মুরসির মৃত্যু: জাতিসংঘের তদন্ত দাবি | বিশ্ব | DW | 18.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মিশর

মুরসির মৃত্যু: জাতিসংঘের তদন্ত দাবি

মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সোমবার আদালতে মারা যান৷ তাঁর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এইচআরডাব্লিউ৷

নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডাব্লিউ বলছে, ‘‘বছরের পর বছর কারাগারে মুরসিকে অনেকটা সময় নিঃসঙ্গ রাখা, পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে না দেয়া, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ইত্যাদির পর মুরসির মৃত্যু হয়েছে৷''

সংস্থার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিচালক সারাহ লেয়াহ হুইটসন বলেন, মুরসির সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের আচরণ ‘ভয়ংকর' ছিল৷ ‘‘এর জন্য দায়ীদের তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত,'' বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মুরসির মৃত্যুর তদন্ত করতে মিশর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷

২০১১ সালে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসলামি গোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুড সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে৷ দলটি বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে৷

এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছিলেন মুরসি৷ তবে তাঁর শাসনামলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযান, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা ও দেশকে ইসলামিকরণ করার অভিযোগ এনেছিলেন সমালোচকেরা৷ এই অবস্থায় মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে ২০১৩ সালে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তার করে সামরিক বাহিনী৷

এরপর থেকে বিচার চলছিল মুরসির৷ সোমবার আদালতে নিজের বক্তব্য রাখার পর অসুস্থ বোধ করে সেখানেই মারা যান বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি টেলিভিশন৷ অপ্রকাশিত মেডিকেল সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, মুরসি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন৷

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে মুরসিকে কায়রোর এক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর এক আইনজীবী৷ মুরসির ছেলে আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁরা মুরসিকে তাঁর জন্মভূমি শারকিয়া রাজ্যে দাফন করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনুমতি না দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি, আহমেদ জানান৷

মুরসির দাফনের সময় সংবাদকর্মীদেরও সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়৷ এছাড়া মুরসির জন্মভূমিতেও তাঁদের যেতে দেয়া হয়নি৷

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ান মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁকে ‘শহিদ' ও ‘ভাই' বলে আখ্যায়িত করেছেন৷ আর মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাতাহ-আল-সিসিকে ‘নিষ্ঠুর' বলেছেন৷

মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মোহামেদ সুদান মুরসি ‘পরিকল্পিত হত্যার' শিকার বলে মন্তব্য করেছেন৷

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিচ মুরসির আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন৷

এছাড়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিও মুরসির  মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন৷ আরও শোক জানিয়েছে ইরান, মালয়েশিয়া, হামাস এবং পাকিস্তানের জামাত-ই-ইসলামী দল৷

জেডএইচ/কেএম (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন