'' – বেসামরিক জনগণের পক্ষে যার ফল হয়েছে মারাত্মক –এই হলো অ্যামনেস্টির রায়৷ এই প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি সরকারপক্ষের সেনাবাহিনীর ‘ইমপ্রোভাইজড রকেট অ্যাসিস্টেড মিউনিশনস'-এর কথা বলেছে, যা কোনো লক্ষ্যবস্তুর উপর নির্ভুলভাবে নিশানা করা সম্ভব নয়৷

মোসুলের যুদ্ধে কতোজন বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, এয়ারওয়ার্স নামের একটি মনিটরিং গ্রুপ গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস অবধি ইরাকের সরকারি সৈন্য ও মিত্রজোটের আক্রমণে ৩,৭০৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হবার কথা বলেছে৷ অ্যামনেস্টির মতে বাস্তবিক সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন