মোদীর বিরুদ্ধে লড়তে পারলেন না তেজ বাহাদুর | বিশ্ব | DW | 01.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মোদীর বিরুদ্ধে লড়তে পারলেন না তেজ বাহাদুর

বন্দুক কাঁধে দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়েছেন যিনি, তিনিই গোটা দেশের পাহারদার হতে চেয়েছিলেন৷ লোকসভা নির্বাচনে বারাণসী থেকে ‘‌চৌকিদার'‌ নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন বাস্তবের ‘‌চৌকিদার' তেজ বাহাদুর যাদব৷‌

বন্দুক কাঁধে দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়েছেন যিনি, তিনিই গোটা দেশের পাহারদার হতে চেয়েছিলেন৷ লোকসভা নির্বাচনে বারাণসী থেকে ‘‌চৌকিদার'‌ নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন বাস্তবের ‘‌চৌকিদার' তেজ বাহাদুর যাদব৷‌

সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল ‘‌একের বিরুদ্ধে এক' লড়াইয়ের৷ বেশ কিছুদিন ধরে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছিলো গোটা ভারত জুড়ে৷ ‘‌নির্দল'‌ তেজ বাহাদুর নাটকীয়ভাবে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে উঠেছিলেন৷ বিজেপির সেনা-‌রাজনীতির জবাবে মোদীর বিরুদ্ধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রাক্তন জওয়ানের ‘‌যুদ্ধ'‌ ঘোষণা চলতি ভোটের হাওয়ায় বাড়তি আমেজ বয়ে এনেছিল বইকি৷ কিন্তু, শেষ রক্ষা হলো না৷ তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন৷

কর্মরত অবস্থায় রাজদ্রোহের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনি৷ এ বিষয়ে তাঁকে নোটিশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন৷ পরদিন তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হলো৷ কমিশনের বক্তব্য, প্রার্থী হওয়ার জন্য কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেননি তিনি, যদিও তেজ বাহাদুরের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে৷

 

মনোনয়ন বাতিল হলেও একজন সাধারণ নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তাতে তাঁর সৎ সাহসিকতা প্রশংসিত হচ্ছে৷ তেজ বাহাদুরের ‘‌তেজ'‌-‌এর সুখ্যাতি করছেন অনেকেই৷

অডিও শুনুন 07:27

আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে তেজ বাহাদুর যদি লড়াইয়ে নামেন, তাহলে তা প্রশংসনীয়: দীপাঞ্জন চক্রবর্ত্তী

দেশের সুরক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকে অভাবনীয় অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার সাক্ষী থেকেছেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী৷ তিনি সর্বোচ্চ সুরক্ষাবাহিনীর কমান্ডো ছিলেন৷ তেজ বাহাদুর প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুম্বাই নিবাসী দীপাঞ্জন বলেন, ‘‌‘‌২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৫৫৮ জন জওয়ান আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন৷ কাজের চাপ ও নিম্ন মানের জীবনযাত্রায় বাধ্য করার ফলে এই পথ বেছে নিয়েছেন তাঁরা৷ গত ৫ বছরে কাশ্মীরে সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানের মৃত্যুর হার ১০৬ শতাংশ বেড়েছে৷ এই তথ্য সরকারি৷ অস্বীকার করার উপায় নেই৷ এর ফলে স্পষ্টতই জওয়ানদের দুর্বিসহ জীবনের ছবি স্পষ্ট হয়৷ সুতরাং, অন্যদের মতো আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে তেজ বাহাদুর যদি লড়াইয়ে নামেন, তাহলে তা প্রশংসনীয়৷ হার-‌জিত বড় নয়, লড়াইয়ের সাহসকে কুর্ণিশ৷'‌'‌

উত্তরপ্রদেশের ৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বারাণসীর গুরুত্ব আলাদা৷ গতবারের মতো এবারও এখান থেকে নির্বাচনে লড়ছেন মোদী৷ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি-‌বিরোধী তিন দল, সমাজবাদী পার্টি (‌সপা)‌, বহুজন সমাজ পার্টি (‌বসপা)‌ ও রাষ্ট্রীয় লোক দল(‌আরএলডি)‌-‌র মহাজোট এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল সপা-‌র ‌শালিনী যাদবকে৷ পরে আচমকা প্রার্থী বদল করেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব৷ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাক্তন জওয়ান তেজ বাহাদুর যাদবকে দলীয় প্রতীক দেন তিনি৷ এখন তেজ বাহাদুরের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর পুণরায় শালিনী যাদবে ভরসা রাখতে হবে মহাজোটকে৷

হরিয়ানার রেওয়াড়ির বাসিন্দা তেজ বাহাদুর৷ ২০১৭-‌তে নিজের ফেসবুকে জওয়ানদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের ভিডিও পোস্ট করে বহিস্কৃত হয়েছিলেন তিনি৷ ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল৷ রিপোর্ট তলব করেছিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর৷ তাঁর অভিযোগ ছিল, জওয়ানদের খাবার অত্যন্ত নিম্ন মানের৷ আরো অভিযোগ ছিল, জওয়ানদের জন্য বরাদ্দ রেশন সামগ্রী বিক্রি করে দেয় সেনার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ৷ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল তাঁকে৷ কমিশন জানাচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আগাম অনুমতি নিতে হতো তাঁকে৷ তিনি তা নেননি৷

অডিও শুনুন 03:58

তেজ বাহাদুর সেনা জওয়ান নয়, উনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ান: সুজিত রায়

নিরাপত্তা বাহিনীর শৃঙ্খলাভঙ্গকারী তেজ বাহাদুরের কর্মকাণ্ড মোটেই সমর্থন করতে পারছেন না বহু মানুষ৷ এমন একজনকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের গোড়ায় গলদ দেখছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুজিত রায়৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানিয়েছেন, ‘‌‘‌তেজ বাহাদুর সেনা জওয়ান নয়, উনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ান৷ আগেই নিজেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন তিনি৷ তাঁকে সমাজবাদী পার্টি প্রতীক দিয়েছিল৷ এই জওয়ান তো নিজেই শৃঙ্খলাভঙ্গকারী৷ সুরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব নিয়মানুবর্তিতা থাকে৷ তিনি তা লঙ্ঘন করেছেন৷ এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী!‌ মনে রাখতে হবে, গত নির্বাচনে মোদীর বিরুদ্ধে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ছাড়া বাকিদের জামানত জব্দ হয়েছিল৷ এমন পরিস্থিতিতে তেজ বাহাদুরকে বলির পাঁঠা করা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ‌৷''

‌ওদিকে মাস দেড়েক ধরে গুঞ্জন চলছিল, বারাণসীতে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লড়বেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী৷ তুমুল জল্পনার আগুনে বারবার ঘি ‌ঢেলেছিলেন তিনি৷ রাহুল গান্ধীও জল্পনা জিইয়ে রেখেছিলেন৷ তেমনটা হলে লড়াই অন্য রকম হতে পারতো৷ কিন্তু শেষমেশ কার্যত বিজেপি‌কে ‘‌ওয়াক ওভার'‌ দিয়ে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে অজয় রাইকে, যিনি ২০১৪-‌র নির্বাচনে মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে তৃতীয় হয়েছিলেন৷

গতবারের তুলনায় এবারের সাধারণ নির্বাচন অনেকটাই পৃথক৷ নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে সর্বত্রই ভারতীয় সেনার পরাক্রম তুলে ধরছেন মোদী৷ রে উরি জঙ্গি হামলার পর ‘‌সার্জিক্যাল স্ট্রাইক'‌, পুলওয়ামা হামলার পর ‘‌এয়ার স্ট্রাইক'‌ ইত্যাদির যাবতীয় কৃতিত্ব সরাসরি মোদীকেই দিচ্ছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও তাঁর দলের তাবড় নেতারা৷ গত পাঁচ বছরের কাজের হিসেব-‌নিকেশ তুলে রেখে প্রতিবেশী দেশকে ‘‌যোগ্য শিক্ষা'‌ দেওয়াই প্রাধান্য পাচ্ছে এবারের সাধারণ নির্বাচনে৷

ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো জওয়ান প্রার্থী হয়েছিলেন৷ সে লড়াই শেষ অবধি টিকল না৷ লড়াইয়ের ময়দান থেকে ছিটকে গিয়ে তেজ বাহাদুর নিজে অবশ্য বলছেন, ‘‌‘আমি ফৌজি৷ উনি (‌মোদি)‌ ফর্জি (‌নকল)‌৷ ষড়যন্ত্র করে আমাকে পথ থেকে সরানো হচ্ছে৷'‌' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন