মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ, হতে পারে মৃত্যুও | বিশ্ব | DW | 03.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ, হতে পারে মৃত্যুও

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ এছাড়া আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে৷ তাই প্রশ্ন, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি কেন বিস্ফোরিত হয়? আর কীভাবে তা এড়ানো যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি বিষয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত৷ সেটি হচ্ছে, মোবাইল ফোনে বিস্ফোরিত হওয়ার মতো একটি উপাদানই আছে এবং সেটি ব্যাটারি৷

বিস্ফোরণ নানা কারণে হতে পারে৷ তবে প্রধান কারণগুলো হচ্ছে, নিম্নমানের ব্যাটারি এবং ফোনে চার্জ দেয়া অবস্থায় কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা৷

কয়েকটি ঘটনা

ফেনীর কলেজ ছাত্র স্বপ্নীল মজুমদার মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণে মারা যান গত বছরের ডিসেম্বরে৷ তিনি ২ ডিসেম্বর বিকেলে ফেনীতে তাঁর নানা বাড়ির শয়নকক্ষে মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়ার সময় ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়৷ বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্র ও কাপড় চোপড়ে আগুন ধরে যায়৷ আগুনে স্বপ্নীলের শরীরের চামড়া ৯০ ভাগই পুড়ে যায়৷ তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এনে ভর্তির দু'দিন পর ৪ ডিসেম্বর তিনি মারা যান৷

অডিও শুনুন 00:57

‘এই বিস্ফোরণে প্রধানত মুখমণ্ডল ভয়াবহভাবে পুড়ে যায়, কান পুড়ে যায়'

গত বছরের ২২ অক্টোবর ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে কথা বলার সময় বিস্ফোরণে এক দম্পতি আহত হন৷ গৃহকর্তা জাফর মিয়া মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে কথা বলার সময় ফোনটি বিস্ফোরিত হয়৷ এতে তিনি ও তাঁর পাশে থাকা স্ত্রী দগ্ধ হন৷ তাঁরা দু'জনই গুরুতর আহত হন৷

গত ২৩ জানুয়ারি নোয়াখালীর সেনবাগ পৌর শহরে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে মো. ওবায়দুল হক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন৷ তাঁর মোবাইল ফোনটি পকেটে থাকা অবস্থায়ই গরম হয়ে বিস্ফোরিত হয়৷

পরিসংখ্যান

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামান্ত লাল সেন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘গত ৬-৭ মাসে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে আহত ৪-৫ জন আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন৷ তাদের মধ্যে একজন মারাও গেছেন৷''

তিনি জানান, ‘‘এই বিস্ফোরণে প্রধানত মুখমণ্ডল ভয়াবহভাবে পুড়ে যায়, কান পুড়ে যায়৷''

বার্ন ইউনিট থেকে জানা গেছে, ‘‘যারা বিস্ফোরণে আহত হয়ে আসেন তাদের কেস স্টাডি থেকে জানা গেছে, তারা প্রায় সবাই মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে কথা বলছিলেন, এবং সেই অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটে৷ তাদের মুখমণ্ডল, কান ছাড়াও শ্বাসনালী পুড়ে যায়৷ সবার অবস্থাই গুরুতর৷''

অডিও শুনুন 05:16

‘ফোন বা ডিভাইস বন্ধ করে চার্জ দেয়া, চার্জ দেয়া অবস্থায় ব্যবহার না করা’

তবে এনিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই বার্ন ইউনিটে৷

বিস্ফোরণের কারণ

মোবাইল ফোন কেন বিস্ফোরিত হয়? এই প্রশ্নের জবাবে মোবাইল ফোন কোম্পানি সিম্ফনির কোয়ালিটি কন্ট্রোলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘‘সাধারণত আমরা যে রিপোর্টগুলো পাই, তা হলো, মোবাইল ফোন চার্জ দেয়া অবস্থায় কথা বলার সময় বিস্ফোরণ ঘটে৷ আর বিস্ফোরিত হয় ব্যাটারি৷ কারণ মোবাইল ফোনে ব্যাটারিই একমাত্র বিস্ফোরকের মতো৷ মোবাইল ফোনের ব্যাটারি যখন চার্জ হয় সে পাওয়ার কনজিউম করে৷ একই সময়ে যদি ওই ফোন দিয়ে কথাও বলা হয় তাহলে পাওয়ার কনজাম্পশন আরো বেড়ে যায়৷ ফলে ব্যাটারি সাধারণ মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত হয় এবং বিস্ফোরিত হতে পারে৷''

তিনি বলেন, ‘‘এর বাইরে আমরা মনে করি সাধারণত তিন কারণে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরিত হতে পারে৷ ম্যাটেরিয়াল, কন্ট্রোল এবং শর্টসার্কিট৷ প্রথমত, ব্যাটারি যদি নিম্নমানের হয় তাহলে চার্জের সময় সে প্রচুর হিট কনজিউম করে গরম হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে৷ দ্বিতীয়ত, ব্যাটারিতে টেম্পারেচার কন্ট্রোল সার্কিটসহ আরো কিছু সার্কিট এবং কন্ট্রোল মোড ব্যবহার করা হয়৷ এগুলো যদি ঠিকভাবে কার্যকর না থাকে তাহলেও বিস্ফোরিত হতে পারে৷ আর তৃতীয়ত, যেসব ব্যাটারি হ্যান্ড সেট থেকে খোলা যায়না সেসব ব্যাপারি নানা কারণে ব্যাটারির কানেকশন পয়েন্টে শর্টসার্কিট হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে৷''

অডিও শুনুন 07:24

‘মোবাইল ফোনে ব্যাটারিই একমাত্র বিস্ফোরকের মতো’

মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণের এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বেই ঘটছে৷ প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডও এর ব্যতিক্রম নয়৷

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তানভীর জোহা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই বিস্ফোরণের ঘটনা শুধু মোবাইল ফোন নয়, ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে৷ আর এটা প্রধানত নিম্ন মানের জন্যই ঘটে থাকে৷ মাদারবোর্ডের বিভিন্ন ধরণের ক্যাপাসিটর এবং প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) কিট থাকে৷ এই কিটগুলোর সাথে পাওয়ারে সিঙ্ক্রোনাইজেশন না থাকলেই সাধারণত বিস্ফোরণ ঘটে৷ এটা উৎপাদনের ত্রুটি৷''

তিনি বলেন, ‘‘চার্জারে কানেকশন দিয়ে একই সঙ্গে কথা বলা বা অনলাইনে কাজ করলে মাদার বোর্ড, আইসি প্রভৃতি দিক দিয়ে অনেক বেশি তাপ উৎপাদন হবে৷ তখন প্রচণ্ড তাপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়৷''

এই বিস্ফোরণের সময় পুরো ডিভাইসটিই শেষ পর্যন্ত বিস্ফোরকে পরিণত হয়৷ বেশিরভাগ বিস্ফোরণ যেহেতু কথা বলার সময় হয় তাই মুখমণ্ডলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ তবে এটা চার্জ দেয়ার সময় ছাড়াও বিস্ফোরিত হতে পারে৷

তানভীর জোহার পরামর্শ হলো, ‘‘ভালো মানের ফোন বা ল্যাপটপ কেনা, ফোন বা ডিভাইস বন্ধ করে চার্জ দেয়া, চার্জ দেয়া অবস্থায় ব্যবহার না করা৷ এছাড়া যদি চার্জ দেয়ার সময় বা ব্যবহারের সময় সাধারণ মাত্রার চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয় তাহলে তার ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যেতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন