মোদীর দেওয়ালি উপহার, নাকি নিছক রাজনীতি | বিশ্ব | DW | 04.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মোদীর দেওয়ালি উপহার, নাকি নিছক রাজনীতি

দেওয়ালি উপহার দিয়েছে মোদী সরকার। পেট্রোল ডিজেলের দাম সামান্য কমিয়েছে কেন্দ্র। তার পিছনেও আছে অন্য কাহিনি।

পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কি মানুষের ক্ষোভ দূর করার জন্য?

পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কি মানুষের ক্ষোভ দূর করার জন্য?

কিছুদিন হলো ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম সেঞ্চুরি পার করেছে। মানে প্রতিটি রাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারে একশ টাকা পার হয়ে যায়। সর্ষের তেলের দাম ডবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে প্রতি লিটারে আড়াইশর পথে। পেঁয়াজও অর্ধশতরান পার করেছে। কেজি-তে দাম ৫০ টাকা বা তার বেশি। এর মধ্যে দেওয়ালির ঠিক আগের দিন মোদী সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়, পেট্রোলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা ও ডিজেলের দাম লিটারে দশ টাকা কমবে।

দেওয়ালির দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে চালু হবে এই দাম। সেই সঙ্গে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকেও পেট্রোল-ডিজেলের উপর শুল্ক কমাতে বলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, আসাম থেকে শুরু করে সকলেই শুল্ক কমিয়েছে। কেউ দুই টাকা, কেউ পাঁচ টাকা।

সিদ্ধান্তের নেপথ্যে

দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল-ডিজেলের দাম সমানে বাড়িয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা সমানে দাম কমাবার দাবি করেছে। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে। সংসদে প্রশ্ন তুলেছে। কোনো ফল হয়নি। মোদী সরকারের জবাব ছিল, তারা গরিবদের জন্য প্রচুর জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পেট্রোল-ডিজেলের শুল্ক থেকে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজের খরচ মেটানো হয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে যখন পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেশ কম ছিল, ভারতে তা ছিল যথেষ্ট চড়া। গত কয়েকমাসে সব হিসাব ছাড়িয়ে একশ পার করে দিয়েছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। দিল্লিতে এক লিটার পেট্রোলের দাম ছিল ১০৮ টাকারও বেশি।

তাহলে এখন হঠাৎ কেন দাম কমানো হলো? এর পিছনে আছে অন্য কাহিনি। ভোট পাওয়ার কাহিনি। উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। ভারতের রাজনীতিতে উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। সেখানে বিধানসভায় শুধু চারশ আসন আছে তাই নয়, লোকসভায় ৮০টি আসন আছে। হিন্দি-বলয়ের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য যার হাতে থাকে, সেই দল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করে।

বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, সম্প্রতি বিজেপি শীর্ষ নেতারা উত্তর প্রদেশের সব জেলায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতি জানতে চান। তারা যে রিপোর্ট দিয়েছেন তা হলো, এমনিতে পরিস্থিতি ভালো, কিন্তু গতবারের থেকে আসন এক-দুটো কমতে পারে। গতবার তিনশর বেশি আসন জিতেছিল বিজেপি। এবার জেলা থেকে এক-আধটা আসন কম হওয়া মানে প্রায় দেড়শ আসন কমে যাওয়া। তাতেই শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

সূ্ত্র জানাচ্ছে, সমীক্ষা করে দেখা গেছে, উত্তর প্রদেশের মানুষ দুইটি বিষয়ে ক্ষুব্ধ। এক, পেট্রোল-ডিজেলের দাম মাত্রাছাড়া জায়গায় পৌঁছে যাওয়া। দুই, সর্ষের তেলের দাম দুইশ ছাড়িয়ে লিটারে আড়াইশ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া। সেই সঙ্গে অন্য জিনিসের দাম বাড়া ও স্থানীয় কিছু সমস্যা আছে। তারপরই পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়ে এই দেওয়ালি উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরের পরিকল্পনা

শুধু দাম কমানোই নয়, সেই সঙ্গে লাগাতার প্রচার শুরুর পরিকল্পনাও নিয়েছে বিজেপি। অমিত শাহ সহ বিজেপি-র ছোট বড় নেতারা টুইট করতে শুরু করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাধারণ মানুষের পাশে থাকার উদাহরণ। তার সংবেদনশীলতার পরিচয়। এই প্রচারটাই এবার দেশজুড়ে হবে।

বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন কোনো বিষয় মনে রাখে না। তাই ভোটের সময় তারা দাম কমানোর কথাটাই মনে রাখবে। দাম বাড়ার কথা নয়। এরপর সর্ষের তেলের দাম কমানো হবে। পেঁয়াজের দামে রাশ টানা হবে। আর সেই সব প্রচার তুঙ্গে উঠবে। দরকার হলে রান্নার গ্যাসের দামও সামান্য কমানো হতে পারে। এভাবেই মানুষের মনের ক্ষোভ দূর হবে।

উপনির্বাচনের ধাক্কা

সম্প্রতি দেশের ১৩টি রাজ্যে বেশ কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে ও তিনটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়েছে। তার ফলে দেখা গেছে আসাম ও উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি ছাড়া বিজেপি কোথাও ভালো ফল করতে পারেনি। তিনটির মধ্যে তারা মাত্র একটি লোকসভা আসনে জিতেছে। কংগ্রেস একটি ও শিবসেনা একটিতে জিতেছে। হিমাচলে তিনটি বিধানসভা আসনেই হেরেছে। কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস একটি করে আসনে জিতেছে। রাজস্থানে বিজেপি একটিও আসনে জিততে পারেনি। এই ফলের কারণ, জিনিসের দাম নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বলে বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে।