মেদ ঝরাতে কোষ মেরে ফেলার নতুন পদ্ধতি | অন্বেষণ | DW | 02.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মেদ ঝরাতে কোষ মেরে ফেলার নতুন পদ্ধতি

শরীরে বাড়তি মেদ ঝরাতে অনেক মানুষ কী না করে৷ খেলাধুলা বা ব্যায়ামের মতো স্বাস্থকর পন্থা ছাড়াও অপারেশন করিয়ে মেদ কেটে বাদ দেবার ব্যবস্থাও করেন অনেকে৷ এবার নতুন এক প্রক্রিয়ায় মেদের কোষ মেরে ফেলা হচ্ছে৷

স্টেফানি বার্টেলস খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকেন৷ সপ্তাহে তিন দিন ঘোড়া চালানো, ব্যাডমিন্টন ও এয়ারোবিকের জন্য বরাদ্দ রয়েছে৷ তা সত্ত্বেও ৪৭ বছর বয়স্ক এই নারী শরীরের একটি অংশ নিয়ে ভুগছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একটা বয়সের পর ওজন যেন শরীরে উপরের অংশ থেকে পেটে জমা হয়৷ যাই করি না কেন, সেই মেদ আর দূর হয় না৷''

কৃত্রিম পদ্ধতিতে মেদ শুষে নেওয়ার পথ তাঁর পছন্দ নয়৷ অপারেশনের ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর মনে ভয় রয়েছে৷ তাই তিনি ক্রাইওলিপোলিসিস নামের মেদ ঝরানোর পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন৷ ড. রেগিনা ভাগনার মেদ কমানোর এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেন৷ দাঁড়ানো অবস্থায় তেমন টের না পেলেও বসলে অস্বস্তি হয়৷ ড. ভাগনার বলেন, ‘‘জানা গেছে, নির্দিষ্ট এক তাপমাত্রায় মেদের কোষ কমতে পারে৷ অবশ্যই সেটা আমাদের শরীরের নিজস্ব তাপমাত্রা৷ কিন্তু ৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি ঠান্ডা হলে কোষ মরে যায়৷ একে আমরা অ্যাপোপটোসিস বা কোষের মৃত্যু বলি৷''

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই ক্রাইওলিপোলিসিস প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন এবং একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছেন৷ ত্বকের সুরক্ষায় এক

বিশেষ জেল লাগানো হয়৷ মেদের কোষ জমাতে গিয়ে ত্বকও যাতে শীতল না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হয়৷ তারপর শীতল করার অ্যাপ্লিকেটর যন্ত্র প্রয়োগ করা হয়৷ সেটি নেগেটিভ প্রেশারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গা শুষে টেনে ধরে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে দেয়৷

এক ঘণ্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলে৷ অ্যাপ্লিকেটরের শীতল তাপমাত্রা মেদের কোষ থেকে শক্তি কেড়ে নেয়৷ তখন মেটাবলিজম বন্ধ হয়ে কোষের মৃত্যু হয়৷ ৬০ মিনিট পরে যন্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়৷ তখন একটা স্তর থেকে যায়৷ মালিশ করে সেটি দূর করতে হয়৷

হানোফার শহরে মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়েও মেদ ঝরানোর পদ্ধতি পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ এমনিতে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই, তবে একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না৷ প্রো. পেটার এম ভোগ্ট বলেন, ‘‘যে সব রোগীর অন্যান্য রোগ রয়েছে, এই প্রক্রিয়া তাদের জন্য উপযুক্ত নয়৷ যেমন যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান৷ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও এটা ভালো নয়৷ ত্বকের রোগ ও বাড়তি মেদের জায়গায় রক্তনালীর পরিবর্তন ঘটে থাকলেও চলবে না৷ এখনো পর্যন্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে অতি সামান্য৷ বড়জোর ত্বকের রং কিছুটা বদলে যায়, অনুভূতি কিছুটা কমে যায়৷''

তিন মাস পর স্টেফানি বার্টেলস আবার পরীক্ষার জন্য এসেছেন৷ দেখা গেল, তিনি ভালোই আছেন৷ ত্বকের উপর কালশিরা বা কোনো দাগ নেই৷ প্রথমদিকে জায়গাটা স্পর্শ করলে সংবেদনশীল মনে হতো, যদিও কষ্ট হয়নি৷ ব্যথাও নয়৷ পরিমাপের পর দেখা গেল প্রায় ৬ সেন্টিমিটার কমে ৮৫ সেন্টিমিটারে দাঁড়িয়েছে৷

৬ সেন্টিমিটার ভুঁড়ি কমানো বেশ চমকপ্রদ ঘটনা বটে৷ আগের ও পরের ছবিতেই পার্থক্য চোখে পড়ে৷ কিন্তু ঝরানো মেদ কি স্থায়ীভাবে দূরে থাকবে? ড. রেগিনা ভাগনার বলেন, ‘‘এবার খাবারের উপর সবকিছু নির্ভর করছে৷ কোনো রোগী যদি বাকি মেদ কোষগুলিকে আবার খাইয়ে-দাইয়ে পুষ্ট করে তোলে, তাহলে সেখানে তো মেদ বাড়বেই৷ তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সব মেদ কোষ মেরে ফেলা হয়েছে, সেগুলির আর অস্তিত্ব নেই৷ সেগুলি আর ফিরে আসবে না৷''

স্টেফানি বার্টেলস রোগাপাতলা থাকতে ভবিষ্যতেও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে চান৷

ইয়ুডিট স্ট্রুংক/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন