মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে কি তিস্তা চুক্তি হবে? | বিশ্ব | DW | 28.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে কি তিস্তা চুক্তি হবে?

হালের সংসদীয় নির্বাচনে মোদীর এনডিএ জোটের আশাতীত সাফল্যে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী৷ পাশাপাশি আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান৷ এই দুয়ের সমীকরণে কী হতে পারে তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ?

৯০-এর দশক থেকে ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্কের পথে কাঁটার মতো গেঁথে আছে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে যতবারই বৈঠকে পর্যালোচনা হয়েছে, অনিবার্যভাবে উঠে এসেছে এই চুক্তির প্রশ্ন৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনড় অবস্থানের কারণে এতদিন এই চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি৷ এছাড়া পশ্চিমবঙ্গে এতদিন বিজেপির পায়ের নীচে মাটি ছিলনা, তাই কেন্দ্রীয় সরকার জোরাজুরি করতে পারেনি৷

দ্বিতীয়ত, নদীর জল সংক্রান্ত বিষয় রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক এখতিয়ারে পড়ে৷ হালের নির্বাচনি ফলাফল কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্রটাই পালটে দিয়েছে৷ রাজ্যের ৪২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আগে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্য ছিল, এখন তারা মাত্র ২২টি আসনে টিকে আছে৷ পাশাপাশি মাত্র দুটি আসন থেকে ১৮টি আসন পেয়ে বিজেপির মনোবল বেড়েছে৷ ফলে রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলের মোকাবিলা করার শক্তি বেড়েছে৷

এদিকে, নির্বাচনে ধরাশায়ী হবার পর তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশই লাগামছাড়া হচ্ছে৷ দলত্যাগ করে বিজেপিতে যাচ্ছেন তৃণমূল বিধায়করা৷ ফলে তৃণমূলের এখন ছত্রভঙ্গ অবস্থা৷

রাজ্যের বিজেপির সাংগঠনিক নেতা দিল্লিতে বিজেপির নব নির্বাচিত সাংসদের সম্প্রতি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ধাপ পার করেছে দল৷ এরপর দ্বিতীয় ধাপে বিধানসভা ভোটে জিতে ২০২১ সালে রাজ্যে সরকার গড়বে বিজেপি৷ মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে তাই  তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের পথ শুধু প্রশস্তই হবে না, ত্বরান্বিত হবে৷

পাশাপাশি, ঢাকাও হাত গুটিয়ে বসে নেই৷ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতেই তিস্তা চুক্তি রূপায়নে তাগাদা দিতে শুরু করেছে হাসিনা সরকার৷ গত পাঁচ বছর বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক দৃঢ় করতে চেষ্টার কসুর করেননি মোদী৷ মনে করা হচ্ছে, তিস্তা ইস্যুটিকে এবার অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি দিল্লি-ঢাকা সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন৷ তিস্তার জলের ভাগাভাগি নিয়ে চুক্তির বিষয়ে একটা ঘরোয়া রাজনৈতিক ঐকমত্য গত পাঁচ বছরে তৈরি হয়েই ছিল৷ এবার সেটার বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করছেন উভয় দেশের কূটনীতিকরা৷

বিদেশ সফর কর্মসূচির জন্য মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা যোগ দিতে পারবেন না৷ তবে ঢাকা ফেরার পথে ৮ জুন দিল্লি এসে শেখ হাসিনা মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সেখানে তিনি মোদীকে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন৷ বলবেন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থে কোনোমতেই এটা আর ফেলে রাখা ঠিক হবে না৷

অডিও শুনুন 02:19

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে তিস্তা চুক্তি আটকে রেখেছেন: ইমন কল্যাণ লাহিড়ি

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এরমধ্যে দুটো কথা আছে৷ প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট, যেটা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্ন, যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এজন্য শেখ হাসিনার হাত শক্ত করতেই হবে দিল্লিকে৷ কেননা, বাংলাদেশের মাটিতে যেভাবে শ্লোগান উঠছে, শেখ হাসিনা তুই ভারত যা, দেশ চালাবে খালেদা, ভারতে গণতন্ত্রের যে একটা পদ্ধতি আছে বা সামাজিক প্রেক্ষাপট আছে, তারজন্য এটা ভালো নয়৷ সুতরাং শেখ হাসিনার হাত শক্ত করা এবং লিবারেল পয়েন্ট বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার মধ্য দিয়েই উঠে আসতে পারে৷ হাসিনার যে ভাবমূর্তি বা তাঁর নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই উঠতে পারে৷''

অধ্যাপক লাহিড়ি বলেন, ‘‘ভারতে এখন যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো তিস্তা চুক্তির দ্রুত সমাধান এবং তা স্বাক্ষর করা৷ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা আটকে রেখেছেন৷ যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বারবার এই চুক্তি স্বাক্ষরের পক্ষে ছিলেন৷ বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু এখনো অপেক্ষা করে আছে, আশা করে বসে আছে এই চুক্তির উপরে৷ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ সরকার দেশের মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হবে যে ভারত একটি প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্র৷ সুতরাং এশিয়ায় শান্তি প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে এবং ভূমিগত বাস্তবতার ক্ষেত্রে আমরা যেটা দেখছি, এই বছরের নির্বাচনে যেভাবে বিজেপির জয় হয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেভাবে একটা পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে, তাতে ২০২১-এর মধ্যে রাজ্যে বর্তমানে যে সরকার আছে, তা থাকবে না৷ যদি না থাকে, তাহলে কিন্তু আমার মনে হয়, তিস্তা চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে৷ কারণ আঞ্চলিক স্তরে তো একটা সরকার চলতে পারে না৷ আরো একটা কথা, পশ্চিমবঙ্গ একটা সীমান্ত রাজ্য, যার সঙ্গে অন্যান্য রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সীমানা আছে৷ কাজেই রাজ্য সরকারের দুটো দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল৷ একটা রাজ্যের আঞ্চলিক বিষয়, অন্যটি   বাংলাদেশের সঙ্গে  সুসম্পর্ক মজবুত করা৷ কাজেই আগামী দুই বছর হয়ত দিল্লি ও ঢাকাকে অপেক্ষা করতে হবে৷ তবে মনে হয়, আন্তর্জাতিক চাপে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন