মুসলমানদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন সু চি | বিশ্ব | DW | 19.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মিয়ানমার

মুসলমানদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন সু চি

মিয়ানমারের নোবেলজয়ী অং সান সু চি মঙ্গলবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, মিয়ানমার থেকে এত মুসলমানের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন৷ মিয়ানমার এর কারণ জানতে চায় বলে জানান তিনি৷

সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত রাখাইনে কোনো ধরণের সশস্ত্র সংঘর্ষ ও সেখানে কোনো ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' চলেনি বলে দাবি করেন সু চি৷ ‘‘তবুও অনেক মুসলমানের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন৷ কেন এরকম ঘটছে তার কারণ আমরা খুঁজে বের করতে চাই,’’ বলেন তিনি৷

বাংলাদেশ থেকে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সু চি বলেন, তাঁর দেশ যে কোনো সময় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত৷ ‘‘যাচাইয়ের মাধ্যমে যে শরণার্থীরা এ দেশের বলে প্রতীয়মান হবে, তাঁদের কোনো সমস্যা ছাড়াই গ্রহণ করা হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা ও মানবিক সাহায্য নিশ্চিত করা হবে,’’ বলেন তিনি৷

তবে অতীতে বাংলাদেশ থেকে খুবই অল্প সংখ্যক শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার৷ যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ৷

সু চি তাঁর বক্তব্যে রাখাইনের সংখ্যালঘু মুসলমানদের কথা বলতে গিয়ে রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি৷ তবে বলেছেন, ঐ অঞ্চলে বসবাসকারী বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং সেখানে শান্তি ও স্থিতি ফিরিয়ে আনতে তাঁর সরকার সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷

রাখাইনে চলা সামরিক অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ৷ সু চি তাঁর আধ ঘণ্টার বক্তব্যে এই অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ না করে বলেছেন, তাঁর সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ৷ ‘‘আমরা সব ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি সংঘাতের নিন্দা জানাই৷ আমরা ঐ রাজ্যে শান্তি, স্থিতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ,’’ বলেন সু চি৷

ভিডিও দেখুন 03:26
এখন লাইভ
03:26 মিনিট

Rohingya fleeing Myanmar find no shelter in Bangladesh

সংঘাতের কারণে যেসব মানুষ দুর্দশায় পড়েছেন তাঁদের বিষয়টি তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের এই নোবেলজয়ী নেত্রী৷

ট্রাম্পের কাছে প্রত্যাশা নেই হাসিনার

জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ সোমবার এক পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ সেই সময় ট্রাম্পকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টি জানান৷ তবে এ নিয়ে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি বলে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী৷ ‘‘তিনি শুধু জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কেমন করছে? আমি বলেছি, বাংলাদেশ বেশ ভালো করছে, তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীরা,’’ রয়টার্সকে বলেন হাসিনা৷ ‘‘তবে তিনি (ট্রাম্প) শরণার্থীদের নিয়ে কোনো কথা বলেননি,’’ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী৷

শরণার্থীদের ব্যাপারে ট্রাম্প তাঁর মনোভাব আগেই পরিষ্কার করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে তাঁর কাছে সহায়তা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না৷ ‘‘অ্যামেরিকা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো শরণার্থী নেবে না৷ ফলে আমি তাদের কাছ থেকে, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কী আশা করতে পারি? তিনি ইতিমধ্যে তাঁর মনোভাব জানিয়েছেন৷ তাই আমি কেন তাঁকে (সাহায্যের বিষয়ে) জিজ্ঞেস করতে যাব?’’ বলেন হাসিনা৷

গণ-আদালতে শুনানি

ইটালি ভিত্তিক সংগঠন ‘পার্মানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ বা পিপিটির গঠন করা একটি আন্তর্জাতিক গণ-আদালত অং সান সু চিসহ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীবাহিনীকে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে৷ সোমবার মালয়েশিয়ায় এই মামলার শেষ পর্বের শুনানি শুরু হয়েছে৷ সেখানে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক৷

জেডএইচ/এসিবি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন