মুসলিম বিদ্রোহীদের কারণে ‘আতঙ্কে′ থাই সেনারা | বিশ্ব | DW | 07.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মুসলিম বিদ্রোহীদের কারণে ‘আতঙ্কে' থাই সেনারা

থাই সামরিক বাহিনী এবং সেদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মুসলিম বিদ্রোহীদের মধ্যে গত প্রায় দুই দশক ধরে সংঘাত চলছে৷ মাঝখানে কিছুদিন সহিংসতা কম হলেও এখন আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের সংঘাতপ্রবণ এলাকার এক চেকপয়েন্টের কাছে ছবি তুলছিলেন এক সাংবাদিক৷ তাঁকে থামাতে দ্রুত সেখানে হাজির হন এক নিরাপত্তারক্ষী৷ সাংবাদিকের পরিচয় জানার পর অবশ্য শান্ত হন নিরাপত্তারক্ষী৷ চেকপয়েন্টে ঝুলিয়ে রাখা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ছবির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘বিদ্রোহীরা যে ক্রমাগত কতটা নৃশংসতা চালাচ্ছে, তা আমার পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন৷''

তিনি বলেন, ‘‘রাজার মৃত্যুর পর কিছুদিন সবকিছু শান্ত ছিল৷ কিন্তু এখন আবার সহিংসতা শুরু হয়েছে৷''

আরেক চেকপোস্টে থাকা এক সেনাকর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা সার্বক্ষণিক আতঙ্কে থাকি৷ সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, আমরা জানি না কখন এবং কোথায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পরবর্তী হামলা চালাবে৷ তারা বিশেষ কোনো পোশাক বা প্রতীক ব্যবহার না করায় সাধারণ জনতা থেকে তাদের আলাদা করা এক দুরূহ ব্যাপার৷''

মালয়েশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে গত কয়েকমাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বিচ্ছিন্নভাবে বোমা বিস্ফোরণ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে৷ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মূল লক্ষ্য সেনা এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা৷ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে অস্থিরতার দিকে নজর রাখা বেসরকারি উন্নয়নসংস্থা ‘ডিপ সাউথ ওয়াচ' জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহিংসতার শিকারের সংখ্যা বেড়েছে৷

পাটানি, ইয়ালা এবং নারাথওয়াত রাজ্যকেথাইল্যান্ডের ‘ডিপ সাউথ' হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷বৌদ্ধপ্রধান দেশটির এই রাজ্যগুলোতে মুসলমানদের বসবাস বেশি৷ গত দুই দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি হচ্ছে, এই রাজ্যগুলোকে স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দিতে হবে৷ কিন্তু থাই সরকার সেই দাবি মেনে নেয়নি৷ বরং দেশটির সেনাবাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে৷

উল্লেখ্য, ২০০৪ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে নিয়মিত সহিংস ঘটনা ঘটতে শুরু করে৷ আর তখন থেকে এখন অবধি বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং থাই সরকারের মধ্যে সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সাত হাজারের মতো মানুষ৷ আহত হয়েছেন চৌদ্দ হাজারের মতো৷ মাঝখানে সহিংসতা কমলেও অস্থির পরিস্থিতির অবসানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ বরং যে-কোনো সময় পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷

প্রতিবেদন: জুলিয়ান কুং (ব্যাংকক) / এআই

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন