মেঘের রহস্য ভেদ করার অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 09.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মেঘের রহস্য ভেদ করার অভিনব উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে যে মডেল ব্যবহার করা হয়, অনেক সূক্ষ্ম তথ্যের অভাবে তা আজ সম্পূর্ণ নয়৷ বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ ও উন্নত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আরও নিখুঁতভাবে গ্যাস পরিমাপ করছেন৷

জলবায়ুর ক্ষেত্রে মেঘের দু-দু'টি ভূমিকা রয়েছে৷ একদিকে মেঘ তার ছায়ার সাহায্যে ভূপৃষ্ঠ শীতল রাখে, অন্যদিকে পৃথিবী থেকে যে উত্তাপ বিকিরণ হচ্ছে, তার প্রতিফলন ঘটায়৷ মেঘেদের সম্মিলিত প্রভাব পরিমাপ করা কঠিন৷ কিন্তু মেঘের পরিবর্তনের ফলে কি বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব আরও জোরালো হচ্ছে?

এক টাস্ক ফোর্স এক প্রাক্তন রুশ গোয়েন্দা বিমান কাজে লাগিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে৷ এই ‘গেওফিজিকা' বিমান ২০,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে, অর্থাৎ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ছুঁতে পারে৷ এমন এক অ্যাডভেঞ্চারে ভরা মিশনে বিজ্ঞানীরা শুধু মেঘ তৈরির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন না, তাঁরা মিথেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মতো জলবায়ুর জন্য প্রাসঙ্গিক গ্যাসগুলিও আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে চান৷ জলবায়ু গবেষক মার্টিন রিসে বলেন, ‘‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গোষ্ঠী একই লক্ষ্য নিয়ে একত্র হয়ে কাজ করছে৷ আমরা এমন তথ্য সংগ্রহ করছি, যা সহজে পাওয়া সম্ভব নয়৷ কিন্তু জলবায়ুর মডেল আরও উন্নত করতে এই তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে৷''

এই ক্যামেরা ক্ষুদ্রতম আলোর পার্টিকেলের সামান্য ইনফ্রারেড বিকিরণও পরিমাপ করতে পারে৷ ফলে বায়ুমণ্ডলে বাতাসের উপকরণ নির্ধারণ করা যায়৷ গেওফিজিকা বিমানের ককপিটের ঠিক নীচে সেই ক্যামেরা বসানো আছে৷

গ্লোরিয়া নামের এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব আরও নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে বর্তমান জলবায়ু মডেলের উন্নতি করতে চান৷ গোটা বিশ্বে এই প্রথম নতুন প্রজন্মের এই পরিমাপের যন্ত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ ভবিষ্যতে এগুলি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইটে বসানো হবে৷

গ্লোরিয়া-র সবচেয়ে সেরা আকর্ষণ হলো এক ইনফ্রারেড ক্যামেরা, যা নড়াচড়া সত্ত্বেও স্থিতিশীল থাকে৷ সেই ক্যামেরা দিয়ে তোলা উচ্চ মানের ফটোর সাহায্যে জলবায়ুর গ্যাসের ঘনত্ব ও বায়ুমণ্ডলে সেগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যায়, যেমনটা আগে কখনো সম্ভব হয়নি৷ মার্টিন রিসে বলেন, ‘‘গ্লোরিয়া তার ইনফ্রারেড বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে গ্যাস পরিমাপ করে৷ যে কোনো বস্তুর মতো অতি ক্ষুদ্র পার্টিকেল, মেঘের অংশ ও অণুও বায়ুমণ্ডলে ইনফ্রারেড স্তরে বিকিরণ করে৷ সেগুলি শনাক্ত ও পরিমাপ করা সম্ভব৷''

গোটা বিশ্বে মাত্র ৪ জন পাইলট গেওফিজিকা বিমান ওড়াতে পারেন৷ তাঁরা সবাই রুশ বিমানবাহিনীর টেস্ট পাইলট৷ উড়ালের আগে সকাল ১০টা নাগাদ শেষ প্রস্তুতি চলছে৷ উত্তেজনা বাড়ছে৷ গবেষকদের দল অনেক কাজ করেছে৷ গ্লোরিয়ার প্রথম পরীক্ষামূলক উড়াল শুরু হতে চলেছে৷ বিমানের যন্ত্রাপাতিগুলিকে কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে হবে৷ মার্টিন রিসে বলেন, ‘‘গ্লোরিয়াকে গ্রীষ্মপ্রধান এলাকা থেকে মেরু অঞ্চলে পরিমাপের কাজ চালাতে হয়৷ আমরা রুশ গবেষণা বিমান গেওফিজিকায় এটি ব্যবহার করছি৷ ইউরোপে এটা একটা অভিনব প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে এই যন্ত্র ২১ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছতে পারছে৷ সেখানে ভীষণ ঠাণ্ডা, তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ৮০ ডিগ্রি৷ ইলেকট্রনিক ও যান্ত্রিক সিস্টেমের তা সামলানোর ক্ষমতা থাকতে হবে৷''

প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ালেই কি গ্লোরিয়া ঠিকঠাক কাজ করবে এবং সফলভাবে পরিমাপের কাজ করতে পারবে? প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতার পরিস্থিতি কোনো ল্যাবেই সিমুলেট বা নকল করা সম্ভব নয়৷

গেওফিজিকার লক্ষ্য মেরু প্রদেশের ঘূর্ণিঝড়৷ শীতে উত্তর মেরুর উপর বিস্তারিত নিম্নচাপ এলাকা গোটা বিশ্বের জলবায়ুর উপর প্রভাব ফেলবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়