মুন্সিগঞ্জের ট্রলারডুবি যে সত্যগুলো উন্মোচন করল | বিশ্ব | DW | 21.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

মুন্সিগঞ্জের ট্রলারডুবি যে সত্যগুলো উন্মোচন করল

মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কিন্তু কমিটির প্রতিবেদন কি আলোর মুখ দেখবে? রিপোর্টের কি কোনো কার্যকারিতা আছে? এমন দুর্ঘটনা কি এড়ানো সম্ভব হবে?

১৫ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাতে মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদীতে একটি তেল বোঝাই কার্গোর সাথে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে যায়৷ মাটি বোঝাই ওই ট্রলারটিতে ৩৪ জন শ্রমিক ছিলেন৷ তাঁদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠলেও  বাকি ২০ জনের ১৮জনেরই এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ রবিবার দু'জনের লাশ করা হয়৷

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা নিখোঁজদের সন্ধান পেতে ৬ দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছি৷ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে৷''

আইন না মানার কারণেই এই দুর্ঘটনা?

নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘‘আইন না মানার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ এই ধরনের নৌযান রাতে চলাচলের কোনো নিয়ম নেই, তারপরও চলছে৷ এগুলোর নকশা অনুমোদিত নয়৷ অবৈধভাবে চলাচল করছে৷ সার্ভে সার্টিফিকেট নেই৷ তাঁরা যে মাটি কেটে আনছে, তা-ও অবৈধ৷ এরসঙ্গে জড়িত সবাই ক্রিমিনাল৷''

অডিও শুনুন 01:38

‘আইন না মানার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটে’

তিনি জানান, ‘‘এই জলযানগুলো একেবারেই অবৈধ৷ তাদের কোনো ধরনের অনুমোদন নেই অভ্যন্তরীন জলপথে চলার৷''

দুর্ঘটনা ঘটে, হিসেব রাখে কে

বাংলাদেশে এই ধরনের অননুমোদিত জলযান কতগুলো বা বছরে কতগুলো দুর্ঘটনায় পড়ে তার কোনো  হিসেব নেই৷ জলযানের হিসেব থাকলেও ট্রলার বা বাল্ক হেডের মতো জলযানের দুর্ঘটনার কোনো পরিসংখ্যান আলাদা করে নেই সরকারি দপ্তরে৷

তবে গত ১৪ বছর ধরে নৌ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন নোঙর-এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫৩৫টি বড় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ এতে ৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে৷ এসব দুর্ঘটনা তদন্তে  ৮শ'৬৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ নোঙর-এর সভাপতি সুমন শামস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই যে তদন্ত কমিটি হয়, তারা কোনোটিরই ফলাফল আমরা প্রকাশ হতে দেখি না৷ আর তেমন কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হয় না৷''

‘নৌ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বলতে আসলে কিছু নেই'

সুমন শামস বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি, যাঁরা এই নৌযান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা কোনো-না-কোনো পর্যায়ে প্রভাবশালী৷ কেউ সরকারে থাকেন, কেউ মন্ত্রী-এমপি, আবার কেউ স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী৷ ফলে তদন্ত কমিটি হলেও তার ফল আলোর মুখ দেখে না আর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে দেখা যায় না৷''

অডিও শুনুন 06:58

‘তদন্ত কমিটির কোনো ফলাফল আমরা প্রকাশ হতে দেখি না’

তিনি আরো বলেন, ‘‘নৌপথে কখন কোন ধরনের নৌযান চলবে, তার একটা নিয়ম আছে৷ কিন্তু সেটা কেউ মানে না৷ আর এটা দেখার যাদের দায়িত্ব, তারাও দেখেন না৷ মুন্সিগঞ্জে যে মাটিবাহী ট্রলার ডুবলো, ওই ট্রলার রাতে চলার কথা নয়, বাল্কহেড রাতে চলাটল নিষিদ্ধ৷ আমাদের নৌ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বলতে আসলে কিছু নেই৷ আর নির্মাণ-ত্রুটি, নকশা-ত্রুটি তো আছেই৷ এগুলো দেখার জন্য নৌ-পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন, নৌ- পরিবহন অধিদপ্তর আছে৷ কিন্তু তাদের কাজের সমন্বয় নেই৷''

নৌযানের ‘প্রকৃত' সংখ্যা কত?

নৌযানের নকশা অনুমোদন বা ফিটনেস দেখার দায়িত্ব নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের৷ তারা অভ্যন্তরীন ও সমুদ্রগামী দুটোই দেখেন৷ তাদের ওয়েব সাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট নৌযানের সংখ্যা ৯,৭২৫টি৷ কিন্তু অধিদপ্তর জানায়, এর প্রকৃত সংখ্যা এখন ১৪ হাজারের মতো হবে৷ এই নৌযানগুলো নিবন্ধিত এবং নকশা অনুমোদনের পর তৈরি করা৷ কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদীতে চলাচল করে সাত লাখের মতো নৌযান৷ অনুমোদনের বাইরে এত নৌযান চলাচল করে কিভাবে?

নৌ-রিবহণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনেই আছে, ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত নৌযানের কোনো অনুমোদন লাগবে না৷ তাদের নকশাও অনুমোদন করাতে হবে না৷ তাদের আইন থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে৷ তাই আমাদের এখানে ১৪ হাজারের মতো নৌযান নিবন্ধিত হলেও বিশ্বব্যাংকের হিসেবে নৌযান আছে সাত লাখেরও বেশি৷ মুন্সিগঞ্জে যে নৌযানটি ডুবেছে, সেটা বালু উত্তোলন ও বহনকারী বাল্ক হেড৷ এই ধরনের নৌযানের কিন্তু অনুমোদন নিতে হয় না৷ তবে রাতে তাদের চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আছে৷ আমরা প্রায়ই এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সতর্কীকরণ বিজ্ঞাপনও দেই৷ কিন্তু তারা মানে না৷'’

অডিও শুনুন 03:19

‘রাতে কুয়াশার মধ্যে নদীতে চলাচল করার কারণেই এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা’

রাতের আঁধারে দুর্ঘটনার কবলে অবৈধ ট্রলার

কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে কুয়াশার মধ্য দিয়ে নদীতে চলাচল করার কারণেই এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা৷ আর ৩৪ জন মানুষ পরিবহণের ক্যাপাসিটিও ওই নৌযানের নেই৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা একটা উদ্যোগ নিয়েছি, যাদের অনুমোদন লাগে না সে ধরনের নৌযানের একটা তালিকা করার৷ তাদের একটা শুমারির আওতায় আনতে চাই৷ তারপর আইনের আওতায় কিভাবে আনা যায় তা নিয়ে কাজ করব৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন