মৃত্যুর পর প্রবাসীদের স্বদেশে ফেরা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 08.12.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মৃত্যুর পর প্রবাসীদের স্বদেশে ফেরা

অভিবাসীদের অনেকেই মৃত্যুর পর স্বদেশে সমাহিত হতে চান৷ কয়েক দশক জার্মানিতে থাকার পরও ফেলে আসা মাতৃভূমির প্রতি টানটা থেকেই যায়৷

default

মৃত্যুর পর স্বদেশে সমাহিত হতে চান অনেক প্রবাসী

অভিবাসীদের এই আকাঙ্খা থেকেই ব্যবসা গড়ে তুলেছেন রাদিসা মিহাজলোভিচ দ্রান্ডা৷ সার্বিয়ার শহর পোসারেভেচে অবস্থিত তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘দ্রান্ডা ইন্টারন্যাশনাল' বিদেশ থেকে মৃতদেহ নিয়ে আসার কাজটি করে থাকে৷ এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এটি৷ যে সব অভিবাসী সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন ও জার্মানিতে বসবাস করছেন তাদের অনেকেই মৃত্যুর পর স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন৷ বলে যান তাদের সন্তান-সন্ততিদের৷

‘‘তবে মা-বাবা, নানা-নানি ও দাদা-দাদিরা তাদের অন্তিম ইচ্ছাটা প্রকাশ করে না গেলে জার্মানিতেই তাদের সমাহিত করা হয়৷ কেননা তাহলে তাঁদের কবর বংশধরদের কাছাকাছি হয়,'' বলেন মিহাজলোভিচ৷

Islamische Bestattung Grab nach der Beisetzung

কোলোন শহরের একটি ইসলামি কবরস্থান

সঠিক সংখ্যাটা জানা যায়নি

অভিবাসীদের মধ্যে কতজন এই আকাঙ্খা প্রকাশ করেন, তার সঠিক সংখ্যাটা জানা যায়নি৷ এজন্য প্রয়োজন মৃতদেহের পাসপোর্ট৷ এটি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তালিকাবদ্ধ না হওয়ায় পরিসংখ্যানও ঠিকমত পাওয়া যায় না৷

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সংক্রান্ত জার্মানির বৃহৎ ইন্টারনেট পোর্টাল-এর ফাবিয়ান শাফ-মেখটা অনুমান করেন, বছরে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ মৃতদেহ জার্মানি থেকে বিদেশে পাঠানো হয়৷

অনেকে ২০-৩০ বছর জার্মানিতে বসবাস করলেও পরিবার পরিজনের সবাইকে এখানে আনতে পারেন না৷ তাই তারা পুরানো স্বদেশেই সমাহিত হতে চান৷ এছাড়া কেউ কেউ শেকড়ের কাছেই ফিরে যেতে চান মৃত্যুর পরে হলেও, বলেন ড্যুসেলডর্ফের ইসলামি দাফন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিখাম-এল-ফাউন্টি৷ তাঁর ভাষায় ‘‘এতে বোঝা যায় মাতৃভূমির প্রতি নিবিড় টানটা৷ মানুষ সেখানেই সমাহিত হতে চায়, যেখানে পূর্বপুরুষরা চিরনিদ্রায় শায়িত৷''

মুসলিম কবরের রীতিনীতি ভিন্ন

অবশ্য মুসলিমদের ক্ষেত্রে স্বদেশে সমাহিত হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ নয়৷ ইসলাম ধর্মমতে, পবিত্র তীর্থস্থান মক্কার দিক অনুযায়ী কবর দেওয়া উচিত৷ জার্মানিতে সেটা সবসময় সম্ভব হয় না, জানান এল-ফাউন্টি৷

এছাড়া ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী কবর দিতে হয় কফিন ছাড়া৷ এক্ষেত্রেও অসুবিধা রয়েছে জার্মানিতে৷

যদিও নর্থ-রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কফিনে কবর দেওয়াটা বাধ্যতামূলক নয় এখানে৷ জার্মানির অনেক কবরস্থানে ইসলামি প্রথা অনুযায়ী কবর দেওয়া হচ্ছে৷ তবে সব কবরস্থানে এই ব্যবস্থা রাখা হয় না বলে জানিয়েছে মুসলিম সমিতিগুলি৷

কবরস্থানগুলির নিজস্ব নিয়মকানুন আছে

নর্থ-রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ কবরস্থানের নিজস্ব নিয়মকানুন রয়েছে৷ এক্ষেত্রে খরচপাতিও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে৷ প্রক্রিয়াটা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে থাকে৷ এল-ফাউন্টি জানান, জার্মানিতে একটি অস্থায়ী কবরের জন্য ১,০০০ থেকে ৫,০০০ ইউরো খরচ হতে পারে৷ এক্ষেত্রে সমাহিতরা কেবলমাত্র ‘ভাড়াটে'৷ ২০ বছর পর আত্মীয় স্বজনদের কবরটিকে নবায়ন করার জন্য আবেদন করতে হয়৷ ‘‘তাই ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি৷ প্রায় ক্ষেত্রেই সমাহিত করার জন্য লাশ স্বদেশে পাঠিয়ে দেওয়াটাই সস্তা পরে,'' বলে জানান এল-ফাউন্টি৷

উল্লেখ্য ‘দ্রান্ডা ইন্টারন্যাশনাল' মৃতদেহ পরিবহণের জন্য প্রতি কিলোমিটারে এক ইউরো করে নেয়৷ অর্থাৎ ১৫০০ কিলোমিটার দূরের কোনো স্থানে কবর দিতে হলে ১৫০০ ইউরো ব্যয় হয়৷ দূরত্ব বেশি হলে মৃতদেহ প্লেনে পাঠানো হলে খরচ কম পড়ে৷

হিন্দু ধর্মের প্রথা অনুযায়ী শবদাহ করার পর সেই ভস্ম পবিত্র নদী গঙ্গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়, বলেন শাফ মেখটা৷ শবদাহের প্রক্রিয়াটা জার্মানিতেই করা হয়৷ ছাইটা গঙ্গা নদীতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়৷ আত্মীয়-স্বজনরা ভস্মের পাত্রটি প্লেনে হাতব্যাগে করেই নিয়ে যেতে পারেন৷ অথবা তা পাঠাতে পারেন ডাক মারফত৷ সমস্ত প্রক্রিয়াটা সুলভ মূল্যেই করা সম্ভব৷ জার্মানিতে মৃতদেহের ভস্ম নদীতে ছড়ানো দণ্ডনীয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন