মোহাম্মদ আলী, মার্টিন লুথার এবং যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ | বিশ্ব | DW | 03.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

মোহাম্মদ আলী, মার্টিন লুথার এবং যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ

সাংবিধানিক অধিকার আর বাস্তবতা খুব কম দেশেই পুরোপুরি এক থাকে৷ যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ায় যারা সে দেশে সবার সাংবিধানিক সমানাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে বিস্ময় প্রকাশ করছেন, তারা মনে হয় সেই কথাটা মনে রাখছেন না৷

যুক্তরাষ্ট্রে অশ্বেতাঙ্গদের অধিকার সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠিত করার বেলায় সংবিধান আর মাঠ পর্যায়ের বৈপরিত্য তো আরো বিব্রতকর, আরো লজ্জার৷ এবং সেটা যুগ যুগ ধরে৷

নইলে কোন দুঃখে অলিম্পিক স্বর্ণপদক ওহাইয়ো নদীতে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন মোহাম্মদ আলী?

দুঃখ তো তাঁর এই ছিল যে, ১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকে বক্সিংয়ে সোনা জিতেছেন, কিন্তু শুধু গায়ের রং কালো বলে একটা রেস্তোরাঁয় কাজ করার সুযোগ পাননি৷ রেস্তোরাঁ মালিক সোজা বলে দিয়েছিলেন, ‘‘এখানে শুধু সাদারা কাজ করে৷’’

তখনও তিনি অবশ্য ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে মোহাম্মদ আলী হননি৷ ভিয়েতনাম যুদ্ধে না যাওয়ায় শাস্তি পাওয়া, হেভিওয়েট বক্সিংয়ের বিশ্ব খেতাব হারানো এবং তারপর একে একে তিনবার হারিয়েও আবার খেতাব জিতে সর্বকালের সেরা বক্সার হওয়া তো আরো পরের ঘটনা৷

ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র লাইট ওয়েটে অলিম্পিক সোনা জিতেছিলেন, তারপর হেভিওয়েটে সেরা হয়েছেন, মুসলমান হয়ে নতুন নামে তুলে ধরেছেন নিজেকে, বক্সিং ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে, এমনকি তাঁর সংগ্রামমুখর বর্নীল জীবনের অবসানও হয়েছে ২০১৬ সালে৷ ৭৪ বছরের জীবনে মোহাম্মদ আলী যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দেখে যেতে পেরেছেন, কিন্তু তৃণমূলে সব নাগরিকের মুখে সমান অধিকার উপভোগের হাসি দেখে যেতে পারেননি৷

Ashish Chakraborty

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

সবার মুখে এমন হাসি ফোটানোর জন্যই খুব লড়ছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র৷ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত যোদ্ধা নোবেল শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন ১৯৬৪ সালে৷ ঠিক  চার বছর পর এক সকালে হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটু নির্মল বাতাস গায়ে মাখতে গেলেন, গালে এসে লাগলো গুলি৷ সেই গুলিতেই জীবন শেষ৷ অহিংস আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থি জেমস আর্ল রে-র গুলিতে জীবন দিয়ে জানিয়ে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের বিষবৃক্ষ কত হৃষ্টপুষ্ট৷

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের বর্ণবাদী আচরণ নতুন নয়৷ ওবামার আমলেও তার ভুরি ভুরি নজির দেখা গেছে৷ সাম্প্রতিক সময়ে তা আরো বেড়েছে৷ না বাড়ার কারণও নেই৷ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে রাজনীতি শুধুই ভোটে জেতার খেলা৷ তার কথায়, কাজে বিভেদই বাড়ছে৷ গায়ের রংয়ের  বা সব ধরনের ভেদাভেদ তুচ্ছ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় প্রেরণা হওয়ার কোনো চেষ্টাই তার নেই৷ বরং উল্টোটা করেছেন, করছেন৷ ট্রাম্পের দেশে সংখ্যালঘুরা, সে কালো, অভিবাসী যা -ই হোক, বেশি ঝুঁকিতে আছেন, আরো বেশি ঝুঁকিতেই হয়ত থাকবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়