মেক্সিকোয় সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 15.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

মেক্সিকোয় সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ

মেক্সিকোয় সূর্যালোকের অভাব না থাকলেও সৌরশক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত৷ আর্থিক ও পরিবেশগত সুবিধা তুলে ধরে একটি কোম্পানি শিল্পক্ষেত্রে সৌরশক্তির প্রয়োগ বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ নিচ্ছে৷

আর্থিক সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিনিয়োগ

লাকতেয়স মোহিকা চিজ ডেয়ারি এক পারিবারিক ব্যবসা৷ এই কোম্পানি প্রতি সপ্তাহে মেক্সিকোর বাজারের জন্য ৪০ টন চিজ উৎপাদন করে৷ প্রতি সপ্তাহে কারখানায় ৪০,০০০ লিটার গরম পানি ব্যবহার করা হয়৷ জীবাণু মেরে ফেলতে তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখতে হয়৷ সেই পানি গরম করতে প্রায় এ লাখ লিটার তরল গ্যাস ব্যবহার করা হয়৷

ছাদের উপর ট্যাংকগুলি বসানো রয়েছে৷ নতুন সৌর প্রযুক্তির মাধ্যমে অবশ্য এর মধ্যেই আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে৷ কোম্পানির মালিক রিগোব্যার্তো মোহিকা গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘‘এখনো পর্যন্ত আমাদের মাসে ৮০,০০০ মেক্সিকান পেসো মাশুল দিতে হতো৷ এখন সেই ব্যয় ৩০ শতাংশ কমে গেছে৷’’

কিন্তু এই প্রযুক্তি প্রয়োগের প্রক্রিয়ার ব্যয় তাঁর জন্য মোটেই কম ছিল না৷ ছাদের উপর প্রায় ১২০ বর্গ মিটার জায়গা জুড়ে সৌরশক্তির মাধ্যমে পানি গরম করার প্রণালীর খরচ পড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার ইউরোর মতো৷ এখন সরাসরি সূর্যালোকের মাধ্যমে পানি গরম করা হচ্ছে৷ কিন্তু এখনো উন্নতির সুযোগ রয়েছে৷

ভিডিও দেখুন 05:13

শিল্পক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে জার্মান সহায়তা

সেই কাজে সহায়তা করতে ইনভেন্টিভ পাওয়ার কোম্পানির প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান লদো আগ্রাস উইত্রন কারখানায় এসেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সৌরশক্তি সংগ্রহ করে তার উত্তাপ কারখানার প্রচলিত প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ সাধারণত কোম্পানিগুলি জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির সাহায্যে বাষ্প সৃষ্টি করে৷ প্রচলিত বয়লারের বদলে সৌর প্রণালী ব্যবহার করেও যে একই কাজ করা যায়, ক্রেতাদের তা বোঝানো সহজ নয়৷’’

জ্বালানির আদর্শ ব্যবহার

কোম্পানির দুই প্রতিষ্ঠাতা শুধু বিপণনের বিষয়ে আগ্রহী নয়৷ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তাঁরা দুজনেই ডেয়ারিতে আরও দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহার করতে চান৷ ইনভেন্টিভ পাওয়ার কোম্পানির কর্ণধার আনখেল মেহিয়া সান্তিয়াগো বলেন, ‘‘প্রত্যেক প্রকল্পই অদ্বিতীয়৷ ব্যবসার প্রক্রিয়া আদর্শ করে তুলতে এবং জ্বালানির ব্যবহার ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে সময় লাগে৷’’

প্রায় সাড়ে পাঁচশো কিলোমিটার পূর্বে মেক্সিকো সিটি অবস্থিত৷ জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি৷ পৃথিবীর এই প্রান্তে পর্যাপ্ত সূর্যালোক সত্ত্বেও সৌরশক্তি এখনো বড় ব্যবসা হয়ে উঠতে পারে নি৷

আনখেল মেহিয়া একই জায়গায় মোট তিনটি বাণিজ্যমেলায় গেছেন৷ তার মধ্যে একটির নাম ইন্টারসোলার মেক্সিকো৷ মেহিয়া মেলা ঘুরে দেখে প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ধারণা পেতে চান৷ সেইসঙ্গে নিজের ব্যবসাও চাঙ্গা করতে চান৷ মেলায় তাঁর কোম্পানিরও নিজস্ব স্টল রয়েছে৷ আনখেল বলেন, ‘‘আমাদের প্রযুক্তি সম্পর্কে দর্শকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য৷ এমন ধরনের প্রযুক্তি যে মেক্সিকোয় একশোরও বেশি কোম্পানিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা জানানো প্রয়োজন৷ অর্থাৎ দর্শকদের বোঝাতে হবে, যে এই প্রযুক্তি সত্যি চালু আছে এবং এখনই তা কাজে লাগানো সম্ভব৷’’

সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে জার্মানির সহযোগিতা

তবে শিল্পক্ষেত্রে থার্মাল বা উত্তাপভিত্তিক সৌর প্রযুক্তির প্রয়োগ এখনো বাজারের এক সামান্য অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ৷ সোলার মার্কেটিং স্ট্র্যাটিজিস্ট হিসেবে মারিসোল ওরোপেসা সেই পরিস্থিতি বদলানোর পরিকল্পনা করছেন৷ জার্মান সরকারের সহায়তায় তিনি গোটা দেশে সোলার থার্মাল প্রযুক্তির ভাবমূর্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন৷ মারিসোল বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব রয়েছে৷ অনেক মানুষ এখনো জানে না, যে সৌর জ্বালানি ব্যবহার করে পানি গরম করা যায়৷ অনেকের ধারণা, সৌরশক্তি ব্যবহার করে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব৷ তাই মানুষকে এর অন্য প্রয়োগ সম্পর্কেও বোঝাতে হবে৷’’

২০১০ সালে ইনভেন্টিভ পাওয়ার কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷ এই কোম্পানি ৬০টি সোলার থার্মাল প্লান্ট গড়ে তুলেছে, সম্মিলিতভাবে যেগুলি বছরে প্রায় ৪,০০০ টন কার্বন নির্গমন কমাচ্ছে৷ আলদো আগ্রাস উইত্রন এই প্রযুক্তির উপযোগিতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘এই সোলার কালেক্টরের আকার প্যারাবোলিক বা অধিবৃত্তের মতো৷ সেটির উপরিভাগে যত শক্তি ধরা পড়ে, তা এই রিসিভারে প্রতিফলিত হয়৷ ফলে সেখানে উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়৷ নলের মধ্য দিয়ে পানি যাবার সময়ে সূর্যের আলো থেকে পাওয়া প্রবল উত্তাপ শুষে নেয়৷’’

প্রযুক্তির আদর্শ প্রয়োগ

তবে সেই কালেক্টারের অবস্থান নিখুঁত হতে হবে৷ আলদো আগ্রাস উইত্রন তার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘যতটা সম্ভব শক্তি ধরতে কালেক্টরটিকে সারাদিন সূর্যের গতিপথ অনুযায়ী অবস্থান নিতে হয়৷ সেটা সম্ভব করতে আমরা পাওয়ার ট্র্যাকার প্রো ব্যবহার করি৷ সেই ইলেকট্রনিক বোর্ডের মধ্যে সেন্সরসহ নানা যন্ত্রপাতি রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রকল্পগুলিতে সৌরশক্তির ব্যবহারের উপর নজর রাখা যায়৷’’

এই ডেয়ারি কোম্পানির প্রধান প্রকল্পগুলির মধ্যে পড়ে৷ মালিক হিসেবে রিগোব্যার্তো আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে বিনিয়োগের সুফল পাবার আশা করছেন৷ পরিবেশে উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ অবশ্যই বিশাল অবদান রাখছে৷

ভল্ফগাং ব্যার্নার্ট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন