মুন্ডার মূর্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 21.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

মুন্ডার মূর্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী সমাজের বরেণ্য নেতা বিরসা মুন্ডা৷ পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে একটি মূর্তিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহের মাল্যদান ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক৷

বিরসা মুন্ডা ছিলেন ভারতের রাঁচি অঞ্চলের একজন মুন্ডা আদিবাসী৷ ১৮৯৯-১৯০০ সালে তাঁর নেতৃত্বে আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল৷

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলা সফরে এসেছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ বাঁকুড়া সফরে যাওয়ার পথে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া সড়কের ধারে একটি মূর্তিতে মাল্যদান করে বিরসা মুন্ডার প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান৷

এই খবর প্রচারিত হতেই বিতর্কের সূত্রপাত৷ তৃণমূলের বক্তব্য, মূর্তিটি আদিবাসী নেতা বিরসা মুন্ডার নয়৷ এটি আদিবাসী এক শিকারীর মূর্তি৷ এই মূর্তির নীচে একটি ছবি রেখে মালা দেন শাহ৷ এতে তিনি আদিবাসীদের নেতাকে অপমানিত করেছেন৷

এই মাল্যদান পর্ব ঘিরে ব্যাপক তরজা চলছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে৷ তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা তোপ দেগেছেন শাহের বিরুদ্ধে৷ তিনি বলেছেন, ‘‘যে মূর্তি বিরসা মুন্ডার নয়, তাতে মালা দিয়ে আদিবাসী নেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি গোটা সমাজকে খাটো করেছেন৷ এজন্য ক্ষমা চাইতে হবে শাহকে৷'' মন্ত্রীর উদ্যোগে এখন চলছে ৫০ হাজার পোস্টকার্ড লেখার কাজ৷ আদিবাসী সমাজের মানুষ শাহের ঠিকানায় এই পোস্টকার্ড পাঠাচ্ছে৷ তাতে মাল্যদান পর্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিজেপি নেতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তোলা হয়েছে৷ তৃণমূল নেতা, বিধায়ক শান্তিরাম মাহাতো ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিরসা মুন্ডা সাঁওতালদের কাছে ভগবানের মতো৷ তাঁকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি চলছে৷ এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক৷’’

অডিও শুনুন 02:43

‘এটা তৈরি করা বিতর্ক’

তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহান আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতাকে৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা নেই বিজেপি নেতার৷’’

রাজ্যের শাসক দল বরাবরই বিজেপিকে ‘অবাঙালিদের দল' বলে কটাক্ষ করে৷ নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বকে ‘বহিরাগত' বলে আক্রমণ করে৷ সেই প্রচারকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের তুঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল৷

বিজেপি এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে ঠিকই, তবে তারাও পরিস্থিতি সামাল দিতে পালটা তীর ছুঁড়ছে৷ তাদের বক্তব্য, ‘‘বিরসা মুন্ডার মূর্তিতেই মালা দিয়েছেন শাহ৷ তৃণমূল অকারণে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে৷ লোকসভা ভোটে হারানো জমি ফিরে পেতে এই কৌশল নিয়েছে রাজ্যের শাসক দল৷''

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একধাপ এগিয়ে বলেছেন, বিরসা মুন্ডার কোনও ছবি পাওয়া যায় না৷ অমিত শাহ যখন বিরসা মুন্ডা মনে করে ওই মূর্তিতে মালা দিয়েছেন তখন ওটাই তাঁর মূর্তি৷

বিজেপি পুরুলিয়ায় লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফল করেছিল৷ এই ঘটনায় আদিবাসী সমাজ বিরূপ হয়ে উঠলে তার প্রভাব কি বিধানসভা নির্বাচনে পড়বে? রাজনীতির বিশ্লেষক, অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘‘এটা তৈরি করা বিতর্ক৷ দুর্নীতি থেকে গণতন্ত্রের হত্যার মতো অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে৷ আদিবাসী সমাজের মধ্যে সঙ্ঘ পরিবার যে প্রভাব তৈরি করেছে, তা এ ধরনের ছোটখাটো বিতর্কে ধসে পড়বে না৷''

এই তরজার সঙ্গে মূল প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলছে— সত্যিই কি ওই মূর্তি বিরসা মুন্ডার৷ অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, ‘‘আদিবাসী নেতার জীবদ্দশায় ছবি তোলার চল ছিল না৷ অতীতের মূর্তি দেখে এখন তা কল্পনা করা হয়৷ কোনও একটি মূর্তি তাঁর মতোই হয়েছে কি না, এই প্রশ্ন তোলা নিরর্থক৷''

যদিও এই যুক্তির সঙ্গে একমত নন পুরুলিয়ার কংগ্রেস নেতা, বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা ছোটবেলা থেকে পাঠ্যপুস্তকে বিরসা মুন্ডার ছবি দেখে আসছি৷ সেটাকেই তাঁর প্রতিকৃতি বলে ধরতে হবে৷ এটা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর মোটেই কাম্য নয়৷''

পুরুলিয়ায় কংগ্রেস এখনও তাদের শক্তি অনেকটা ধরে রাখতে পেরেছে৷ বামেরাও একেবারে দুর্বল নয়৷ এই দু'পক্ষের জোট হলে তারা তৃণমূল ও বিজেপিকে এই জেলায় টেক্কা দিতে পারবে কিনা, সেটা ভোটের ফলে বোঝা যাবে৷ তবে নেতৃত্বের আশা, চলতি বিতর্কে বীতশ্রদ্ধ আদিবাসী সমাজ বিধানসভা নির্বাচনে এর জবাব দেবেন জোড়াফুল ও পদ্ম শিবিরকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন