মোদী-পুটিন কথা, ছাত্রীদের সেফ প্যাসেজ দিলো রাশিয়া | বিশ্ব | DW | 03.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

মোদী-পুটিন কথা, ছাত্রীদের সেফ প্যাসেজ দিলো রাশিয়া

আবার মোদী-পুটিন ফোনে কথা। তারপরই খারকিভ থেকে ভারতীয় ছাত্রীদের সেফ প্যাসেজ দিলো রাশিয়া।

মোদী-পুটিন ফোনে কথার পর খারকিভ থেকে ভারতীয় ছাত্রীদের সেফ প্যাসেজ দেয় রাশিয়া।

মোদী-পুটিন ফোনে কথার পর খারকিভ থেকে ভারতীয় ছাত্রীদের সেফ প্যাসেজ দেয় রাশিয়া।

সাতদিনের মাথায় দ্বিতীয়বার রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্র জানাচ্ছে, এবার ফোনালাপের প্রধান বিষয় ছিল, খারকিভে আটকে পড়া ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদে ইউক্রেন থেকে বেরিয়ে আসা। মোদী-পুটিনের ফোনের পরেই এক হাজার ভারতীয় ছাত্রী যাতে নিরাপদে খারকিভ ছাড়তে পারে, তার ব্যবস্থা করলো রাশিয়া। তবে রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের সেনা খারকিভে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের পণবন্দি হিসাবে ব্যবহার করছে।

কী কথা হয়েছে?

ভারতের পররাষ্ট মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট পুটিন ইউক্রেনের পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন। বিশেষ করে তারা খারকিভের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে প্রচুর ভারতীয় ছাত্রছাত্রী এখনো আটকে। এছাড়া যেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সেনার মধ্যে লড়াই হচ্ছে, সেখান থেকে ভারতীয়দের উদ্ধার করার বিষয়টি নিয়েও কথা হয়েছে।

জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী দূত টি এস তিরুমূর্তি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ''ইউক্রেনের খারকিভ ও অন্য শহরে আটকে থাকা ভারতীয়দের সেফ প্যাসেজের দাবি জানাচ্ছি। এটাই এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের বিষয়।''

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইউক্রেনে অবিলম্বে সামরিক অপারেশন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব নেয়া হয়েছে। ভারত সেই প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের ইউক্রেন থেকে বের করে আনার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে সমানে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কীভাবে ছাত্রীরা খারকিভ ছাড়লেন

মোদী-পুটিন আলোচনার পর রাশিয়ার সেনা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সেফ প্যাসেজ দিয়ে সীমান্তে পৌঁছনোর ব্যাপারে সহায়তা করছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানাচ্ছে। তাছাড়া রাশিয়াকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা খারকিভে কোথায় কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেই সব জায়গা রাশিয়া যাতে আক্রমণ বা গোলাবর্ষণ না করে সেটা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বুধবারই রাশিয়ার প্যারাট্রুপাররা খারকিভ নেমেছেন। শহর ঘিরে রাশিয়ার কামান সমানে গোলা ফেলছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমাও ফেলা হচ্ছে। রাশিয়ার গোলার আঘাতে একজন ভারতীয় ছাত্র নিহত হয়েছে। সে একটি দোকান থেকে খাবার কিনতে গিয়েছিল। সেখানেই গোলার টুকরোর আঘাতে তার মৃত্যু হয়। তার বাবা-মা-ও বলেছিলেন, সম্ভব হলে বাড়ির বাইরে ভারতীয় পতাকা তুলে রাখতে।

ইউক্রেনে আরেকজন ভারতীয় ছাত্রেরও মৃত্যু হয়েছে। তবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

খারকিভ থেকে ভারতীয় ছাত্রীদের ট্রেনে করে দেশের পশ্চিম সীমান্তে পাঠানো হয়েছে। ২০ ঘণ্টার ট্রেনসফরের পর তারা সীমান্তে পৌঁছাবেন।

রাশিয়ার অভিযোগ

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনের সেনা খারকিভে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের আটক করে পণবন্দি হিসাবে ব্যবহার করছে। সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, ''আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেন প্রচুর ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের আটকে রেখেছে। তাদের পণবন্দির মতো ব্যবহার করছে।''

মুখপাত্র জানিয়েছেন, ''ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা যাতে দেশে ফিরতে পারেন, সেজন্য রাশিয়া সব ধরনের সাহায্য করবে। দরকার হলে রশিয়ার সামরিক পণ্যবাহী বিমানে করে তাদের নিরাপদে ইউক্রেনের বাইরে নিয়ে আসা হবে।''

পুটিন-মোদী ফোনে কথার কিছুক্ষণ পর রাশিয়ার সেনা মুখপাত্র এই কথা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইউক্রেনে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের পণবন্দি করা হয়েছে, এমন তথ্য তাদের কাছে নেই।

ছাত্রছাত্রীদের দুর্দশা

বুধবার সকালে প্রচুর ভারতীয় ছাত্রছাত্রী খারকিভের স্টেশনে গিয়েছিলেন শহর ছাড়ার জন্য। কিন্তু তখন ইউক্রেনের বাহিনী তাদের ট্রেনে উঠতে দেয়নি। তাদের মারা হয়েছে। ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। অনেকেই ১১ ও ১৬ কিলোমিটার দূরের দুইটি জায়গায় পৌঁছানোর জন্য হাঁটতে শুরু করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খারকিভ থেকে ছাত্রছাত্রীদের ওই দুইটি জায়গায় চলে যেতে বলেছে।

জিএইচ/এসজি (পিটিআই, এনডিটিভি)