মোদীর চালে মমতা ব্যাকফুটে | বিশ্ব | DW | 08.04.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

মোদীর চালে মমতা ব্যাকফুটে

ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের চার পুলিশ কর্মকর্তার বদলির নির্দেশে ক্ষিপ্ত মমতা ব্যানার্জি৷ কিন্তু তাঁর আপত্তিকে আমল দিল না নির্বাচন কমিশন৷ মমতা এখন ব্যস্ত হয়েছেন আত্মপক্ষ সমর্থনে৷

সোমবার নির্বাচনি জনসভার মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের মোদী সরকার এবং তাঁর অপশাসনকে আক্রমণ করার বদলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ফের বলতে শোনা গেল, চিট ফান্ড তৈরি হয়েছে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে৷ এই চিট ফান্ড জালিয়াতি, কেলেঙ্কারির কোনো দায় তাঁর সরকারের নয়৷ বরং তাঁর সরকার দোষীদের গ্রেপ্তার করিয়েছে, ইত্যাদি৷

প্রশ্ন উঠতে পারে, লোকসভা ভোটের মুখে, যেখানে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো তৃণমূল নেত্রীর ভাষণে গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেখানে তিনি কেন হঠাৎ রাজ্যের একটি ইস্যু নিয়ে আত্মরক্ষণাত্মক হয়ে উঠলেন?‌ একটাই কারণ৷ লোকসভা ভোটের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপি সুকৌশলে চিট ফান্ডের পুরনো ইস্যুকে খুঁচিয়ে তুলেছে৷ সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত দীর্ঘ সময় ঢিমে তালে চলার পর সম্প্রতি তেড়েফুঁড়ে ওঠে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই এবং তাদের লক্ষ্য হন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার, যিনি সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে মমতা সরকারের হয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁকে কমিশনার পদ থেকে সরতে হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সেই জায়গায় আনেন নিজের আরেক বিশ্বস্ত আইপিএস অফিসার অনুজ শর্মাকে৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশনের গত শুক্রবারের নির্দেশে অনুজ শর্মাকেও সেই পদ থেকে সরিয়ে বসানো হলো রাজেশ কুমারকে৷ সরানো হলো বিধান নগরের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিংকেও, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর আরেক ভরসার পাত্র৷ মোট চার জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সরানোর নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানায়, এরা কেউ নির্বাচনের কোনো দায়িত্বে থাকতে পারবেন না৷

ক্ষিপ্ত মমতা ব্যানার্জি শনিবারই এই বদলির আদেশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান নির্বাচন কমিশনের কাছে৷ বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতমূলক এই বদলির নির্দেশ, যা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির তাগাদায়৷ ঠিক কে এর পিছনে আছে, তারও তদন্ত হওয়া উচিত বলে চিঠিতে লেখেন মমতা৷ তাঁর এই মন্তব্যের কারণ, আগের দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোটের প্রচারে এসে পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন৷ রাজ্যের অন্য বিজেপি নেতারাও দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন, যার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একসময় ‘‌গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা'‌র প্রস্তুতি নিয়েছিল৷ কিন্তু অশান্তি হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে রাজ্য প্রশাসনের আপত্তিতে, আদালতের নির্দেশে কার্যত আটকে যায় সেই যাত্রা৷ ভোটের আগে সেই পুরনো অভিযোগই ফেরত আসবে, এবং নির্বাচন কমিশন চার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দেবে এটা তৃণমূল নেত্রীর সম্ভবত প্রত্যাশিত ছিল না৷

মমতার অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্য বিজেপির নেতাদের কথায় প্রভাবিত হয়ে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তাঁর এই অভিযোগ নেহাত অমূলক নয়৷ যেমন জ্ঞানবন্ত সিংয়ের ক্ষেত্রে রাজ্য বিজেপির নেতারাই পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার অভিযোগ এনেছেন৷ সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো এবং লোকসভা ভোটের প্রার্থী অভিষেক ব্যানার্জির স্ত্রীর বিরুদ্ধে সোনা পাচারের একটি অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়েছে জ্ঞানবন্তের নাম৷ বিমানবন্দরে কাস্টমসের হাত থেকে অভিষেক ব্যানার্জির স্ত্রীকে বাঁচাতে বিধান নগরের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত নিজে পুলিশ বাহিনী নিয়ে দৌড়ে গিয়েছিলেন বলে খবর৷ কাজেই রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিশন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, মমতা এই সন্দেহ প্রকাশ করেন৷

কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জবাবি চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, মমতার অভিযোগের বাস্তবিক ভিত্তি নেই৷ পরিস্থিতি বিচার করে, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তা এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষকদের যৌথ মতামতের ভিত্তিতে চার পুলিশ কর্মকর্তার এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ নির্বাচনের দিন ঘোষণা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি ঘোষিত হওয়ার পর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে৷ সেই সঙ্গে এও জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যে একা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই যে পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা নয়৷ ঝাড়খন্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলেঙ্গানাতেও বিশেষ পুলিশ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিযুক্ত হয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন যা করছে, তার বৈধ সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে থেকেই করছে৷

রবিবার নির্বাচন কমিশনের এই জবাব আসার কিছুক্ষণ পরেই এক নির্বাচনি জনসভায় মোদীর কটাক্ষ, ‘‌দিদি ভয় পেয়েছেন'‌! সেই শুনে‌ অন্য এক জনসভা থেকে মমতার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, ‘‘‌কয়েকজন পুলিস অফিসারকে বদল করে আমাকে দমানো যায় না৷ ওঁদের সরিয়ে যাঁদের আনা হলো, তাঁরাও আমারই লোক!‌’’ এবং তারপরই মমতা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চিট ফান্ড নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে। কুশলী মোদী সম্ভবত সেটাই মনে মনে চেয়েছিলেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন