মুশতাকের মৃত্যু: কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পায়নি তদন্ত কমিটি | বিশ্ব | DW | 03.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মুশতাকের মৃত্যু: কারা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি পায়নি তদন্ত কমিটি

লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পায়নি কারাগারের গঠিত তদন্ত কমিটি৷ বুধবার তিন সদস্যের এই কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷ একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিও রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷

কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদার রিপোর্টের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি৷ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন৷ এছাড়া গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছেন৷ সেই কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে৷    

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একজন উপ-কারা মহাপরিদর্শককে প্রধান করে আমরা যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলাম সেই কমিটি বুধবারই রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷ রিপোর্টটি আজই আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি৷’’

রিপোর্টে কী আছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু আরও একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে, তাই এখনই রিপোর্টের বিষয়ে কিছু বলা যাবে না৷ তবে যে কোন তদন্ত কমিটির রিপোর্টে যদি কারা কর্মকর্তাদের গাফিলতি পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’ তদন্তে কোন কর্মকর্তার গাফিলতি পেয়েছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কোন গাফিলতি পাইনি৷ আসলে ওই মৃত্যুকে  স্বাভাবিক বলছি, এই কারণে যে কোন না কোন রোগের কারণে তিনি মারা গেছেন৷ কী রোগে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটা ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলেই জানা যাবে৷ আমাদের এখানে তার মৃত্যুটা স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে৷’’

অডিও শুনুন 01:17

আমাদের এখানে তার মৃত্যুটা স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে: কারা মহাপরিদর্শক

জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট

লেখক মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় গত শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়৷ কমিটিকে চার কর্মদিবসে রিপোর্ট দিতে বলা হয়৷ মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদারকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম, কারা উপ-মহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির, গাজীপুর জেলা কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. কামরুন নাহার৷ এছাড়া সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপ-সচিব আরিফ আহমদ কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন৷ মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে কারা কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার গাফিলতি ছিল কি-না, যদি থাকে তবে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছিল৷

এই তদন্ত কমিটিও বুধবার রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷ কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছি৷ কী আছে রিপোর্টে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রিপোর্টের বিষয়ে ব্রিফ করবেন৷ ফলে এখনই বলা যাবে না, আমরা তদন্তে কী পেয়েছি৷’’

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির সময় বাড়ল

এছাড়াও মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সময় আরও পাঁচ দিন বাড়িয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন৷ গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন৷ তিনি বলেছেন, মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর আগে তার চিকিৎসায় কারও অবহেলা আছে কিনা তা খতিয়ে  দেখতে অভ্যন্তরীণভাবে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির সদস্যরা হলেন, গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা ফারজানা৷ প্রথম দফায় কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল৷ সে অনুযায়ী সোমবার ছিল শেষ দিন৷ কিন্তু তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় কমিটি সময় বাড়ানোর জন্য সোমবার আবেদন করে৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটিকে সময় বাড়িয়ে পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে৷

জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে মামলায় কারাগারে থাকা লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয়েছে, সেই মামলায় ১০ মাস ধরে কারাবন্দি কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট৷ তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়৷ আদালত বলেছে, কিশোর যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন এবং এই মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর দিদারুল ভূঁইয়া এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের এই বেঞ্চ থেকে জামিন পেয়েছেন, সেই বিবেচনায় আহমেদ কবির কিশোরকে ছয় মাসের জামিন দেওয়া হল৷

আদালতে কিশোরের জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আদালত তাকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন৷ আহমেদ কবির কিশোরের নামে আর কোনো মামলা নেই৷ ফলে তার মুক্তি পেতে এখন আর কোন বাধা নেই৷ যত দ্রুত সম্ভব আমরা আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছি৷’’

অডিও শুনুন 00:32

তার (কিশোর) মুক্তি পেতে এখন আর কোন বাধা নেই: জ্যোতির্ময় বড়ুয়া

প্রসঙ্গত কারাবন্দি আহমেদ কবির কিশোরের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয় বলে দু'দিন আগে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছিলেন তার ভাই আহসান কবির৷ তিনি বলেন, ‘‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি যখন আদালতে হাজির করে তখন আমরা সেখানে দেখা করেছিলাম৷ তখন কিশোর আমাদের জানিয়েছে, অত্যচারের কারণে তার বাম পায়ের গোড়ালিতে ইনফেকশন হয়ে গেছে৷ যে কারণে হেঁটে বেশিদূর যেতে পারে না৷ কারও সাহায্য নিতে হয়৷ নির্যাতনে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে৷ চিকিৎসা না হওয়ার কারণে সেখান দিয়ে পুজ বের হয়৷ আর তার ডায়াবেটিস এখন ১৭ থেকে ২৭ এর মধ্যে উঠানামা করে৷ এই কারণে সে চোখেও খুব একটা ভালো দেখতে পারে না৷’’ সেখানে কী চিকিৎসা হচ্ছে না? জবাবে জনাব কবির বলেন, মাঝে মধ্যে কারা হাসপাতালে নেয়, সেখানে তো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই৷’’ নির্যাতন কোথায় হয়েছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘কারাগারে নেওয়ার আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়