মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি পালনে এখনো পিছিয়ে ভারত | বিশ্ব | DW | 29.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি পালনে এখনো পিছিয়ে ভারত

ভারতে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ মেয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে না৷ ঋতুকালে মেয়েরা কার্যত যেন অচ্ছুত হয়ে থাকে৷ বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠনগুলি এমনটাই জানালেন ডয়চে ভেলেকে৷ তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও শুনিয়েছেন তারা৷

আন্তর্জাতিক ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি দিবস ২০১৮ পালিত হলো ২৮শে মে সোমবার৷ বলিউডের ধাঁচে প্রকাশ্য মঞ্চের মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সক্রিয় হয়ে ওঠে ভারত৷ সেদিক থেকে অক্ষয় কুমার অভিনীত বলিউড ফিল্ম ‘প্যাডম্যান’ এক সদর্থক বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে, বিশেষ করে ভারতের মতো এক দেশে, যেখানে মেয়েদের পিরিয়ড বা ঋতু নিয়ে আলোচনা যেন খুবই লজ্জার বিষয়৷ তাই যেন তা বর্জনীয়৷ ওয়াটার, স্যানিটেশন, হাইজিন, সংক্ষেপে ওয়াশ-এর অঙ্গ হিসেবে মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট উদ্যোগী হয়েছে৷ সম্প্রতি ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি পালনে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে মেয়েদের টয়লেট নির্মাণ, যেসব মেয়ে আগে প্যাড ব্যবহার করেনি, তাঁদের সস্তায় স্যানিটারি প্যাড দেওয়া এবং তা জায়গামতো ফেলে দেওয়া ইত্যাদি কাজে এগিয়ে এসেছে অনেক ব্যক্তিবিশেষ এবং সংগঠন৷ যেমন, কেরালা, ছত্তিশগড় ও ওড়িশার সরকারি স্কুলে মেয়েদের বিনা পয়সায় প্যাড দেওয়া হয় যাতে তারা স্কুল কামাই না করে৷

ইউনিসেফের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২৮ শতাংশ মেয়ে মাসিক হলে স্কুল যায় না৷ কারণ, তাদের উপযুক্ত শোষক প্যাড থাকে না৷ স্কুল কামাই করতে করতে এক সময় তারা পড়া ছেড়ে দেয়৷ পরিণামে হয় তাদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়, অথবা শিশু শ্রমিক হয় আর না হলে মেয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে৷ আন্তর্জাতিক মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন দিবস পালন এইসব সমস্যা সকলের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ৷ পাশাপাশি, মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য নিয়ে সক্রিয় ও সজাগ হয়েছে বিভিন্ন নারীবাদী কর্মী ও সংগঠনগুলি৷

অডিও শুনুন 01:04
এখন লাইভ
01:04 মিনিট

মেয়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের দেশে কোনো ভাবনা-চিন্তা নেই: সুনন্দা মুখোপাধ্যায়

সচেতনতা প্রসারে পশ্চিমবঙ্গের মহিলা কমিশনের প্রাক্তন প্রধান সুনন্দা মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বললেন, মেয়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে, বিশেষ করে আমাদের দেশে কোনো ভাবনা-চিন্তা নেই৷ মেয়েরা কী খাবে, কী করলে মেয়েদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, কিভাবে তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে, এইসব না থাকার ফলেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাকে এত অবহেলা করা হয়৷ কাজেই দরকার যুক্তিযুক্ত আলোচনা৷ বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা৷ কেন মেয়েরা ঋতুমতী হয়? এতে গোপনীয়তার কী আছে? এ তো মেয়েদের একটা স্বাভাবিক শরীরী ধর্ম৷ এ তো হবেই৷ এই স্বাভাবিকতা আমাদের গ্রহণ করতেই হবে৷ অথচ সেটা আমরা করছি না৷ মিডিয়াতে, পত্রপত্রিকাগুলিতে অনেক বিষয় নিয়ে খোলাখুলি চর্চা হয়৷ কিন্তু এটা নিয়ে হয় না৷ নারী-পুরুষ সব সমাজকর্মীকে ডেকে আলোচনায় বসতে হবে৷ তবেই সচেনতা আসবে৷

অডিও শুনুন 02:10
এখন লাইভ
02:10 মিনিট

প্রায় ৫০ শতাংশ মহিলা প্যাড থেকে দূরে রয়েছেন: ভারতী দে

দুর্বার নামে যৌনকর্মীদের সংগঠন, যারা মূলত কাজ করে সোনাগাছির মতো যৌনপল্লিতে৷ সেই সংগঠনের ভারতী দে এই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বললেন, ‘‘আমরা যৌনকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করি৷ এই বছরেও করবো৷ চেষ্টা করি সচেতন করে তুলতে৷ দেখেছি এখনও অনেক মেয়ে আছে যাঁরা ঘরের পুরোনো কাপড় ব্যবহার করে, বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জে৷ আমরা তাঁদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করার উপকারিতা বোঝাই৷ তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা প্যাড কিনতে চায় না৷ পাশাপাশি জোর দিয়েছি স্যানিটারি ন্যাপকিন মার্কেটিংয়ের ওপর৷ হ্যাঁ, সাড়া ভালোই পেয়েছি বলতে পারেন৷ তবুও বলতে বাধা নেই, প্রায় ৫০ শতাংশ মহিলা প্যাড থেকে দূরে রয়েছেন৷ এদের বেশির ভাগই স্কুল পড়ুয়া৷ দুর্বার সংগঠনেরই মহাশ্বেতা মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে জানালেন যে, স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর থেকে জিএসটি শুল্ক যাতে তুলে নেওয়া হয়, কিংবা তা ন্যূনতম করা হয়, তার জন্য সরকারের কাছে আবেদন রাখা হয়৷

গত সোমবার নতুন দিল্লিতে মেয়েদের ঋতুস্রাবকালে কেন স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই পালনীয় সে বিষয়ে এক অধিবেশনে যোগ দেন গত বছরের মিস ইউনিভার্স মানুষি চিল্লার৷ দিল্লির কনটপ্লেসে তাঁর জন্য প্রচন্ড গরমে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে স্কুলের এক ঝাঁক ছাত্রী৷ হাতে তাদের প্ল্যাকার্ড৷ তাতে লেখা, ‘‘উই ব্লিড, সো ম্যানকাইন্ড থ্রাইভ,’’ অর্থাৎ ‘‘আমাদের পিরিয়ড হয়, যাতে মানবজাতি সমৃদ্ধ হয়৷’’ বিশ্ব সুন্দরী মানুষি চিল্লার বলেন, ‘‘মেয়েদের ঋতু নিয়ে যেসব কুসংস্কার আছে, যে গোপনীয়ভাব আছে, তা ভেঙে দিতে চাই৷ আমি খুশি যে উপস্থিত স্কুল ছাত্রীরা সেটা মনে রেখেছে৷’’ পরে তিনি নতুন দিল্লির পুর সংস্থার অডিটোরিয়ামে প্রশ্নোত্তর পর্বে যোগ দেন৷

উত্তর প্রদেশের মির্জাপুর, জৌনপুর ও শোনভদ্র এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হরি প্রসাদও পিছিয়ে নেই৷ মেয়েদের ঋতুকালে স্বাস্থ্যবিধি পালনে গ্রামের মেয়েদের সচেতন করে তুলতে এগিয়ে এসেছেন৷ তিনি জানতে পারেন, প্রতিমাসে একই কারণে ২৮ লাখ কিশোরী স্কুলে যায় না৷ অস্বস্তি ও লজ্জার কারণে৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে দরবার করে মেয়েদের বিনামূল্যে প্যাড দেবার ব্যবস্থা করেছেন তিনি৷ তাই গ্রামের অনেকেই এখন তাঁকে ডাকে ‘প্যাডম্যান’ বলে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়